সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার ( Sonadia dwip, Coxbazar )
সোনাদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার ( Sonadia dwip, Coxbazar )
কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমের দূরে সাগর গর্ভে অবস্থিত অপরূপ সৌন্দর্যের আধার সোনাদিয়া দ্বীপ। তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবনে ঘেরা দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গকিলোমিটার। মহেশখালী ক্যানেল দ্বারা কক্সবাজারের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটিকে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত। সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, সেন্টমার্টিন সবগুলোর সৌন্দর্যের আবেশ পাওয়া যায় এই দ্বিপে, যার ফলে একে অনেকেই সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। ঘটি ভাঙা চ্যানেল হয়ে দ্বীপে যাওয়ার সময় নদীর দু'পাশের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট দেখলে মনে হবে আপনি সুন্দরবনে আছেন। আবার আপনি যখন বীচের পাশে চরে হাঁটবেন, তখন মরুভূমির মতো মনে হবে।যতদূর দৃষ্টি যায়, কোথাও কেউ নেই। রয়েছে আকর্ষণীয় বালির পাহাড়, সাগরের গর্জন বাদে সুনসান দ্বীপটা একদম নীরব। প্যারাবন, কেয়া-নিশিন্দার ঝোপ ছাড়াও দ্বীপে রয়েছে লাল কাঁকড়া। সোনাদিয়া দ্বীপটি যেন ক্যানভাসে আঁকা। ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় বনের সমন্বয়ে গঠিত এই দ্বীপটি না দেখে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। সোনাদিয়া কক্সবাজারের খুব কাছে অবস্থিত হলেও সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো এখানে তেমন জনবসতি এখনো গড়ে উঠেনি। এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কিমি.। দ্বীপের মোট জনবসতি প্রায় ২,০০০ জন। পশ্চিম পাড়া আর পূর্ব পাড়ায় যারা থাকে সবাই একই জনগোষ্ঠীর। যান্ত্রিকতাকে ছুটিতে পাঠিয়ে যারা নিজেদের আবিষ্কার করতে চান, তাদের উচিত দ্বীপের বিশালতায় নিজেকে বিলিয়ে দেয়া। জীবনে একবার হলেও ঘুরে আসুন দ্বীপটি।
সোনাদিয়া দ্বীপ কিভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার শহরে আসতে হবে, সেখান থেকে কক্সবাজারের ৬ নং ঘাট এ আসতে হবে। ওখানে মহেশখালী যাওয়ার জন্যে স্পীড বোট পাবেন, ভাড়া প্রতিজন ৭৫ টাকা। সড়কপথে চকরিয়া হয়ে মহেশখালী যাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে অন্যরকম সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। মহেশখালী ঘাটে নেমে রিক্সা নিয়ে চলে আসবেন ঘটিভাঙ্গায়। মহেশখালী থেকে ঘটিভাঙার দূরত্ব ২৪ কিলোমিটার। ৫-৬জন হলে একটা অটো নিয়ে যেতে পারেন ঘটিভাঙ্গা, ভাড়া ২০০-২৫০টাকা। সেখান থেকে আবার ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সোনাদিয়া দ্বীপে যেতে হয়। ঘটি ভাঙা নেমে নৌকায় সোনাদিয়া চ্যানেল পার হলেই সোনাদিয়া। প্রতিদিন জোয়ারের সময় সোনাদিয়া পশ্চিম পাড়া থেকে ঘটি ভাঙা পর্যন্ত মাত্র একবার একটি ট্রলার ছেড়ে আসে। এই ট্রলারটিই কিছুক্ষণের মধ্যে যাত্রীদের তুলে নিয়ে আবার ফিরতি যাত্রা করে। ভাড়া প্রতিজন ৩০টাকা। বোট ছাড়ার সময় জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে, সাধারণত সকাল ১১-১ টার দিকে ছাড়ে। ৪৫-৫০ মিনিট লাগে সোনাদিয়া পৌঁছাতে। আমাদের প্রথম দিন নৌকা মিস হওয়াতে এক্সট্রা একদিন মহেশখালী থাকতে হইছিল।পুরো দ্বীপ ঘুরার জন্য দুই দিন যথেষ্ট। একদিনে তেমন ঘুরা যায় না। আমাদের প্লান ছিল একদিন থাকব, পরে আরও একদিন থেকে আসছি।
সোনাদিয়া দ্বীপে থাকা খাওয়া
সোনাদিয়া দ্বীপে থাকার জন্য কোনও আবাসিক হোটেল নাই। খাওয়ারও জন্য ও কোনও হোটেল নাই। স্থানীয় লোকজনকে টাকা দিলে তারা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। আর নিজেরা রান্না করতে চাইলে মহেশখালী থেকে বাজার করে নিয়ে যেতে হবে। সোনাদিয়া দ্বীপে দুইটি পাড়া আছে। পূর্বপাড়া ও পশ্চিম পাড়া। ঘোরাঘুরি ও ক্যাম্পিং করার জন্য পশ্চিম পাড়া বেস্ট।
বি:দ্র: সোনাদিয়ায় বিদ্যুৎ ও চলাচলের জন্য কোন যানবাহন নাই।পুরো দ্বীপ আপনাকে পায়ে হেঁটে দেখতে হবে।এটি দেশের প্রধান শুটকি মাছ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকূলীয় বনভূমি, সাগরে গাঢ় নীল পানি, কেয়া বন, লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক পাখি পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। এই দ্বীপটি বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন