টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ( Teknaf Sea Beach )

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ( Teknaf Sea Beach )

কোলাহলহীন নিশ্চুপ সৈকতে বসে শুনতে চান সাগরের তীব্র গর্জন? তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মূর্ছনায় হয়ে যেতে চান আনমনে? যদি অপার নির্জনতায় উপভোগ করতে চান সুনীল সমুদ্রের সৌন্দর্য তবে আপনাকে যেতে হবে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। আপনার নির্জনে প্রশান্তিময় অবকাশ যাপনের জন্য আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে এই সমুদ্র সৈকত। ঝাউগাছের সারি, বালুর নরম বিছানা, তার সামনে বিশ্রামরত মাছ ধরার ট্রলার। আর সামনে অপরূপ বঙ্গোপসাগর। সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউ আর সৈকত জুড়ে চমৎকার নীরবতা। সবমিলিয়ে অনন্য রূপের শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক ছবি এই টেকনাফ সৈকত।
কক্সবাজার সদর থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার। টেকনাফ শহর ছাড়িয়ে দক্ষিণে আরো পাঁচ কিলোমিটার দূরে সবচেয়ে নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন এই সমুদ্র সৈকতটি অবস্থিত।

দেশের অন্যান্য সৈকতগুলোর চেয়ে এই সৈকতটি একেবারে আলাদা। এতো বাহারি সাজের জেলে নৌকা বাংলাদেশের আর কোনো সাগর পাড়ে দেখা যায় না। অবিচ্ছেদ্য এক নির্জনতা এখানে বিরাজ করে পুরো সৈকত জুড়ে। বেশিরভাগ সৈকতে মানুষের আনাগোনা থাকে বেশি। কিন্তু এখানে এলে অপার এক নিস্তব্ধতা গ্রাস করবে আপনাকে। শুধু কানে আসবে প্রচণ্ড বেগে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের গর্জন। নিরিবিলি বালুকাবেলায় হাঁটতে হাঁটতে বেলা কখন যে গড়িয়ে যাবে টেরই পাবেন না।
সারিবদ্ধভাবে জেলেদের মাছ ধরার বর্ণিল সব ইঞ্জিন নৌকার নান্দনিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। লাল, নীল, বেগুনি, ইত্যাদি বাহারি রঙয়ের পতাকা দিয়ে জেলেরা এখানে তাদের নৌকাগুলোকে  কি চমৎকার করে সাজিয়ে থাকেন। নৌকাগুলোর গায়েও থাকে রং তুলির শৈল্পিক আঁচড়। সাগর পাড়ে সারি সারি এ নৌকাগুলো এই সৈকতটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্যের পরশ। দেখতে পাবেন পড়ন্ত বিকেলে মাছ ধরার ট্রলারগুলো টেনে তীরে তোলা হচ্ছে। অনেকেই জাল দিয়ে মাছ ধরছে। সবকিছু ছাপিয়ে চোখে পড়বে শুধুই সমুদ্র আর তার নীল জলরাশির শো শো গর্জন।

এছাড়া এ সৈকতে পাশে একটু দূরেই আছে ঘন ঝাউবন। এখানে দেখতে পাবেন সৈকত লাগোয়া জেলেদের বেশ কিছু বসতি। পূর্ণিমার জোয়ারের ঢেউ এই সৈকতে বিশাল আকার ধারণ করে। এসময় সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে তীরে। টেকনাফ সৈকতের আরেক আকর্ষণ সকাল-বিকাল জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করা। দূর সমুদ্র থেকে নৌকা বোঝাই মাছ নিয়ে শত শত জেলে এখানেই আসেন সকাল-বিকাল।
এখানে থেকে উত্তর দিকে সৈকতের পাশ দিয়ে আকাশ ছুঁয়েছে তৈঙ্গা পাহাড়। সাগর আর পাহাড়ের নিবিড় বন্ধুত্ব দেখতে পাবেন এখানে। এত সুন্দর, এত সাজানো বেলাভূমি দেখে শুধু মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়। টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের মূল প্রবেশ পথ থেকে হাতের বাঁ দিকে চলে গেলে যাওয়া যায় শাহ পরীর দ্বীপের কাছাকাছি। আর হাতের ডান দিকে গেলে চলে যেতে পারবেন হাজামপাড়া, শিলখালী কিংবা শামলাপুর সৈকতের দিকে।

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত কিভাবে যাবেন: 

ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ যাওয়া যায় সড়কপথে। এ পথে চলাচলকারী এসি বাস হল সেন্টমার্টিন সার্ভিস। এছাড়া শ্যামলী পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, ইউনিক সার্ভিস, হানিফ এন্টারপ্রাইজের নন-এসি বাস চলে এই পথে। কক্সবাজার থেকে বাস ও মাইক্রোবাসে টেকনাফ যাওয়া যায়। বাস ভাড়া পড়বে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। আর মাইক্রোবাসে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের বাস ছাড়ে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে আর মাইক্রো বাস ছাড়ে শহরের কলাতলী এবং টেকনাফ বাইপাস মোড় থেকে। টেকনাফ শহর থেকে সমুদ্র সৈকতে যেতে পারবেন অটো রিকশায়। সময় লাগবে আধা ঘণ্টার মত।

টেকনাফ সমুদ্র সৈকতে কোথায় থাকবেন: 

টেকনাফে থাকার জন্য আছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল। এই মোটেল টেকনাফ শহরের প্রায় আট কিলোমিটার আগে। ঢাকার পর্যটন কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় থেকে এই মোটেল বুকিং করতে পারবেন। তবে যদি টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের একেবারে কাছাকাছি থাকতে চান তাহলে আছে সেন্ট্রাল রিসোর্ট। এছাড়া এখানে সাগর কন্যা, মেঘ বালিকা ও নীলাচল নামে তিনটি কটেজ আছে। প্রতিটি কটেজে আছে দুটি করে রুম। ঢাকা থেকেও এই রিসোর্টে আগাম বুকিং দিতে পারবেন।

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ভ্রমণে প্রয়োজনীয় টিপস:

টেকনাফ সৈকতে লাইফ গার্ডের কোনো ব্যবস্থা নেই। জোয়ার-ভাটারও কোনো সাংকেতিক চিহ্ন থাকেনা। জেলেদের কাছ থেকে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিয়ে সমুদ্রে নামবেন।
ভাটার সময় একা সমুদ্রে নামবেন না।

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )