ধুপপানি ঝরনা, রাংগামাটি
থাকে না এমন কিছু সৌন্দর্য, যার দিকে শুধু অদ্ভুত তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়। মনে হয় যেন ওই সৌন্দর্য চোখের পাতা থেকে না সরে যাক, পিপাসা থেকে যায় অনেক।
হ্যা, সেরকম একটি সৌন্দর্যের কথা লিখবো আজ। ধুপপানি ঝর্না! নামটা যতটা সুন্দর ,তার রূপটাও ততই সুন্দর। একে বলা হয়, শ্বেত শুভ্র পানির ঝর্ণা। রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়ি নামক এলাকায় অবস্থিত ধুপপানি ঝর্ণাটি। জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী গভীর অরণ্যে ধুপপানি ঝর্ণার নিচে ধ্যান শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন ধীরে ধীরে ধ্যানরত ওই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকে খেয়াল করে, তিনি দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় বা উপলক্ষ্যে সেখানে ধ্যানে বসতে গেলে এই ঝর্ণাটি জন সম্মুখে পরিচিতি লাভ করে।
কখনও ঝিরি পথ, কখনও ধানক্ষেত, কখনও বা একের পর এক জুম পাহাড়ের পথ ধরে ছুটে চলা। গভীর খাদের ওপর বৃষ্টিতে পিচ্ছিল গাছের গুঁড়ি কিংবা বাঁশের ওপর সাবধানে পা ফেলা। প্রকৃতির বুনো রূপ, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহজ ও সংগ্রামী জীবনযাত্রা দেখতে দেখতে কেটে যাবে প্রায় দুই ঘণ্টার হাঁটা পথ। ততক্ষণে আপনি ভীষণ ক্লান্ত। ঠিক ওই মুহূর্তে সবুজের ভেতর থেকে কানে বাজবে ঝিরঝির শব্দ।
সর্বশেষ পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা যাবে সবুজের ভেতর থেকে দুধসাদা পানির ঝরে পড়া। সেখানেই সৌন্দর্যের সেই ধুপ যাত্রা। ঝর্ণার প্রাকৃতিক পরিবেশটা এখানে বেশ অদ্ভুত। আপনার মনে হবে যেন, আপনি কোনো গ্যালারিতে বসে বুঝি ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন! নিরেট পাথর ভেঙ্গে ভেঙ্গে এখানে গড়ে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যালারি। সামনে তাকালেই দেখতে পাবেন ২০০ মিটার উঁচু থেকে শ্বেত শুভ্রের পানিয়া আছড়ে পড়ছে নিচের পানির ফোয়ারায়। নিচের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই দেখতে পাবেন পানির মাঝেই রংধনুর সাত রং খেলা করছে। ধুপপানি ঝর্ণার নিচে গুহার মতো একটি যায়গা আছে, যেখানে আপনিও চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থেকে সেরে নিতে পারেন প্রাকৃতিক মেডিটেশন, তবে তাতে কিছুটা ঝুঁকি আছে।
যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে শ্যামলী, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি পরিবহনের বাসে করে প্রথমে কাপ্তাই জেটিঘাট নামবেন। সেখান থেকে একটু হেঁটে লঞ্চঘাট থেকে বিলাইছড়ির উদ্দেশে স্থানীয় কিংবা রিজার্ভ ইঞ্জিনচালিত নৌকা পাওয়া যাবে। না হয় ঘোরার সময় মিলাতে পারবেন না। বিলাইছড়ি থেকে ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য নৌকা রয়েছে ।
দরদাম করে উঠে পড়ুন। তবে, যারা স্থানীয় নৌকায় ঘুরতে যাবেন তাদের মনে রাখতে হবে কাপ্তাই থেকে বিলাইছড়ির উদ্দেশে নৌকা ছাড়ে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং সর্বশেষ বিকেল সাড়ে ৪টায়।
জেনে নিন :
বিলাইছড়ি উপজেলাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অংশ হওয়ায় স্থানটিতে বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের মানুষের প্রবেশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্র, কিংবা পাসপোর্টের ফটোকপি, কিংবা যে কোনো পরিচয়পত্র সাথে থাকতে হয়, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রদর্শন সাপেক্ষে ওই সকল এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন