চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার, কাপ্তাই

পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটির সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। শহরের কালো ধোঁয়া থেকে দূরে চলে গিয়ে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে তাই ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে যায় রাঙামাটির কোলে। গহীন অরণ্য,পাহাড়ি প্রকৃতির অমোঘ রূপ, সবুজ অরণ্যে ঢাকা পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা স্রোতধারা, ঝুলন্ত সেতু রাঙামাটিকে করেছে অনন্য। রাঙামাটির অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে একটি দর্শনীয় স্থান হল চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার।
কাপ্তাই উপজেলার ৩নং চিৎমরম ইউপিতে চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারটি অবস্থিত। সমগ্র কাপ্তাই উপজেলাতে যতগুলো বৌদ্ধ বিহার আছে তাদের মধ্যে এই বৌদ্ধ বিহারটি অন্যতম। পার্বত্য অঞ্চলের জন্য অন্যতম বিহার। এই বৌদ্ধবিহারটি শত বছরের পুরনো। কর্ণফুলী নদীর তীরে চিৎমরম এলাকার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই বৌদ্ধ বিহারটি।

চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারের ইতিহাস
কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা চন্দ্র চৌধুরী ১৯০৫ সালে প্রথম বৌদ্ধবিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১৯২৭ সালে একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বর্মী নাগরিক চিৎমরম এলাকায় এসে বসবাস করতে শুরু করেন। সেই সময় ওই ব্যক্তি নিজ অর্থ ব্যয়ে বার্মা থেকে কাঠসহ বিভিন্ন নির্মাণ-সামগ্রী ও নির্মাণ-শিল্পী এনে বৌদ্ধবিহারটির শৈল্পিক রূপ দেন। এই বৌদ্ধ বিহারের অভ্যন্তরে ২৭ ফুট উঁচু বুদ্ধাসনে ক্ষুদ্রাকৃতির ভুমিস্পর্শ মুদ্রায় ২৫টি বুদ্ধ মূর্তি আছে। মূর্তিগুলি শ্বেত পাথর ও ব্রোঞ্জের তৈরি। এই বৌদ্ধ বিহারটির অলঙ্করণ অনন্য সাধারণ। এ ভাবগম্ভীর শিল্পনৈপুণ্য সকল ভ্রমণ পিপাসুদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।

এই বৌদ্ধ বিহারটি দুটি পাহাড়ের উপর থাকায় আকর্ষণের মাত্রাকে আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছে। এই বিহারে প্রতিদিন তিন পার্বত্য জেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে অসংখ্য পূণ্যার্থী ও পর্যটক উপাসনা ও পরিদর্শন করতে আসে। প্রতিবছর প্রবারণা পূর্ণিমা ও বাংলা বর্ষ বিদায় এবং নববর্ষের আগমন উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব পালিত হয়। উৎসব চলাকালীন এখানে মেলা, যাত্রা, নাটকসহ নানা অনুষ্ঠান হয়।
লাখো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও পাহাড়ি-বাঙালি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রচুর জনসমাগম ঘটে এ চিৎমরম বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে। এছাড়া বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণের এ উৎসবকে স্বাগত জানাতে প্রতিবছর চিৎমরম বৌদ্ধবিহারে দেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিরও আগমন ঘটে। এ সময় অনেক কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিকসহ প্রচুর বিদেশিও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য আসেন এই বিহারে।

যেভাবে যাবেন:
ঢাকার ফকিরাপুল মোড় ও সায়দাবাদ থেকে সরাসরি কাপ্তাই এর বাস পাওয়া যায়। কাপ্তাই এর আগে চিতমরম নামে একটা জায়গা রয়েছে। ওখানে নেমে যেতে হবে।
চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল হতে বাস অথবা চট্টগ্রামস্থ কাপ্তাই রাস্তার মাথা হতে সিএনজিযোগে কাপ্তাই চিৎমরম কিয়াং ঘাটে নামতে হবে। কিয়াংঘাট নেমে নৌকাযোগে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে কোয়ার্টার কি.মি. গেলেই চিৎমরম বৌদ্ধ বিহার পেয়ে যাবেন।

যেখানে থাকবেন:
রাঙামাটিতে অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রেস্ট হাউজ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল গোল্ডেন হিল, হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, হোটেল লেক ভিউ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি ইত্যাদি।



হাতে সময় থাকলে কষ্ট করে ভিজিট করে আসতে পারেন আমার অন্য ব্লগ থেকে 

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )