শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে মূল ভূখণ্ডের সাথে লাগোয়া সর্বশেষ ভূখণ্ড হলো শাহপরীর দ্বীপ। এটি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের অংশ। দ্বীপ বলা হলেও এই দ্বীপে পৌঁছাতে একসময় নৌকার দরকার পড়তো না। লবণ খেতের মাঝখানে একটা রাস্তা দিয়ে এই দ্বীপে পৌঁছাতে যেতো। যদিও এখন রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় একশ ফুটের মতো জায়গা বর্ষাকালে নৌকায় পার হতে হয় আর শীতকালে হেঁটেই যাওয়া যায়। সমুদ্রের করাল গ্রাস আর জেলেদের সংগ্রাম মুখর জীবন ঘিরেই শাহপরীর দ্বীপ। সমুদ্রের আগ্রাসনে এই দ্বীপের পাঁচ ভাগের এক ভাগ কোন মতে টিকে আছে।
ছোট্ট দ্বীপে ৪০ হাজারের মতো লোকসংখ্যার প্রধান পেশা মাছ ধরা ও লবণ চাষ। এখানে এসে মানুষের এই সমুদ্রের সাথে সংগ্রাম আর টিকে থাকার গল্প নিজ চোখে দেখতে পারেন। শাহপরীর দ্বীপের তিন দিকে রয়েছে তিনটি সৈকত। দেখতে পারেন সমুদ্রের নানা রূপ। এছাড়া গোলার চরে গেলে দেখা যাবে মায়ানমারের মঙডু প্রদেশ, আরাকান পাহাড় আর জন মানবহীন গ্রাম যেখান থেকে রোহিঙ্গা দের বাড়ি ঘর পুড়িয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। আরেকটু সামনে এগোলে দেখতে পাবেন সেইন্টমার্টিন দ্বীপ। জ্যোৎস্না রাতে এই দ্বীপ মায়াবী এক আলোয় ছেয়ে যায়। মনে হতে পারে সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। এখানে নিচু জলাশয় গুলোতে দেখতে পাবেন বক, সারস আর আর গাংচিলের কিচির মিচির শব্দ আর দল বেঁধে চষে বেড়ানো।
শাহপরীর দ্বীপের নামকরণ নিয়েও রয়েছে ঐতিহাসিক বর্ণনা। কারো মতে সম্রাট শাহ্ সুজা তার স্ত্রী পরিবানুকে নিয়ে কোন এক সময় এখানে এসেছিলেন। এরপর শাহ্ সুজা আর পরিবানুর নাম মিলিয়ে নামকরণ করা হয় শাহপরীর দ্বীপ। আরো একটি কারণ শুনা যায়। এতে বলা হয় যে, কবি সা’বারিদ খাঁ’র ‘হানিফা ও কয়রাপরী’ কাব্য গ্রন্থের অন্যতম চরিত্র ‘শাহপরী’র নাম অনুসারে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়। কবি সা’বারিদ ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দির কবি। কীভাবে যাবেন সকাল ৬ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে টেকনাফ শহরের উদ্দেশ্যে বাস যায়। সময় লাগে প্রায় আরাই ঘণ্টা। বাস ভাড়া ১৪০ টাকা।
শুকনো মৌসুমে টেকনাফ থেকে শাহপরীর দ্বীপে যেতে পারেন সিন এন জি তে করে। সি এন জি ভাড়া ১০০ টাকা। সি এন জি শাহপরীর দ্বীপের ফেরিঘাটের সামনে নামিয়ে দেবে। আর বর্ষাকালে অর্ধেক পথ নৌকা বা ট্রলারে করে যেতে হয়। ভাড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা। টেকনাফ শহর থেকে শাহপরীর দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার প্রায়।
সতর্কতা: দ্বীপে জোয়ার ভাটার কোন দিক নির্দেশনা দেয়া নাই। সমুদ্রে নামতে হলে স্থানীয়দের থেকে আগে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিবেন।
বি: দ্র: যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। মনে রাখবেন, আমাদের পরিবেশ আমাদের দায়িত্ব।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন