লিলুক ঝর্ণা বা লাংলুক ঝর্ণা, এডভেঞ্চার প্রিয়দের অন্যতম আকর্ষণ

সৃষ্টির রহস্য জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে প্রকৃতির খুব নিকটে। তাতেও রহস্য শেষ হবে না। গভীর থেকে গভীরে শুধু বিস্ময় আর রোমাঞ্চই দেখতে পাবেন শুধু। অপরূপ বাংলাদেশের বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য স্থান। এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে নানা ঐশ্বর্য। দেশের জনপ্রিয় ঝর্ণা গুলোর উল্লেখযোগ্য ভাগই অবস্থিত এখানকার পাহাড় আর গহীন অরণ্যে। এখানে আসলে দেখা পাবেন জাদিপাই, ঋজুক, বাকলাই এবং তিনাপ সাইতার এর মতো ঝর্ণার। এছাড়াও সাম্প্রতিককালে এখানকার গহীন অরণ্যে আরেকটি ঝর্ণার হদিশ পাওয়া যায়। অপরূপ এই ঝর্ণাটির নাম লিলুক ঝর্ণা। মার্মা ভাষায় লাংলুক অর্থ বাদুড়।
এই নান্দনিক লিলুক ঝর্না তার নামের মতোই রোমাঞ্চকর, এক বুনো সৌন্দর্যের আঁধার। এটি লাংলুক ঝর্ণা নামেও পরিচিত। দিনদিন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন স্থানে পরিণত হচ্ছে লিলুক। গহীন অঞ্চলে হওয়ায় দীর্ঘদিন এটি পর্যটকদের নজরের বাহিরে ছিলো।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দুতে এই লিলুক ঝর্ণাটি রয়েছে। এর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যই কেবল ভ্রমণ প্রিয় দের মন ভরায় না এর গন্তব্যের পথে পথে রয়েছে তাদের জন্য নানারূপ বিস্ময় আর রোমাঞ্চের সুযোগ। দেশের সবচেয়ে উঁচু ঝর্ণা গুলোর একটি লিলুক। প্রায় ২৮০ ফুট উপর থেকে পাথরের দেয়াল বেয়ে নেমে আসে যা দেখতে অনন্য ঝর্ণা গুলো থেকে আলাদা। নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শ্যাওলা ঢাকা নানা মাপের ছোট বড় পাথর। আঁকাবাঁকা দুর্গম পাহাড়ি ট্রেইল, বুনো ঝিরি পথ আর এখানকার নয়নাভিরাম সবুজ  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিমুগ্ধ করে পর্যটকদের।যদি এডভেঞ্চার ভ্রমণ চান, তাহলে বর্ষাকালে আসলে পূর্ণ রূপ দেখতে পাবেন।

কীভাবে যাবেন: 
লিলুক ঝর্ণা যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে বান্দরবানে। ঢাকা থেকে সরাসরি বান্দরবানের বাস রয়েছে। এক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। শ্যামলী ও সেইন্টমার্টিন পরিবহনের এসি বাস সার্ভিস ও রয়েছে। ভাড়া ৯০০ টাকা। বান্দরবান থেকে লোকাল বাস কিংবা চান্দের গাড়িতে করে থানচি যেতে হবে। লোকাল বাসে জনপ্রতি ভাড়া ২২০ টাকা আর চান্দের গাড়ির ভাড়া চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। বাসে যেতে সময় লাগে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আর চান্দের গাড়িতে প্রায় ৩ ঘণ্টা।

থানচি পৌঁছে বাজার থেকে একজন গাইড ভাড়া করতে হবে। তারপর বোটে করে তিন্দু। এক থেকে দেড় হাজার টাকায় এক ঘণ্টা সময়ে তিন্দু যাওয়া যায়। এক বোটে ৫/৬ জন বসতে পারেন। সাঙ্গুর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছে যাবেন তিন্দু। তিন্দু থেকেই আসল ট্র্যাকিং শুরু। দুটি পথ রয়েছে লিলুক পৌঁছানোর। প্রথমটি ঝিরি পথ। দ্বিতীয়টি পাহাড়ি পথ ফেরিয়ে তারপর ঝিরি। এই পথে যেতে প্রথমে ১০/১৫ মিনিট নৌকা দিয়তে পার হয়ে পাহাড়ি পথ ধরতে হয়। দু পথে যেতেই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী ২-৩ ঘণ্টা লাগবে। ভালো হয় দ্বিতীয় পথে এগুলেই। নৌকার মাঝিই আপনার গাইডের কাজ করে দেবে। বাড়তি গাইডের প্রয়োজন নেই।

কোথায় থাকবেন: 
অনুমতি সাপেক্ষে তিন্দুতেই স্থানীয়দের বাড়িতে থাকতে পারেন। প্রতিজনের বিপরীতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বিনিময়ে রাত্রি যাপন করতে পারেন এখানে।

কি খাবেন: 
স্থানীয় হোটেলে খেতে পারেন। তাছাড়া নিজেদের জিনিশপত্র কিনে নিয়ে নিজেরাই রান্না করে খেতে পারেন।

টিপস:
  • ট্র্যাকিং এ সাবধানতা অবলম্বন করুণ। অবশ্যই বাঁশ রাখবেন সাথে। পারলে একটি দা’ও রাখবেন।
  • শুকনা খাবার, পানি, স্যালাইন সাথে রাখুন।
  • ফার্স্ট এইড বক্স সাথে রাখুন।
  • স্থানীয়দের সাথে ভদ্র আচরণ করুণ এবং সম্মান দিন।
  • ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। অপচনশীল দ্রব্য যেখানে সেখানে না ফেলে স্থান বুঝে পুড়িয়ে ফেলুন।

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )