কাপ্তাই ( Kaptai ) হচ্ছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার একটি উপজেলা । প্রকৃতির স্বর্গীয় সৌন্দর্যের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত। কাপ্তাই উপজেলার অনন্য পর্বত, হ্রদের জল এবং পাহাড়ী সবুজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। প্রায় ১১০০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি বৃস্তিত কৃত্রিম হ্রদটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হ্রদ।
কাপ্তাই হ্রদ মূলত কর্ণফুলী হ্রদের আঞ্চলিক নাম। উঁচু-নিচু পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ি ঝর্ণাধারা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা, অথৈ পানি আর সবুজের সমারোহ, গাঢ়-সবুজ বন, গাছ-গাছালি ফুল-ফল আর উপজাতিদের জীবনধারা কাপ্তাই লেকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাপ্তাই তৈরি হলেও মৎস্য উৎপাদন, স্থানীয়দের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে দেশের সামগ্রিক মৎস্যক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ইতিহাস
পাকিস্থান
সরকার জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র
নির্মানের জন্য
১৯৫৬ সালে কর্ণফুলি নদীর উপর কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ করেন, এর ফলে রাঙামাটি
জেলার প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষযোগ্য
জমি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং এই অপরুপ সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি
হয়। এর আয়তন প্রায়
২৯২ বর্গমাইল। শুরুতে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন
ক্ষমতা ধরা
হয়েছিলো ১.২০ মেগাওয়াট
তবে বর্তমানে এর পাচটি ইউনিট
চালু আছে যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
কাপ্তাই কিভাবে যাবেন
ঢাকার
সায়েদাবাদ থেকে কিংবা
কমলাপুর থেকে সরাসরি কাপ্তাই এর নন এসি
বাস পাওয়া যায়, এতে কাপ্তাই পৌছাতে ৮/৯ ঘন্টা
সময় লাগে। এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে কিংবা ট্রেনে চট্টগ্রাম আসার পর বহদ্দার হাট
বাস টার্মিনাল থেকেও বাসে কাপ্তাই যাওয়া যায়, এতে
২ ঘন্টা মত সময় লাগে।
আবার চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা আসলে সেখান থেকে অহরহ কাপ্তাই যাওয়ার জন্য সি,এন,জি পাওয়া
যায়। তবে যেহেতু দুরের পথ সেহেতু সি,এন,জি করে
এত দূরে জার্নি করাটা আমি সাজেস্ট করিনা।
কাপ্তাই কি কি দেখবেন
শেখ
রাসেল ইকোপার্ক
এই পার্কে বিভিন্ন ধরনের পাখি যেমন বাবুই, দোয়েল, শ্যামা, শালিক, ঈগল, শকুন, বুলবুলি, পেঁচা, হলদে পাখি, টুনটুনি, টিয়া, ঘুঘু, মাছরাঙা, সাদা বকের মতো বিলুপ্তপ্রায় ১০০ প্রজাতির বেশী পাখি সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশি প্রজাতির পাখির পাশাপাশি এই পক্ষিশালায় যুক্ত
হয়েছে আফ্রিকার পলিক্যান, সোয়ান, রিং ন্যাক, ইলেকট্রাস প্যারট, ম্যাকাওসহ বিভিন্ন বিদেশি পাখি। পার্কের
উপরে যেমন দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ, নিচে দৃষ্টিনন্দন লেক আর সবুজ অরণ্য।
ঠিক এই দুয়ের মাঝখানে
ভূমি থেকে প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতায় ক্যাবল কারে বসে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া
যায়। বাতাসের ওপর ভেসে এক পাহাড় থেকে
অন্য পাহাড়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে এই পার্কে। এই
পার্কে ভেষজ ও অন্যান্য নানা
প্রজাতির গাছ ও ৩০ হাজার
সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপণ করা হয়েছে। পার্কের চারপাশে এক ধরনের বিশেষ
নেট দিয়ে পুরো ৫২০ একর পাহাড়ি ভূমি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও পর্যটকদের
আকৃষ্ট করতে রয়েছে রেস্টহাউস, ঝুলন্ত সেতু, আধুনিক রেস্তোরাঁ, লেক, হেলানো বেঞ্চ, ওয়াচ টাওয়ার এবং শিশুদের সময় কাটানোর বিনোদনের ব্যবস্থা।
কর্ণফুলী
পেপার মিলস
ছবি - কর্ণফুলী পেপার মিল
কর্ণফুলী
পেপার মিল হলো চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাগজের মন্ড ও কাগজ উৎপাদনকারী
শিল্প প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কাগজ উৎপাদনকারী কোম্পানি। ১৯৫৩ সালে তদানীন্তন পাকিস্থান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক রাঙামাটি জেলা কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী পেপার মিলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কর্ণফুলি পেপার মিলটি শিল্প আইনের অধীনে নিবন্ধিত প্রথম কাগজশিল্প যা ত্রিশ হাজার
শ্রমিক নিয়ে এশিয়ার সর্ববৃহৎ কাগজ-কল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
হয়। মিলটি আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি, সুইডেন এবং ইতালির সহযোগিতায় ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ
সহায়তায় স্থাপিত হয়।
প্রশান্তি
পার্ক
পরিবেশ
ও বন মন্ত্রণালয়াধীন কাপ্তাই ন্যাশানাল
পার্কের একটি স্পট হল প্রশান্তি পার্ক।
অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে কর্ণফুলী নদীর কূল ঘেষে এ পার্কটি অবস্থিত।
এ পার্কে ৫০০ জন বা ততোধিক
ব্যাক্তির জন্য পিকনিকের ব্যবস্থা রয়েছে। এ পার্কের বিশুদ্ধ
পানিয় খাবারসহ যাবতীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। কাপ্তাই
ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত এই বিনোদন কেন্দ্র
ইতোমধ্যে অন্যতম ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রশান্তি পিকনিক স্পটের অদূরেই রয়েছে ঐতিহাসিক সীতাপাহাড়।কিংবদন্তি অনুযায়ী এই পাহাড়েই সীতাকে
বনবাসে দেওয়া হয়েছিল। বনবাসে থেকে সীতা কর্ণফুলী নদীর যে ঘাটে এসে
গোসল করতেন সেই ঘাটটি এখন সবার কাছে "সীতার ঘাট" নামে পরিচিত। প্রশান্তি পিকনিক স্পটে বিনোদনে এসে সীতার ঘাটে পা ফেলতে কার
না মন চায়।
জুম
রেস্তোরা ও পিকনিক স্পট
পুরো
নাম প্যানোরোমা জুম রেস্তোরা, বিজিবির তত্তাবধায়নে পরিচালিত। কর্ণফুলির তীর ঘেঁষে এই রেস্টুরেন্টটিও অসাধারণ।
কাপ্তাই উপজেলার বিজিবি ওয়াগ্গাছড়া জোন এই জুম রেস্তোরা
এবং জুম পিকনিক স্পট নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ওয়াগ্গাছড়া জুম সত্যিই মনোমুগ্ধকর। একদিকে পাহাড় অন্যদিকে কর্ণফুলী নদী, নদীর ওপাড়ে ওয়াগ্গাছড়া টি এস্টেট যা
এই জুমকে খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে। এখানে নিরাপদে থাকা, খাওয়া, আনন্দ ভ্রমণ, পিকনিক পার্টি, বিবাহের আসরসহ যাবতীয় আনন্দ আয়োজন করা যায়। ভেতরেই বিজিবি কায়াক ক্লাব। জুম
রেস্তোরার পাশেই কাপ্তাই কায়াক ক্লাব। এই ক্লাবটিই বাংলাদেশে
প্রথম কায়াকিং চালু করে। এখান থেকেও কায়াকিং করতে পারেন।
জুম
রেস্তোরার অপর প্রান্তের চা বাগান
জুম
রেস্তোরার অপর প্রান্তে রয়েছে বিশাল চা বাগান। লেকের
কোল ঘেষে চা বাগান দেখতে
খুব আকর্ষনীয় লাগে। জুম রেস্তোরা থেকে নৌকাতে করে চা বাগানে যাওয়া
যায়।
লেক
প্যারাডাইস পিকনিক স্পট
বাংলাদেশ
নৌ বাহিনীর বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটিতে অবস্থিত লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট কাপ্তাইয়ের অন্যতম আকর্ষনীয় বিনোদন কেন্দ্র। অসংখ্য গাছ গাছালী, ছোট বড় পাহাড়ের সমাহার
এবং পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে স্বচ্ছ জলে ভরা কাপ্তাই লেক। লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পটের যে দিকে দৃষ্টি
যায় আনন্দে ভরে উঠে মন। এখানে আসলে মন ফুরফুরে হয়ে
উঠে। প্রায়
৩০ বছর ধরে নৌ বাহিনী এই
লেক প্যারাডাইস পিকনিক স্পট পরিচালনা করে আসছে। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে এই বিনোদন কেন্দ্র
বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
লেক
প্যারাডাইস পিকনিক স্পটে বিনোদনের জন্য আলাদা আলাদা প্রায় ২০টি জায়গা রয়েছে, এর যে কোন
একটি ভাড়া নিয়ে এখানে দিনভর পিকনিক করা যায়। এই লেক প্যারাডাইস
পিকনিক স্পটে রয়েছে ভাড়ায় চালিত বোট, প্যাডেল বোট ও স্পীড বোট।
এর যে কোন একটিতে
চড়ে কাপ্তাই লেকের স্বচ্ছ জলে নৌ বিহার করার
সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও কাপ্তাই লেকে কায়াকিং করার সুবিধাও এখানে রয়েছে। খোলা মাঠে পিকনিক করা এবং স্টেজ প্রোগ্রাম করার যাবতীয় সুযোগও আছে এখানে।
বেরাইন্নে
লেকশোর ক্যাফে
প্রায়
সকলের এ লেকে আসার
মূল কারণ থাকে কায়াকিং করা। যে বেরাইন্যাতে এসে
কায়াকিং করবে না তার বেরাইন্যা
ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যাবে। তাই বেরাইন্যা এসে লেকের স্বচ্ছ পানিতে আপন মনে ভেসে বেড়ানোর সুযোগ মিস করবেন না।কায়াকিংয়ে
আপনার প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠবে উপভোগ্য। একবার ভেবে দেখুন আপনি পানিতে ভাসছেন আর আপনার মোবাইল
ফোনে বাজছে প্রিয় গানটি, আর এমন সময়
দুর থেকে যাওয়া কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকার ঢেউ বা তীব্র বাতাসের
কারণে দুলছে আপনার ছোট্ট নৌকাটি। এমন পরিবেশ ও অবস্থা শুধু
অনুভব করা যায়।কায়াকিং
করতে নামার আগে আকাশের অবস্থাটুকু একবার দেখে নেওয়া জরুরী। যখন তখন নেমে পড়লে তা আপনার জন্য
বরং বিরক্তি ও কষ্টসাধ্য হয়ে
পড়বে। যেহেতু শক্তিরও ব্যাপার আছে তাই দুজনের নৌকার চেয়ে তিনজনের নৌকা বেশ উপভোগ্য। যেদিকে ইচ্ছে, যেমন করে ঘুরতে মন চায় তেমনভাবেই
ঘোরা যায় তিনজনের নৌকায়।
লেকশোর
রিসোর্ট
রাঙ্গামাটি
জেলার কাপ্তাই উপজেলার কাটাখাল আর্মি ক্যাম্পে এই লেকশোর রিসোর্টের
অবস্থান। রিসোর্টটি বানৌজা শহীদ নৌ ঘাঁটি দ্বারা
পরিচালিত। তাই রক্ষণাবেক্ষণ করে নৌবাহিনী।স্থানীয়দের কাছে রিসোর্টটি জীবতলী সেনানিবাস নামেই বেশি পরিচিত। এখানে রয়েছে হেলিপ্যাড, সুইমিং পুল, লেকের পাশে বিশাল মাঠ যেখান থেকে কাপ্তাই লেকের অসাধারণ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। হেলিপ্যাড থেকে দেখা যায়, কাপ্তাই লেকের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ। লেকের পাশে মনোরম পরিবেশে থাকার জন্য হোটেলও আছে। হোটেলে না থাকলেও দর্শনার্থীরা
ইচ্ছা করলে সুইমিং পুলে সুইমিং করতে পারেন। এই রিসোর্ট থেকে
বোট নিয়ে কাপ্তাই লেক ধরে রাঙ্গামাটি থেকেও ঘুরে আসা যায়।
লেক
ভিউ আইল্যান্ড
বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাপ্তাই লেকের পাড়ের ছোট ছোট টিলা ঘেরা একটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পেই গড়ে তোলা হয়েছে লেক ভিউ আইল্যান্ড। পাশাপাশি দুটি টিলার চার একরের অধিক এলাকা নিয়ে তৈরি করা জয়েছে এই পর্যটন এলাকাটি।
নৌকা নিয়ে হ্রদে ঘুরতে বের হলে চোখে পড়বে পাহাড়ি টিলার ঘায়ে বড় আকারে ইংরেজি
অক্ষরে লেখা LAKE VIEW ISLAND
লেক
ভিউ আইল্যান্ড ছাড়াও কাপ্তাই হ্রদের ঐতিহাসিক বাঁধের সাথে লাগোয়া টিলায় রয়েছে ‘হিলটপ রিসোর্ট’ নামে একটি কটেজ। সেখানেও থাকা যাবে। হিলটপের জানালা দিয়ে দেখা যাবে কাপ্তাই বাঁধের স্লুইস গেট, কাপ্তাই বাঁধ আর হ্রদের জলরাশি।
ইচ্ছে করলে রিসোর্টের পাশে সুইমিংপুলে ডুব দেওয়া যাবে।
কর্নফুলী
নদী
লিচুবাগান
থেকে কাপ্তাই যাওয়ার পথে কিংবা কাপ্তাই থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে কর্নফুলী নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আকাবাকা পাহাড়ী রাস্তার দুই পাশে সবুজ পাহাড় আর মাঝখানে কর্নফুলী
নদীর বয়ে চলা, এ সৌন্দর্য যেন
স্বয়ং উপরওয়ালা নিজ হাতে বানিয়েছেন। যতদুর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ আর
তার মাঝখানে এই নদী বয়ে
চলা, প্রকৃতির এমন রুপ দেখে সত্যি মুগ্ধ না হয়ে উপায়
নেই ।
বাংলাদেশ
সুইডেন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট
বাংলাদেশ
সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট পার্বত্য চট্টগ্রামের রাংগামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একটি পুরাতন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মধ্যে অন্যতম। ১৯৬০ সালে এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তৎকালীন পাকিস্থান সরকার ও সুইডিশ সরকারের
যৌথ উদযোগে সুইডিশ-পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি নামে
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭০ সালে সুইডিশ সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, পরবর্তীকালে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এটি বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নামকরণ করা হয়। স্বতন্ত্র শৈলীর রাজনীতিমুক্ত ইনস্টিটিউট হিসেবে সারা দেশে এর সুনাম রয়েছে।
১৯৫৮
সালে, পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত সুইডিশ-পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে তৎকালীন
পূর্ব পাকিস্থান (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রায় ৩০ জন ছাত্র
অধ্যায়ন করতো। তাদেরকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে করাচি গিয়ে নিয়মিত পড়ালেখা করতে হতো, যা ছিল একটি
বাঙ্গালি পরিবারে জন্য খুবই ব্যয়বহুল। এতে বাঙ্গালি ছাত্ররা প্রায় অসহায় হয়ে পড়েছিল। তখন তারা করাচির সুইডিশ-পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির প্রধান
উপদেষ্টা "মিস্টার মাক্স ও. লেদেন" এর
সাথে দেখা করেন এবং পূর্ব পাকিস্তানে এ রকম একটি
জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি ব্যাপারটি আগ্রহ সাথে দেখেন। তিনি তখন তাদেরকে সরকারের কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করার পরামর্শ দেন। ছাত্ররা একত্রিত হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্পমন্ত্রী "জনাব এ.কে. খান"
এর সাথে দেখা করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন মন্ত্রীপরিষদের প্রভাবশালী বাঙ্গালি মন্ত্রী। তার বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে (বর্তমান এ, কে, খান
গ্রুপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা)। তিনি তখন
করাচিতে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। তিনি সরকারের কাছে আবেদন করলেন এবং চট্টগ্রামের কাপ্তাইতে এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা
কারার প্রস্তাব করলেন। পরবর্তী কালে, কেন্দ্রীয় সরকারের আহবানে সুইডেন থেকে আগত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধির একটি দল কাপ্তাই সফর
করেন এবং প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে তাদের সম্মতি জানান। এর কিছুদিন পরই,
১৯৬০ সালে, “SENTAB” নামের একটি সুইডিশ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান তাদের নির্মাণ কাজ শুরু করে এবং ১৯৬৫ সালে এর নির্মাণ কাজ
সমাপ্ত করে।
কাপ্তাই
জেটিঘাট
এখান
থেকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দেখা যায়। এখান থেকে নৌকা বা বোট ভাড়া
করে কাপ্তাই বাধের কাছাকাছি যাওয়া যায়। এখানে প্রতি শনিবার এখানে বাজার বসে। স্থানীয়দের কাছে যা “শনিবাইরা চাকমা বাজার” নামে পরিচিত। সপ্তাহে এই একটা দিন
এখানে হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। আর দূর দূরান্ত
থেকে সমাগম ঘটে ক্রেতার।
কাপ্তাই
বাধ বা স্পিলওয়ে ( বাংলাদেশের
একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র )
কাপ্তাই
পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পানি শক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।
১৯৫৬ সালে এ বাধের নির্মাণ
কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬০ সালে শেষ হয়। ইন্টারন্যাশানাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী এবং ইউতাহ ইন্টারন্যাশানাল ইনকর্পোরেট ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ
এবং ৪৫.৭ মিটার
উচু এই বাধটি তৈরী
করে। বাধের সুরক্ষা এবং উজানের অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৬টি জল কপাট যুক্ত
৭৪৫ ফুট দৈঘ্য একটি জল নির্গমন পথ
বা স্পিলওয়ে রাখা হয়। এই স্পিলেওয়ের প্রতি
সেকেন্ডে পানি নির্গমনের ক্ষমতা ৫,২৫,০০০
কিউসেক ফুট।
এটা যেহেতু সর্ব
সাধারনের জন্য উন্মক্ত নয় সেহেতু এই কাপ্তাই বাধা দেখার জন্য কাপ্তাই বিপিডিবি রিসিপসন
গেইট হতে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি সাপেক্ষে এই স্পিলওয়ে দেখা যেতে পারে।
এছাড়া
কাপ্তাই থেকে রাংগামাটি রোড এর আসামবস্তি ব্রীজ
পর্যন্ত যেতে যেতে দুই পাশে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
উপভোগ করা যায় তা বলে শেষ
করা যাবে না। এই রাস্তা ধরে
যতদুর যাবেন ততই মুগ্ধ হবেন। রাস্তাটি সম্পুর্ন পাহাড়ের উপরে হওয়ায় রাস্তার দুই পাশের পাহাড় এবং কাপ্তাই হ্রদ স্পষ্ট দেখা যায়। রাস্তাটি আকাবাকা এবং উচুনিচু। রাস্তা ধরে কিছুদুর যাওয়ার পর পর পাহাড়ী
জনগোস্টি চোখে পড়ে আরে মাঝে মাঝে রাস্তার দু পাশে তারা
বিভিন্ন পাহাড়ী ফল বিক্রির পসরা
সাজিয়ে বসে থাকে।
ইচ্ছে করলে সেখান থেকে কিছু খেয়ে নিতে পারেন। এগুলো সম্পুর্ন অর্গানিক এবং ভেজাল মুক্ত।
কি খাবেন!!
কাপ্তাই
এসে কাপ্তাই লেক এর সুস্বাদু মাছ
দিয়ে ভাত খাবেন না তা কি
হয় ? কাপ্তাই নতুন বাজারের বেশ কিছু হোটেলে কাপ্তাই লেকের মাছ পাও্য়া যায়
সেখানে খেতে পারেন। কাপ্তাই এর কাছে আছে
বেরাইন্নে লেক এর ক্যাফে, জুম
রেস্তোরা, প্যারাডাইস ক্যাফে ইত্যাদি। নিজের পছন্দের খাবার খেতে ঘুরে আসতে পারেন নৌবাহিনীর ঘাটি সংলগ্ন ভাসমান রেস্টুরেন্ট থেকে। প্রায় প্রতিটা পিকনিক স্পটে খাবার দাবার এর সু ব্যাবস্থা
রয়েছে।
একদিনের ট্যুরে আসলে সবচেয়ে বেস্ট হয় কাপ্তাই উপজিলা অফিস
এর পাশে একটা ছোট টিনের দোকানের হোটেল আছে যার নাম কাপ্তাই মাস্টার হোটেল এবং
যেখানে ঘরে রান্না করা কাপ্তাই হ্রদ বিভিন্ন মাছ পাওয়া যায়। ঐ হোটেলে আমার মতো যারা মাঝে মাঝে কাপ্তাই ভ্রমন করে
তারা খাবার টা সেরে ফেলে। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে এই দোকান দেখিয়ে দেবে।
কাপ্তাই কোথায় থাকবেন!!
কাপ্তাইয়ে
রাত্রি যাপনের জন্য এখনো তেমন ভালো মানের বানিজ্যিক হোটেল বা মোটেল
গড়ে উঠেনি, তাই রাত কাটানোর ইচ্ছা থাকলে আগে থেকেই কাপ্তাই এর সরকারি রেস্ট
হাউস কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে আসা উত্তম। এছাড়াও সংশ্লিস্ট সরকারি অফিসের অনুমতি সাপেক্ষে সেনাবাহিনী, পিডিবি, পানি উন্নয়ন
বোর্ড এবং বন বিভাগের রেস্ট
হাউজগুলোতে কম খরচে রাত্রি
যাপন করতে পারবেন।
কাপ্তাইতে
লেক প্যারাডাইস এর মত আরো
অন্যান্য পিকনিক স্পটের বেশীরভাগে রাত্রি
যাপন করার সু ব্যাবস্থা আছে
তবে সেজন্য আপনাকে বাড়তি
অর্থ খরচ করতে হতে পারে। অর্থের পরিমান
টা নির্ভর করবে কটেজ এর উপরে।
সতর্কতা: কাপ্তাই থেকে লেকশোর রিসোর্ট এবং আসামবস্তি যাওয়ার পথে কিংবা ফেরার পথে মাঝে মাঝে বন্য হাতীর আগমন ঘটে তাই ঐ দুই জায়গায়
যাওয়ার সময় একটু সতর্কতার সাথে যেতে হবে।আসামবস্তি বা লেকশোর রিসোর্ট যেখানেই যান না
কেন অবশ্যই সন্ধ্যার আগে চলে আসবেন। বন্য প্রানী বেশীরভাগ সন্ধ্যার সময় রাস্তা অতিক্রম করে।
আপনাদের
ভ্রমন নিরাপদ এবং আনন্দময় হোক।
আরো নতুন লিখা আশা করছি
উত্তরমুছুন