মগনামা ঘাট, কক্সবাজার ( Mognama Ghat, Coxbazar )

মগনামা ঘাট, কক্সবাজার ( Mognama Ghat, Coxbazar )

সমুদ্র কন্যা কক্সবাজার মানেই দিগন্ত-জোড়া সমুদের জলরাশি আর দীর্ঘ সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের অপার সৌন্দর্য। আর তাইতো পর্যটকরা ছুটে যান কক্সবাজারে। তবে শুধু সাগরের অপরূপ সৌন্দর্যই নয়, কক্সবাজারের আছে দেখার মত আরো অনেক কিছু। টেকনাফের সেন্টমার্টিন, চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরের পাশাপাশি এখন পর্যটকদের নজর কাড়ছে উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট। প্রকৃতি-প্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য দারুণ এক জায়গা এই মগনামা জেটিঘাট। আপনার কক্সবাজার ভ্রমণে দেখতে ভুলবেন না মগনামা জেটিঘাট। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা মগনামা ইউনিয়নে মগনামা জেটি ঘাট অবস্থিত।  পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার লোকজন পারাপারের জন্য ব্যবহৃত হতো মগনামা জেটি ঘাটটি। কুতুবদিয়া চ্যানেলের  মগনামা অংশে এ জেটি ঘাটটি নির্মাণ করা হয় অন্তত ২০ থেকে ২৫ বছর আগে। এ ঘাট হতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক বোট যাতায়াত করে। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে অন্তত তিন থেকে চার হাজার লোক পারাপার করে।
এখানে আছে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে বসে অবারিত নির্মল হাওয়ায় গা ভাসিয়ে দিয়ে মনের আনন্দে ঢেউ আর জেলেদের মাছ ধরার এক বিরল দৃশ্যর দেখা মিলে। এই ঘাটের বৈশিষ্ট্য হল প্রকৃতির নির্মল হাওয়া ও জলের মাঝখানে বসে জলের খেলা দেখা এবং জেলেদের মাছ বিকিকিনি ও মগনামা থেকে কুতুবদিয়া যাত্রীদের ডিঙ্গি নৌকায় উঠানামা করার দৃশ্য। জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখা বড়ই আনন্দের। ঢেউয়ের তালে তালে ছোট বড় নৌকা সাম্পানের চলাচলের দৃশ্যটি কবির মনে কবিতার ছন্দ মিলিয়ে দেয়। প্রাকৃতিক নির্মল হাওয়া ভারাক্রান্ত মনকে নিয়ে যায় অজানা সুরের নীড়ে। তাছাড়া ঘাটের সিঁড়িতে বসে জলের সাথে মিতালীও করা যায়। মগনামা জেটিঘাট দর্শনার্থীতে ঠাসা থাকে। কেউবা সাগরের পানিতে নেমে জলকেলি করে। আবার কেউ জেটি ঘাটের পাশে সৃজিত প্যারাবনে গিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পেকুয়ার পূর্ব দিকে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড় এবং পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী উপকূলীয় সুদূর প্রসারী কুতুবদিয়া দীপ ও সমুদ্র চর। গোধূলি বেলায় এখানে সূর্য ডুবার দৃশ্যটি অন্যরকম অনুভূতির জন্ম দেয়। মনে হয় সাগরের ঐ তীরে একটি ছোট গ্রামে সূর্যটি হারিয়ে যাচ্ছে। দারুণ উপভোগ্য এই দৃশ্য দেখার জন্য অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ছুটে আসেন।  বর্তমানে আনন্দ ভ্রমণ কিংবা পিকনিক স্পটের বিকল্প হিসেবেও পর্যটকরা বেছে নিচ্ছে এই জেটি ঘাট এলাকাটিকে।
প্রতিদিন বিকেলে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে মগনামা ঘাট। সূর্যাস্তের এই অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত দৃশ্য দেখতে অসংখ্য অনেকে পরিবার পরিজন নিয়ে মঘনামা ঘাটে বেড়াতে আসেন।

মগনামা ঘাট কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কক্সবাজার-গামী বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। এদের মধ্যে সৌদিয়া, এস আলম এর মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম হয়ে আপনি কক্সবাজার যেতে পারেন। আর যদি বাজেট বেশি হয়ে থাকে তবে কক্সবাজার যেতে আকাশপথ বেছে নিতে পারেন। আর চট্টগ্রাম থেকে মগনামা ঘাটে আসতে চাইলে এস, আলম বাসে সরাসরি আসা যাবে। চকরিয়া থেকে আসতে চাইলে চকরিয়া জীপ ষ্টেশন থেকে সিএনজি করে অথবা বাস টার্মিনাল থেকে বাসে এবং লাল বোটে আসতে পারবেন মগনামা ঘাট।

মগনামা ঘাট কোথায় থাকবেন

কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অসংখ্য আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। ঢাকা থেকেই ফোন দিয়ে বুকিং দিতে পারবেন। এছাড়াও কক্সবাজারে কম মূল্যের অনেক হোটেল রয়েছে থাকার জন্য।

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )