মুপ্পোছড়া ঝর্ণা, রাঙ্গামাটি

বর্ষা আসলে ঝর্ণাগুলো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠে। সেই সাথে বাড়তে থাকতে পর্যটকদের আনাগোনা। এডভেঞ্চার প্রিয় আর ট্র্যাকিং করতে যারা ভালোবাসেন তাদের কাছে অবশ্যই আদর্শ জায়গা পাহাড় আর পাহাড়ের গহীনে অবস্থিত এইসব বুনো জলপ্রপাত। দূর্গম পাহাড়ি পথে ট্র্যাকিং, ঝিরি পথ ফেরিয়ে জনহীন বুনো অরণ্য আর প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্য সব কিছুর দেখা পেতে চাইলে  ছুটিতে বেরিয়ে পড়ুন রাঙামাটির মুপ্পোছড়া ঝর্ণায়। 

রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটা নামক জায়গায় মুপ্পোছড়া ঝর্ণাটি অবস্থিত। একটি ঝরা স্বত্বেও এর পানির স্রোত এতোটা ব্যাপ্তি নিয়ে নিচে ছুটে আসে যে, প্রস্থের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ঝর্ণা।
এই বিলাইছড়ির উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় এর সাথে সরাসরি কোন স্থল যোগাযোগ নেই। কেবল মাত্র নৌ পথেই এখানে আসতে হবে। ছোট বড় পাহাড়, ঝর্ণা আর সবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা বিলাইছড়ি। এখানকার সবচেয়ে বড় ঝর্ণাটি হচ্ছে এই মুপ্পোছড়া ঝর্ণা। 

বাঙ্গালকাটা থেকে শুরু হয় এই ঝর্ণায় যাবার মূল ট্র্যাকিং।  এখানে দেখতে পাবেন পাহাড়ি পল্লী ও জন জীবন। তারপর ঝিরিপথ ধরে এগুতে থাকলে ছোট বড় আরো কিছু জলপ্রপাতের দেখা মিলবে। পথে পাবেন ন-কাটা ঝর্ণার দেখাও। এটিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় একটা ঝর্ণা। ন-কটা ছেড়ে আরো কিছুদূর গেলে একসময় দেখা পাবেন কাঙ্ক্ষিত মুপ্পোচ্ছড়া ঝর্ণার দেখা। প্রায় ৩০০ ফিট উপর থেকে পানি ধেয়ে আসছে এখানে। নিরেট পাথরের পাহাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জল নিখাদ মুগ্ধতার পরশ বুলিয়ে দেয়। এইসব ঝর্ণা দেখলে মনে হয় প্রকৃতি যেনো তার বুনো উল্লাস ঘোষণা করছে এর মধ্যে দিয়ে।

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা কিভাবে যাবেন: 

মুপ্পোছড়া পৌঁছাতে হলে যেতে হবে কাপ্তাই। হানিফ, সৌদিয়া, শ্যামলী, এস আলম পরিবহণে করে সরাসরি কাপ্তাই ঝেটিঘাট। ঝেটিঘাট থেকে একটি ট্রলার ভাড়া করে আড়াই ঘণ্টায় বিলাইছড়ি। লোকাল কিংবা রিজার্ভ দু ভাবেই যেতে পারেন। ৮.৩০ টা থেকে শুরু করে এক দেড় ঘণ্টা পরপর এখান থেকে ট্রলার ছেড়ে যায়। বিলাইছড়ি পৌঁছে আবার হাসপাতাল ঘাট থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে বাঙ্গালকাট পর্যন্ত যেতে হবে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের পথ । এখানে নেমে গাইড ঠিক করে নিবেন। ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে গাইড পেয়ে যাবেন। তারপর আড়াই ঘণ্টার ট্র্যাকিং শেষে মুপ্পোছড়া ঝর্ণা।

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা কোথায় থাকবেন: 

বিলাইছড়িতে থাকার ব্যবস্থা আছে। হাসপাতাল ঘাটে নেমে নিরিবিলি বোর্ডিং এ উঠতে পারেন। 

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা কোথায় খাবেন: 

বিলাইছড়ির বকুলের দোকানে খেতে পারেন। তাছাড়া নিরিবিলি বোর্ডিং এর পাশে ভাতঘর নামে একটি হোটেল আছে। বন মোরগ, কাপ্তাইয়ের মাছ  দিয়ে ভালো খেতে পারেন।

সতর্কতা:

  • যাওয়ার সময় অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে যাবেন।
  • যাওয়ার পথে শুকনো খাবার এবং পানির ব্যবস্থা রাখবেন।
  • স্থানীয়দের সাথে ভালো আচরণ করবেন।
  • দয়া করে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )