দেশের প্রথম এনাটমি মিউজিয়াম চট্টগ্রামে
চারপাশে নানা রকম ছোট বড় কঙ্কাল। মাথার উপর থেকে যেনো বিশাল কোন এক প্রাণীর কঙ্কাল যেনো মাথা ছুঁয়ে যাচ্ছে। ভূতুরে এক আবহ যেনো। এমন কঙ্কালের সমাবেশ দেখতে যেতে হবে চট্টগ্রামের খুলশিতে। চট্টগ্রামের খুলশিতে অবস্থিত ভেটেনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগে গড়ে তোলা দেশের প্রথম এনাটমি মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি’র উচ্চ শিক্ষা এবং মানোন্নয়ন উপ-প্রকল্পের আওতায় এনাটমি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের ব্যবস্থাপনায় নির্মিত। প্রাণীদেহ বা এনাটমি নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এটি দারুণ একটি দর্শনীয় স্থান এটি। স্কুল কলেজ পড়ুয়া বাচ্চাদের ও নিয়ে যেতে পারেন এখানে। যা তাদেরকে প্রাণীদেহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে। প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, তন্ত্রের অবস্থা গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দানই এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য।
চট্টগ্রামে অবস্থিত এই এনাটমি মিউজিয়ামটিতে রয়েছে ৬০ টি কঙ্কাল, বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ ৫০০ টি এবং ২০০০ টি হাড়। এখানকার দেয়ালে দেয়ালে শোভিত আছে প্রাণীদেহের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দারুণ উপস্থাপন। মাঝেমধ্যে এমন সব প্রাণী দেখবেন যেনো জীবিত এনে এখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
প্রাণীদেহের এভাবে সংগ্রহকে স্টাপিং বলে। স্টাপিং করা প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে মোরগ, রাজহংসী, কবুতর, ছাগল, কাঠঠোকরা, ডাহুক, দোয়েল, খরগোশ, কোয়েল সহ মোট ৩০ টি স্টাফিং। পাশাপাশি আছে মানুষ, গরু, ছাগল, শূকর ও খরগোশের ডিএনএ, ক্রোমোজোম, মস্তিষ্ক , চোখ, হৃদপিণ্ড, জরায়ু, ফুসফুস, কিডনি সহ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নানা মডেল। মানুষ, হাতি, উট, কুমির, বানর, মোরগ, কাঠঠোকরা, মাছরাঙ্গা, গিনিপিগ, অজগর, সাপ, ঘোড়া, গরু, হরিণ সহ নানা প্রাণীর কঙ্কালের পাশাপাশি এখানে এখানে কয়েকটি প্রাণীর প্লাস্টিনেশনও রয়েছে। এইসবের পাশাপাশি প্রাণী বিজ্ঞান ও এনাটমিতে অবদান রাখা বিশেষ ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাদের প্রোট্রেট ও রয়েছে এখানে।
প্রবেশের সময়: সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে জাদুঘরটি। এখানে কোন প্রবেশ মূল্য নেই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন