জিংসিয়াম সাইতার : বান্দরবানের রোমাঞ্চকর ঝরনা

ট্রেকিং প্রিয়দের স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত বান্দরবানের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্যময়তা। এই বৈচিত্র্যময়তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ঝরনা এখানে আগত পর্যটকদের তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দিয়ে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। তেমনি এক সুললিত ঝরনাধারা জিংসিয়াম সাইতার। বম ভাষা থেকে আগত শব্দ সাইতার মানে ঝরনা। বর্তমানের রুমানা পাড়ার আগের নাম ছিল সানকূপ পাড়া। রুমা খালের পাড়ে এই পাড়ায় বম সম্প্রদায়ের মানুষেরা বসবাস করত।
এই পাড়ারই জিংসিয়াম নামে এক ষোল বছরের বম বালিকার অকাল মৃত্যুর সাথে জড়িয়ে আছে জিংসিয়াম সাইতারের নাম। জুম থেকে শাকসবজি আনার পথে সে চিরকালের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল এই সাইতারে। এই সাইতারের পানি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বম সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রায় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে বহু আগে থেকে। বান্দরবানের রুমা থানার রুমানা পাড়ার পাশে অবস্থিত তিন ধাপের অনিন্দ্য সুন্দর এই ঝরনা বেশ আকর্ষণীয় এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় তরুণদের কাছে। এই তিন ধাপেই রয়েছে তিনটি বিশাল ঝরনা।

এরমধ্যে পানির তীব্রতার কারণে প্রথম ধাপে যাওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন। জিংসিয়াম সাইতারের তিনিটি ঝরনা, রুমানা পাড়ার একটি ঝরনা সর্বমোট চারটা চাইলে একইসঙ্গে দেখে ফেরা সম্ভব। তবে বান্দরবানে অবস্থিত যে কয়টি ঝরনায় যাওয়া বেশ কঠিন তার মধ্যে জিংসিয়াম একটি। জিংসিয়ামে যাবার দুইটি পথ রয়েছে। এরমধ্যে রুমানাপাড়া থেকে গেলে কুণ্ড এবং দ্বিতীয় ও প্রথম ধাপ দেখে ফিরে যেতে হলেও লুংথাউসিহপাড়া থেকে গেলে সব ধাপ দেখে রুমানাপাড়ায় ফেরা যায়।

ঢাকা থেকে যেতে চাইলে
এস আলম সার্ভিসেস লিমিটেড, শ্যামলী পরিবহন, সাউদিয়া পরিবহনে বান্দরবন যেতে হবে। তারপর চান্দের /লোকাল গাড়িতে রুমা বাজার। অতঃপর বগা লেক হয়ে রুমানা পাড়া,এখান থেকে ৩০/৩৫ মিনিটের পথ পার হলেই দেখা মিলবে এই জিংসিয়াম সাইতারের।

থাকার ব্যবস্থা
বান্দরবানে ঘুরে দেখার জন্য পাহাড়ি এলাকায় বাঙালী গাইডের চেয়ে আদিবাসী গাইড নেয়াই ভাল। দৈনিক ৬০০টাকায় এখানে গাইড মিলে যাবে। সেনাবাহিনী নিরাপত্তার কারণে কেওক্রাডং এর বেশি যেতে দেয় না সাধারণত। এখানে থাকার জন্য আদিবাসীদের বাড়িতে লজিং ব্যবস্থায় থাকা ১৫০ টাকা, খাওয়া ৮০-১২০ টাকা।

এছাড়া সঙ্গে যা রাখতে হবে
সেনাক্যাম্পসে নিবন্ধনের জন্য সাথে রাখতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র, না থাকলে জন্মনিবন্ধন সনদ। এছাড়া পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও পানির বোতল। ঝরনা, ঝিরি, গ্রাম বেশ দূরে দূরে, সেক্ষেত্রে যথেষ্ট পানি ও শুকনা খাবার সঙ্গে রাখতে হবে। মশা, মাছি ও পোকামাকড় তাড়াতে ওডোমস। জোঁকের জন্য লবণ, সরিষার তেল-গুল অথবা কেরোসিন। পাহাড়ি এলাকায় যেকোনো অবস্থা বিবেচনায় ওষুধ রাখতে হবে সাধারণত যা লাগে সেগুলো- ব্যান্ডেজ, তুলা, অ্যান্টিসেপ্টিক। অপচনশীল কিছু ক্যারি করার জন্য পলিথিন নিতে হবে। এছাড়া ট্র্যাকিং এর স্যান্ডেল রুমা থেকে কিনলে পাওয়া যাবে ১২০ টাকায়।

বি:দ্র: যেকোনো জায়গায় গেলে সেখানকার পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয়দের প্রতি সদয় হওয়া আমাদের দায়িত্ব।  

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )