শামলাপুর সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার ( Shamlapur sea beach, Coxbazar )
প্রবল বেগে বয়ে আসা সমুদ্রের ফেনিল স্রোতের তটে আছড়ে পড়া, নির্জনতায় শুধু সমুদ্রের গর্জন। বিকেলের সোনালী নরম আলোয় পুরো সৈকতটি যেন কোনো পটে আঁকা ছবি। সৌন্দর্যের সব অনুষঙ্গ দিয়েই যেন প্রকৃতি সাজিয়েছে শামলাপুর সমুদ্র সৈকতটি। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতগুলোতে থাকে কোলাহল, মানুষের ভিড়, আর হৈ-হুল্লোড়। আপনি যদি কোলাহল মুক্ত সৈকতে নির্জনে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তবে শামলাপুর সমুদ্র সৈকত আপনার জন্য আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য। এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে অপার নির্জনতা আপনাকে ডুবিয়ে ফেলবে চিন্তার জগতে।
প্রশান্তিময় পরিবেশে এক অকৃত্রিম সৌন্দর্যের দেখা মিলবে এই সমুদ্র সৈকতে। এই সৈকতটিকে অনেকে বাহারছড়া সৈকত বলেও ডেকে থাকে। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ শহর ছেড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে প্রায় বিশ কিলোমিটার গেলে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন শিলখালী গর্জন বন। সুউচ্চ গর্জন গাছের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া মেরিন ড্রাইভ সড়কটির ধরে আরো প্রায় দশ কিলোমিটার গেলেই নির্জন এই সমুদ্র সৈকত। বাহারছড়া ইউনিয়নে শামলাপুর বীচ এর অবস্থান। শামলাপুর সৈকতের ঝাউবনে পাবেন অপরূপ সবুজের ছোঁয়া। মাছ ধরার ট্রলার কিংবা সমুদ্রসৈকতে ঘুরে বেড়ালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখতে পাবেন। নীল আকাশের নিচে দিগন্ত জোড়া স্বচ্ছ সমুদ্র। নির্জন সৈকতে বিছানো সাদা বালির রাশি। প্রবল বাতাসে সমুদ্র ঊর্মিমালার ফেনা তোলা মাতামাতি। নির্জনতায় বিশুদ্ধভাবে প্রবল স্রোতের আছড়ে পড়ার গর্জন শুনতে পাবেন।
শেষ বিকেলের সোনারোদের আলোয় রঙে আঁকা জলছবি মনে হয় পুরো সৈকতটিকে। চমৎকার একটি বিকেল কাটাতে পারবেন এখানে। পড়ন্ত বিকেলে দেখতে পাবেন মাছ ধরার ট্রলারগুলো টেনে তীরে তোলা হচ্ছে। অনেকেই জাল দিয়ে মাছ ধরছে। সবকিছু ছাপিয়ে চোখে পড়বে শুধুই সমুদ্র আর তার নীল জলরাশির শোঁ শোঁ গর্জন। মাছ ধরার নৌকা আর জেলেরা ছাড়া সেভাবে কোনো মানুষজন চোখে পড়বে না। এমন অকৃত্রিম সৌন্দর্যের মাঝে অপার নির্জনতায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ হয়ত কমই আসে। ঝাউবনে সমুদ্রের প্রবল বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ কানে আসবে।
খুব সকাল কিংবা বিকেলে সৈকতে ঝাঁকে ঝাঁকে নামে লাল কাঁকড়ার দল। আর ঝাঁকে নামে সীগাল সহ নাম না জানা ছোট্ট ছোট্ট সামুদ্রিক পাখিগুলো। সৈকত-জুড়ে রয়েছে নোঙ্গর করা সুন্দর সুন্দর নৌকা। দীর্ঘ সৈকত বেশিরভাগ সময়ই থাকে প্রায় জনমানবহীন। এখানকার দৃষ্টিনন্দন ঝাউবনে ঘেরা অপরূপে শোভিত নির্জন সৈকতে এসে ভালো লাগার ষোলোআনাই পূর্ণ হবে আপনার। সমুদ্র সৈকতের রোমান্সের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক চমৎকার মেলবন্ধন এই শামলাপুর সমুদ্র সৈকত।
শামলাপুর সমুদ্র সৈকত কিভাবে যাবেন
শামলাপুর যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার অথবা টেকনাফ যেতে হবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার-গামী বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। এদের মধ্যে সৌদিয়া, এস আলম এর মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে সোজা ঘণ্টা দুয়েক গেলেই শামলাপুর বা বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতের দেখা মিলবে।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে টেকনাফ থেকে যেতে পারেন শামলাপুর। হোয়াইক্যং রোড ধরে শামলাপুর পর্যন্ত পথটুকু দারুণ উপভোগ্য হবে আপনার জন্য নিঃসন্দেহে। সে জন্য আপনাদের টেকনাফের বাসে চড়ে টেকনাফ সড়কের হোয়াইক্যং রোড নামতে হবে। তারপর ধমধমিয়া হয়ে চলে আসুন শামলাপুর সমুদ্র সৈকত। সিএনজি চালিত অটো রিক্সা বা ব্যাটারি চালিত অটো বাহনই হোয়াইক্যং রোড থেকে শামলাপুর পর্যন্ত একমাত্র ভরসা।
শামলাপুর সমুদ্র সৈকতে কোথায় থাকবেন:
শামলাপুরে থাকার কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে টেকনাফ অথবা কক্সবাজারেই ফিরে আসতে হবে। কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অসংখ্য আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। ঢাকা থেকেই ফোন দিয়ে বুকিং দিতে পারবেন। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মোটেল শৈবাল, তারকা মানের সিগাল হোটেল, হোটেল সী-প্যালেস, হোটেল সী-ক্রাউন, হোটেল ওশান প্যারাডাইজ লি:, হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি। এছাড়াও কক্সবাজারে কমমূল্যের অনেক হোটেল রয়েছে থাকার জন্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন