ভ্রমণের জন্য কিভাবে টাকা সঞ্চয় করবেন
ভ্রমণের জন্য টাকা সঞ্চয় করার উপায়
ঘুরতে যেতে আমরা সবাই ভালোবাসি। কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু প্রশান্তির খোঁজে আমরা কখনো ছুটে চলি সমুদ্রের পাড়ে, আবার কখনো পাহাড়ের বুকে। প্রকৃতির সাথে মিশে ভুলে যেতে চাই সকল ক্লান্তি। কিন্তু কোথায় যাওয়ার আগে প্রথম বাধা হয়ে দাঁড়ায় অপর্যাপ্ত অর্থ। অর্থের অভাবেই যাওয়া হয়ে ওঠে না মনের মত জায়গায়। জমাট বেঁধে থাকে ক্লান্তি। যারা ঘুরতে ভালবাসেন, কিন্তু টাকা জমাতে পারছেন না, তাদের জন্য পকেট মানি সঞ্চয় করার কিছু নিনজা টেকনিক নিয়েই এই আর্টিকেলটি লেখা।
১. মনস্থির করা
টাকা সঞ্চয়ের প্রধান পদক্ষেপ হচ্ছে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা। প্রতিদিনের খরচ থেকে অল্প পরিমাণে টাকা সঞ্চয় করতে পারেন। তাই এসব ত্যাগ স্বীকার করার জন্য নিজেকে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে।
২. মাসিক খরচের তালিকা তৈরি করা
মাসের শুরুতে কোন খাতে কত খরচ হচ্ছে তার তালিকা তৈরি করে রাখতে হবে। তাহলে মাসে কত টাকা খরচ হচ্ছে এর হিসেব থাকবে। খরচের হিসাব জানা থাকলে সঞ্চয়ে সুবিধা হয়।
৩. মাটির ব্যাংক ব্যবহার
একটি মাটির ব্যাংক কিনুন। ছোট-খাটো যেই জিনিস গুলো আপনার প্রয়োজন কম কিংবা না কিনলেও চলে প্রতিদিনের এমন খরচের টাকা আপনি সেই মাটির ব্যাংকে ফেলতে পারেন। ধরুন আপনি প্রতিদিন ২০ টাকার রিকশা ভাড়া, ১০ টাকার চা, ২০ টাকার চিপস খাওয়ার পরিবর্তে যদি প্রতিদিন সেই টাকাটা ব্যাংকে ফেলেন তবে ৫০ টাকা করেই হলে বছর শেষে আপনার ব্যাংকে অনেক টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে।
৪. কফিশপ বা রেস্টুরেন্টে আড্ডা পরিহার
বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য অনেকেই চলে যাই কোন কফিশপে বা রেস্টুরেন্টে। ইদানীং আমাদের আয়ের বা পকেট মানির একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে সেখানে। বর্তমানে বড় কফিশপগুলোতে এক কাপ কফি খেলেই ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। আপনি চাইলে কফি না খেয়ে সে টাকাটি সঞ্চয় করতে পারেন। তবে এটি আপনার চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।
টাকা ব্যয় করার আগে চিন্তা করুন, আপনি কফি খেতে চান, নাকি সেই টাকা দিয়ে কোনো নতুন জায়গায় ঘুরতে যেতে চান। যদি আপনার ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রবল হয়ে থাকে তবে টাকাটি সঞ্চয় করুন। বাইরের খাবারের পরিবর্তে ঘরে তৈরি খাবার খেতে পারেন। যদি অনেক খেতেই ইচ্ছা করে বাইরে তবে মাসে একদিন খান।
৫. দামি, শৌখিন জিনিস পরিহার
দামি মোবাইল, দামি জামার পেছনে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় না করে, তুলনামূলক মানসম্মত স্বল্প মূল্যের জিনিস ব্যবহার করুন।
৬. সাইকেল ব্যবহার
প্রতিদিন গাড়ি ভাড়ায় আমাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। সেক্ষেত্রে প্রতিদিনের যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহার করলে, অর্থ ও সময় সঞ্চয়ের পাশাপাশি দেহও সুস্থ থাকবে।
৭. হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিদিনের চলাচলে হাটার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে করে আপনার অনেক রিক্সা ভাড়া সঞ্চয় হবে। তবে আপনার শারীরিক অসুস্থতা থাকলে সেটা ভিন্ন কথা।
৮. ইম্পালস বাই পরিহার
ধরেন আপনার কোনো কিছু দেখে ভাল লাগল অথচ ঐ জিনিসের প্রয়োজনীয়তা, দাম বিচার না করেই কিনে ফেলাকে বলে ইম্পালস বাই। এরকম দেখে কিউট লাগছে কিন্তু আপনার কোন কাজের না এমন জিনিস কেনার আগে কয়েকবার ভাবুন। অর্থনীতির ভাষায়, আপনার প্রতিটি ক্রয়ের সুযোগ ব্যয় করে দেখুন। সুযোগ ব্যয় হচ্ছে, একটি জিনিস পাওয়ার জন্য আপনাকে অন্য যে জিনিসটি ছেঁড়ে দিতে হয়, সেই ছেড়ে দেয়ার পরিমাণটি। তাই যেকোনো কাজে অর্থ ব্যয়ের আগে যাচাই করুন। দেখবেন আপনার খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।
৯. অপচয় রোধ
অনেক সময় শখের বশে আমরা একই জিনিস বার বার কিনে থাকি। যেমন, ধরেন আপনার পারফিউম সংগ্রহ করতে খুব ভাল লাগে। আপনার কাছে বর্তমানে একটি পারফিউম আছে, তবুও আপনি শখের বশে আরেকটি কিনে ফেললেন। এই ধরণের শখকে একটু বিবেচনা করতে হবে।
১০. স্বল্পমূল্যে কেনাকাটা করা
কোনো জিনিস স্বল্পমূল্যে কোথায় পাওয়া যায় খুঁজে বের করে সেখান থেকে কিনতে পারেন। এতে ২০ টাকা কমে কিনতে পারলেও আপনি জয়ী। কথা আছে, বিন্দু বিন্দু জলকনা মিলে সাগর-মহাসাগর তৈরি হয়। হয়তো ঘুরার জন্য টাকা জমানোর সময় প্রথমে মনে হবে অল্প টাকা। কিন্তু বছর ঘুরতেই দেখা যাবে জমানো অল্প অল্প টাকাই একটা সময় বড় অংকে পরিণত হয়েছে এবং তা দিয়ে অনায়াসে ঘুরতে যেতে পারবেন।
আপনার ভ্রমণ নিরাপদ এবং আনন্দময় হোক।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন