সাকাহাফং পর্বত ( Sakahafong Mountain ), বান্দরবান
সাকাহাফং পর্বত ( Sakahafong Mountain )
পাহাড়ের ধারে, দিগন্তের কাছে ছুটে যেতে মন চাইলেই ভ্রমণ পিপাসুরা চলে যায় বান্দরবানের কোলে। প্রকৃতি তার আপন হস্তে বান্দরবানকে গড়ে তুলেছে , সাজিয়েছে আপন মহিমায়। এই বান্দরবানেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ পর্বত শৃঙ্গ সাকাহাফং। হ্যাঁ,কেওক্রাডং বা তাজিংডং নয়, এটিই বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।এডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে চাইলে এই পর্বতে ট্র্যাকিং করে চূড়ায় পৌঁছে আস্বাদন করতে পারবেন অপার্থিব পাহাড়ি সৌন্দর্য। সাকাহাফং পর্বত মোদক তুয়াং বা মদক তং নামেও পরিচিত। স্থানীয় অধিবাসীরা একে বর্ডার হুম নামে ডাকে। ইউএস টপোগ্রাফি ম্যাপ, রাশিয়ান টপোগ্রাফি ম্যাপ, গুগল ম্যাপ, গুগল আর্থসহ বিভিন্ন অভিযাত্রীদের নেওয়া জিপিএস রিডিংয়ের মাধ্যমে জানা গেছে এখন সাকাহাফং- ই বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।
সাকাহাফং এর চূড়ায় আপনাকে ট্র্যাকিং করে পৌঁছাতে হবে। থানচি বাজার থেকেই আপনার যাত্রা শুরু হবে। পাহাড় ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই এখানে। কেবল অতিক্রম করতে হবে দানবের মত এক এক পাহাড়। এমন মনুষ্য বসতিহীন পথে আপনার সঙ্গী হবে পাহাড়ের সাদা মেঘ, হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি, জুমের ক্ষেত, সবুজ প্রকৃতির ঘ্রাণ আর পাহাড়ি ঝিরির শীতল জল। এই পথেই বোডিং পাড়ায় দেখতে পাবেন ম্রো আদিবাসীদের বসবাস। পাড়ার পাশেই বয়ে চলছে পাথুরে ঝিরি। দলছুট মেঘ আর ঝিরির জলে শীতল করে নিতে পারবেন আপনার শরীর ও মন।
অরণ্যের পর অরণ্য পেরিয়ে পথে পথে দেখা পাবেন নগর সভ্যতাহীন একেক জনপদ। কখনো বা সেখানে বুনো প্রজাপতি, কখনো বা অচেনা পতঙ্গ কিংবা পাখির ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। শুধুমাত্র বাতাসের গুনগুনানি যেন এই পর্বতঘেরা পরিবেশের চিরকালের সঙ্গী। এই দীর্ঘ ট্র্যাকিং এ এই অনবদ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বাকরুদ্ধ করে রাখবে, একঘেয়ে ভাব ছুঁতেও পারবেনা।
পাহাড়ের এই বন্ধুর পথ, ঝিরিপথ পেরিয়ে দুই দিন ট্র্যাকিং করে বোডিং পাড়া, শেরকর পাড়া, তান্দুই পাড়া, নেপিউ পাড়া হয়ে পৌঁছে যাবেন সাকাহাফং এ। সাকাহাফংয়ের পাদদেশে এই নেপিউ পাড়া। এরপর বাংলাদেশের এই অংশে আর কোনো পাড়া নেই। সেখান থেকে বাঁশের ট্রেইল ধরে চূড়ায় উঠতে হবে। বাঁশ আর জঙ্গল কেটে কেটে উঠতে হবে উপরে। বাঁশের জঙ্গল পেরিয়ে সাকাহাফংয়ের চূড়া ধরা দেবে আপনার কাছে। দীর্ঘ এই ট্র্যাকিং এর ক্লান্তি মুছে যাবে নিমিষেই। চূড়া থেকে এই সভ্যতার কোনো কিছুই চোখে পড়ে না। চোখ জুড়ে কেবল পাহাড় আর পাহাড়। পাহাড় পেরিয়ে শুরু মিয়ানমারের সীমান্ত। দৃষ্টি সীমানার এই পাহাড়ের সারি আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে। রং বদলানো মেঘের দৃশ্যপট, চারপাশের সবুজের অমলিন রূপ, মিয়ানমারের আরো উঁচু উঁচু পাহাড় সারি, শরীর ভিজিয়ে দেয়া মেঘের স্পর্শ সব মিলিয়ে এক জাদুকরী সৌন্দর্যের জালে আটকা পড়বেন সাকাহাফংয়ের চূড়ায়।
সাকাহাফং পর্বত কিভাবে যাবেন:
ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পরিবহন সার্ভিসের বাস ছেড়ে যায়। যেমন হানিফ, ইউনিক, শ্যামলী, এস আলম, ডলফিন ইত্যাদি যেকোনো একটি বাসে চড়ে যেতে পারেন বান্দরবান। নন এসি বাসে ভাড়া ৫৫০ টাকা এবং এসি ৯৫০ টাকা। সপ্তাহের প্রতিদিন বান্দরবান থেকে থানচি পর্যন্ত বাস যায়। অথবা রিজার্ভ জীপে করেও থানচি যেতে পারবেন। থানচি থেকে গাইড নেয়া বাধ্যতামূলক। যাওয়ার পথে থানচি ক্যাম্পে নিজেদের নাম ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত করে নিবেন।
সাকাহাফং পর্বত কোথায় থাকবেন:
বান্দরবানের পাড়াগুলোতে রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে। ক্যাম্পিং করার ইচ্ছা থাকলে তাঁবু নিয়ে যেতে পারেন।
সাকাহাফং পর্বত ভ্রমনে প্রয়োজনীয় টিপস:
সাকাহাফং এর পথ বেশ দুর্গম তাই ট্র্যাকিং সু সম্ভব না হলে প্লাস্টিকের গ্রিপের জুতা, প্রয়োজনীয় ঔষধ, ওডোমাস, ফাস্ট এইড, পর্যাপ্ত খাবার নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন।
পাহাড়ের পথগুলোতে কোনো বোতল, প্যাকেট, প্লাস্টিক ইত্যাদি ফেলবেন না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন