আলুটিলা গুহা ( Alutila Guha ), খাগড়াছড়ি
আলুটিলা গুহা ( Alutila Guha ), খাগড়াছড়ি
মনের পিপাসা মেটাতে ভ্রমণ পিপাসীরা ছুটছেন দূর থেকে আরো দূরে। কখনো পাহাড়ে, পর্বতে, সমুদ্রের বুকে অথবা অরণ্যে-গুহায়। ‘গুহা’ শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। মনে পড়ে যায় আদিম সভ্যতার ইতিহাস। আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হয়ে থাকেন, আর ভাবছেন এই বর্ষায় এডভেঞ্চার ভ্রমণে বের হবেন তাহলে আলুটিলা গুহা হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। কম খরচে এই গুহা ভ্রমণ করে দেশের ভেতরেই পেতে পারেন রোমাঞ্চকর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। খাগড়াছড়ি শহর হতে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে এই গুহাটির অবস্থান।
স্থানীয়রা একে বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা। তবে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থিত বলে একে আলুটিলা গুহা বলেই সকলে চিনে। এটি খাগড়াছড়ির একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। আলুটিলা খাগড়াছড়ির জেলার সবচেয়ে উঁচু পর্বত। আলুটিলার পূর্বের নাম ছিল আরবারী পর্বত। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা সমুদ্র সমতল হতে ৩০০০ হাজার ফুট। আলুটিলার রহস্যময় সুড়ঙ্গে যেতে হলে প্রথমেই আপনাকে পর্যটন কেন্দ্রের টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।
গুহার মুখে বিশাল দুটি বটবৃক্ষ শতবর্ষ ধরে দাঁড়িয়ে আছে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে। এর দুদিকে দুটি রাস্তা। একটি রাস্তা চলে গেছে রহস্যময় গুহার দিকে আরেকটি চলে গেছে পাহাড়িপথ ধরে অপরূপ এক ঝর্ণা ধারায়। গুহায় প্রবেশের সময় আপনাকে মশাল সংগ্রহ করতে হবে। কারন রহস্যময় গুহাটিতে একেবারেই সূর্যের আলো প্রবেশ করেনা। পর্যটন কেন্দ্রের ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ডান পাশের রাস্তা দিয়ে মিনিট খানেক হাঁটলেই চোখে পড়বে একটি সরু পাহাড়ি পথ।এই পথ বেয়ে নিছে নামলেই দেখতে পারবেন অসম্ভব সুন্দর একটি ছোট ঝর্ণা। ঝর্ণার পানি নেমে যাচ্ছে নিচের দিকে ঝিরি বরাবর।
বামদিকের রাস্তা বরাবর হাঁটলে পৌঁছে যাবেন গুহার মুখ। প্রায় ৩৫০ টি সিঁড়ি বেয়ে নামলে পেয়ে যাবেন কাঙ্ক্ষিত সেই রহস্যময় গুহা। এটি দেখতে অনেকটা ভূগর্ভস্থ টানেলের মত যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ ফুট। এখানে যেন আলো-আঁধারের খেলা চলে গুহা মুখে। মাঝখানে নিকষ কালো অন্ধকার। এ গুহার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে শীতল জলের ঝর্ণাধারা। গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে গুহায় প্রবেশ করাটা যেমন গায়ে কাঁটা তোলে তেমনি তা রোমাঞ্চকরও বটে। গুহার জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে , রয়েছে বড় বড় পাথর। সুড়ঙ্গের তলদেশ পাথুরে এবং পিচ্ছিল। তাই সাবধানে পা ফেলে হাঁটবেন। গুহার যত গভীরে যাবেন মনে হবে চারপাশের চাপা নীরবতা যেন ভেঙ্গে যাচ্ছে পানি প্রবাহের মৃদু শব্দে। সে এক শিহরিত অনুভূতি। গুহাটির এপাশ দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে যেতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মত। গুহাটির উচ্চতা মাঝে মাঝে এতটাই কম যে আপনাকে নতজানু হয়ে হাঁটতে হবে। আপনার মনে হবে এ যেন নির্ভীক তরুণদের গুপ্তধন খোঁজার অভিযান চলছে। এই অনন্য এডভেঞ্চারের স্বাদ পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে আলুটিলা গুহায়। বিশ্বে যতগুলো প্রাকৃতিক গুহা আছে তার মধ্যে আলুটিলা অন্যতম। তাই কিছুতেই মিস করা যাবেনা এই রহস্যময় গুহা ভ্রমণ।
আলুটিলা গুহা কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন, শ্যামলী, হানিফ, শান্তি পরিবহন ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে চড়ে খাগড়াছড়ি যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৪৭০ থেকে ৫২০ টাকা। তারপর খাগড়াছড়ি শহর থকে চান্দের গাড়ি অথবা লোকাল বাসে চড়ে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে যেতে হবে। অথবা আপনি সিএনজি করেও যেতে পারেন। ভ্রমণের প্লান করার সময় আলুটিলা গুহার সাথে নিউজিল্যান্ড পাড়াটাও যোগ করে নেবেন। অল্প সময়ে দুটোই ঘোরা হয়ে যাবে।
কোথায় থাকবেন :
খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে হোটেল ইকো ছড়ি ইন, হোটেল শৈল সুবর্ণ, হোটেল জেরিন, হোটেল লবিয়ত, হোটেল শিল্পী ইত্যাদি। আপনার পছন্দমত বাছাই করে নিতে পারেন যেকোনো হোটেল।
কিছু ভ্রমণ টিপস:
১. ভালো গ্রিপের জুতা পরিধান করে গুহায় প্রবেশ করুন। কারন গুহার ভেতরে অনেক পিচ্ছিল ও পানির প্রবাহ রয়েছে, যাতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. বন্ধুদের নিয়ে গুহার ভেতরে হৈ-হুল্লোড় না করাটাই ভালো।
৩. একের অধিক মশাল রাখুন। যাতে একটি নিভে গেলে আরেকটি জ্বালাতে পারেন।
৪. কোনও ময়লা বা প্যাকেট গুহার ভিতরে ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন