সুপ্তধারা ঝর্ণা- ঝর্ণা প্রেমীদের প্রেমিকা
বর্ষাকাল ঝর্ণা প্রেমীদের জন্য আদর্শ সময়। ঝর্ণাগুলোও এইসময় পূর্ণ রূপ আর যৌবন নিয়ে হাজির হয়। এইসময় নিবিড় সজীবতা ধারণ করে প্রকৃতি। চির সবুজ গাছপালা ঘেরাও পাহাড় হতে অবিরাম ধারায় ঝরে পড়া জল আশ্চর্য ভাব জাগায় মনে। বর্ষা ব্যতীত বছরের অন্যান্য সময় প্রায় শুষ্ক থাকা একটি ঝর্ণা সুপ্তধারা। কেবল বর্ষা ঋতুতেই এটি অম্লান বদনে হাজির হয় আর মুগ্ধ করে সকলকে এর প্রাণচাঞ্চল্য রূপে।
চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লকের চিরসবুজ বনাঞ্চল সমৃদ্ধ সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে সুপ্তধারা ঝর্ণাটি অবস্থিত। ইকোপার্কটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথের পূর্ব পাশে অবস্থিত। এই ইকো পার্কের মধ্যেই সুপ্তধারার খুব কাছে সহস্রধারা ঝর্ণা নামে আরেকটি ঝর্ণা আছে। তাই একসাথে দুইটা ঝর্ণাই দেখা হয়ে যাবে এখানে আসলে।
দেশের অন্যান্য ঝর্ণাগুলো মূলত গহীন পাহাড়ে মধ্যে অবস্থিত। দীর্ঘ পথ হাঁটার এবং ট্র্যাকিং এর অভ্যাস না থাকায় সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায় অনেকের জন্য। তাদের জন্য বলা যায় এই ঝর্ণাটি প্রায় হাতের নাগালেই অবস্থিত। এক দেড় ঘণ্টার পাহাড়ি পথ ও ৪০০/৫০০ সিঁড়ি ভেঙ্গে আরো আধাঘণ্টা ট্র্যাকিং করে এই ঝর্ণার ধারে পৌঁছাতে হয়।
বর্ষা ব্যতীত অন্যান্য ঋতুতে এটিকে শুষ্কই বলা যায়। অল্প পরিমাণে কিছু জল সব সময় গড়িয়ে পড়লেও তাতে ঝর্ণার আসল রূপটা ধরা যায় না আসলে। এই জন্য আপনাকে আসতে হবে বর্ষায়। পাথরের দেয়ালে জন্মানো বুনো গাছপালা, শ্যাওলা আর ঘাসের উপর দিয়ে পুরো দমে বেয়ে পড়ছে জল। চোখে বড় আরাম দেয় এইসব দৃশ্য। বিমোহিত হতে হয়।
সুপ্তধারা ঝর্ণা কীভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে দু ভাবে যাওয়া যায়। ট্রেন কিংবা বাসে করে পৌঁছাতে পারেন এখানে। কমলাপুর থেকে রাত ১০.৩০ মিনিটে মেইল ট্রেনে চরে পরদিন সকাল ৭ টা নাগাদ ফেনী নামবেন। ফেণি নেমে টমটমে করে মহীপাল ষ্টেশনে গিয়ে ওখান থেকে ৫০-১০০ টাকা দিয়ে বাসে করে সীতাকুণ্ড।
এছাড়া সরাসরি চট্টগ্রাম গামী বাসে উঠে চট্টগ্রাম যাবেন।ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, মহাখালী হতে এস আলম, শ্যামলী, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, এনা, সোহাগ এইসব বাসে করে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে পারেন। চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড ৩৫ কিলোমিটার দূরে। চট্টগ্রাম থেকে সি এন জি বা বাসে করে সীতাকুণ্ড বাজার চলে আসবেন। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে সি এন জি, ইজি বাইক বা রিকশায় করে ইকো পার্ক। টিকেট কেটে ইকো পার্ক ঢুকতে হবে
সুপ্তধারা ঝর্ণা কোথায় থাকবেন:
সীতাকুণ্ডে মাঝারী মানের হোটেল পাবেন। সীতাকুণ্ড বাজারে সাইমুন নামে একটি হোটেল রয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ড পৌরসভার ডী টি রোডে হোটেল সৌদিয়ে আছে। এটি আবাসিক। থাকতে পারেন এখানেও। আর ভালো মানের হোটেল এ থাকতে চাইলে ফিরতে হবে চট্টগ্রাম।
সুপ্তধারা ঝর্ণার আশপাশের দর্শনীয় স্থান:
সীতাকুণ্ডে আরো কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। দিনে দিনে ঘুরে আবার দিনেই ফিরে যেতে পারেন এখান থেকে। আশপাশের দেখার মতো আছে চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, বাশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, মহামায়া লেক, কুমিরা ঘাট, কমলদহ ঝর্ণা ও ঝরঝরি ঝর্ণা।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন