ছেড়াদ্বীপ ভ্রমণ ( Cheradwip )
ছেড়াদ্বীপ হচ্ছে বাংলাদেশের একদম দক্ষিন পাশের সর্বশেষ ভূখন্ড। সমুদ্রের জলরাশি,সারি সারি নারিকেল গাছ, প্রবাল পাথর নিয়ে অপরুপ সৌন্দর্যের এক নির্জন দ্বীপ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পানির উপর একটা কিছু ভেসে আছে।
জোয়ারের সময় এই দ্বীপের বেশীরভাগ অংশ পানিতে ডুবে
থাকে।
ছেড়াদ্বীপ এর অবস্থান এবং এর আয়তন
এটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিনে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত। ছেড়াদ্বীপ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন এর আওতাধীন একটা দ্বীপ, সেন্টমার্টিন থেকে ৪/৫ কিলোমিটার দক্ষিনে এর অবস্থান। এই দ্বীপটি সেন্টমার্টিন এর একটা আলাদা অংশ। জোয়ারের সময় এই দ্বীপের বেশীরভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে যায় বলে এই ছেড়াদ্বীপ এর মুল ভূখণ্ড কিছুটা আলাদা হয়ে যায় যার কারনে এই দ্বীপের নামকরন করা হয় ছেড়া দ্বীপ বা আলাদা দ্বীপ।
ছেড়াদ্বীপের আয়তন প্রায় ৩ কিলোমিটার এর মত। এখানে আবার আলাদা কিছু দ্বীপ আছে যেগুলোকে স্থানীয়রা সেরাদিয়া বলে থাকে।
ছেড়াদ্বীপ কি করে যাবেন
ঢাকা থেকে বা চট্টগ্রাম থেকে ছেড়াদ্বীপ যেতে হলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে কক্সবাজার আর কক্সবাজার থেকে টেকনাফ, যদিও কিছু কিছু বাস ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি টেকনাফ যায়। টেকনাফ থেকে জাহাজে করে যেতে হবে সেন্টমার্টিন।
টেকনাফ থেকে প্রতিদিন কিছু জাহাজ সেন্টমার্টিনে আসা যাওয়া করে। জাহাজগুলো সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার ভেতর টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন এর উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় এবং সেন্টমার্টিন
থেকে টেকনাফ এর উদ্দেশ্য বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার ভেতর ছেড়ে আসে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে জাহাজ ঘাটে উপস্থিত থাকতে না পারলে জাহাজ মিস হয়ে যেতে পারে আর মিস হলে পরের দিনের জন্য
আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।
সেন্টমার্টিন জাহাজ ঘাট থেকে ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত বোট এবং স্পিড বোট পাওয়া যায়। যারা সাইকেল বা মোটরসাইকেলে করে ছেড়াদ্বীপ যেতে চান তারা দ্বীপের পশ্চিম পাশ থেকে যেতে পারবেন। দ্বীপে বাইসাইকেল ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৫০-১০০ টাকা এবং মোটরসাইকেল ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৩০০-৫০০ টাকাতে পাওয়া যায়।
এছাড়াও দল বেধে সময় নিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে পায়ে হেটে ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়। এতে ঘন্টাদুয়েক সময় লাগে। সকালের আবহাওয়া যেহেতু ঠান্ডা থাকে সেহেতু হেটে গেলে তেমন বিরক্ত লাগে না।
সেন্টমার্টিন জাহাজ ঘাট থেকে ছেড়াদ্বীপ যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত বোট এবং স্পিড বোট পাওয়া যায়। যারা সাইকেল বা মোটরসাইকেলে করে ছেড়াদ্বীপ যেতে চান তারা দ্বীপের পশ্চিম পাশ থেকে যেতে পারবেন। দ্বীপে বাইসাইকেল ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৫০-১০০ টাকা এবং মোটরসাইকেল ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৩০০-৫০০ টাকাতে পাওয়া যায়।
এছাড়াও দল বেধে সময় নিয়ে সেন্টমার্টিন থেকে পায়ে হেটে ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়। এতে ঘন্টাদুয়েক সময় লাগে। সকালের আবহাওয়া যেহেতু ঠান্ডা থাকে সেহেতু হেটে গেলে তেমন বিরক্ত লাগে না।
ছেড়াদ্বীপে কখন যাবেন এবং কি করবেন
যদি ঐদিন সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ চলে আসার প্লান থাকে তাহলে সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়াদ্বীপ খুব সকালে চলে যাবেন। যদি সকাল ৭/৮ টার ভেতর ছেড়াদ্বীপ থাকতে পারেন তাহলে কোরাল গুলো ভালোভাবে দেখতে পারবেন।
ছেড়াদ্বীপ কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে ঘটিত। ছেড়াদ্বীপে উত্তর পাশের সাগরের জল স্বচ্ছ এবং দেখতে নীল রঙের, এই পানিতে আপনি চাইলে গোসল করতে পারবেন তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশী দূর না যান। এই দ্বীপে কোরালের সাথে বালি আছে তাই অনায়াসে পানিতে নামতে পারেন।
ছেড়াদ্বীপে কোনো ধরনের জনবসতি ঘরে উঠেনি এটা সম্পূর্ন আলাদা একটা দ্বীপ তাই এই দ্বীপে থাকার মত কোনো ধরনের সু-ব্যাবস্থা নেই। এই দ্বীপে বিকেল ৪টার পর অবস্থান করা সম্পূর্ন নিষেধ। থাকতে হলে আপনাকে পুনরায় সেন্টমার্টিন
দ্বীপে ফিরতে হবে। সেন্টমার্টিন
দ্বীপে থাকার মত প্রচুর হোটেল, মোটেল রয়েছে। দেখে শুনে এবং দরদাম করে যে কোন একটায় উঠে যেতে পারেন।
কি খাবেন
ছেড়া দ্বীপে খাওয়ার মত কোন হোটল বা রেস্টুরেন্ট নেই। দুপুরে অবস্থান করলে খাবার সেন্টমার্টিন থেকে সাথে করে নিয়ে আসতে হবে অথবা সেন্টমার্টিন
ফিরে দুপুরের খাবার খেতে হবে। ছেড়া দ্বীপে হাতে গোনা কয়েকটা ভ্রাম্যমান দোকান আছে যেগুলোতে ডাব, তরমুজ, চিপস, পানি, আইসক্রিমছাড়া
আর তেমন কিছু পাওয়া যায় না। সেন্টমার্টিন
জাহাজ ঘাটে প্রচুর রেস্তোরা আছে যেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ যেমন কোরাল, ইলিশ, লবস্টার, রুপচাদা ইত্যাদি খেতে পারবেন। দাম একটু বেশী তাই খাওয়ার পূর্বে একটু দরদাম করে নিলে ভালো।
কিছু সাবধানতা এবং টিপস
১. দ্বীপ থেকে কোনো ধরনের প্রবাল বা কোরাল তুলবেন না।
২. দ্বীপে হাটার সময় কেডস পরে হাটার চেষ্টা করবেন কারন প্রচুর কোরাল আছে তাতে পা কেটে যেতে পারে।
৩. এখানে ডাব ছাড়া সবকিছু বাইরে থেকে আসে তাই সবকিছুর দাম একটু বেশী।
৪. ময়লা আবর্জনা অবশ্যই নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন।
৫. চেষ্টা করবেন ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন ভ্রমন করতে এতে আপনার খরচ যেমন কম হবে ঠিক দ্বীপে লোক সমাগম ও কম হবে।
৩. এখানে ডাব ছাড়া সবকিছু বাইরে থেকে আসে তাই সবকিছুর দাম একটু বেশী।
৪. ময়লা আবর্জনা অবশ্যই নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন।
৫. চেষ্টা করবেন ছুটির দিন ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন ভ্রমন করতে এতে আপনার খরচ যেমন কম হবে ঠিক দ্বীপে লোক সমাগম ও কম হবে।
৬. ট্রলারে বা বোটে ছেড়াদ্বীপ পৌছার পর ট্রলার বা বোট থেকে নামার সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
আপনার ভ্রমন নিরাপদ এবং আনন্দময় হোক।
হাতে সময় থাকলে কষ্ট করে ভিজিট করে আসতে পারেন আমার অন্য ব্লগ থেকে


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন