তিনটিলা বন বিহার, রাঙ্গামাটির অন্যতম দর্শনীয় স্থান
সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি রাঙ্গামাটির পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা। চারিপাশ যেন পটুয়ার পটে আঁকা কোন জল রঙের ছবি। কোন উপমা ই যথেষ্ট নয়, যতটা হলে বোঝানো যায় রাঙ্গামাটির অপরূপ সৌন্দর্য। এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভুবন, যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়নাভিরাম দৃশ্যপট।
রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থানের মধ্যে তিনটিলা বন বিহার অন্যতম। রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় অবস্থিত তিনটিলা বনবিহার বৌদ্ধদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় গুরু বনভন্তে প্রথম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। এখানে প্রতিবছর কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিহার এলাকায় নারী-পুরুষের ঢল নামে। বিহার এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুবই মনোমুগ্ধকর। এই বিহারে বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মীয় গুরু শ্রদ্ধেয় বনভান্তে সর্বপ্রথম কঠিন চীবর দানের আয়োজন করেছিলেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। বিহারটিতে অনেক সুন্দর সুন্দর আবাসিক ভবন রয়েছে।
এই ভবনগুলোর নির্মাণশৈলী পর্যটক তথা পূণ্যার্থীদের আকর্ষণ করে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বনভান্তের স্মৃতি মন্দির, উপগুপ্ত ভান্তের মন্দির। এটি লংগদু সদর থেকে সড়ক পথে ১ কিলোমিটার রাস্তা প্রায়। রাঙ্গামাটি সদর হতে লঞ্চযোগে প্রথমে লংগদু যেতে হয়। লঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি হেঁটে ও মোটর সাইকেলযোগে এই বিহারে যাওয়া যায়। উপজেলা সদর হতে এই বিহারের দূরত্ব ১ কিলোমিটার।
যেভাবে যেতে হবে :
ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থান হতে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু রয়েছে। ঢাকা হতে বেশ কয়েকটি বাস প্রতিদিন ছেড়ে যায় রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে। শ্যামলী, সায়দাবাদ, কলাবাগান হতে প্রতিদিনই গ্রীনলাইন, এস.আলম, ইউনিক সার্ভিস বাসগুলো ছাড়ে। এগুলোর মাধ্যমে সরাসরি চলে যেতে পারেন রাঙ্গামাটি। অথবা ঢাকা বা অন্য জেলা হতে বাস, ট্রেনে কিংবা বিমানে করে যেতে পারেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় হতে লোকাল এবং পাহাড়িকা বাস সার্ভিস রয়েছে রাঙ্গামাটি পর্যন্ত। সেগুলোর মাধ্যমেও পৌছতে পারেন রাঙ্গামাটি। তবে সরাসরি বাস সার্ভিসই ঝামেলা ও ঝুঁকিমুক্ত।
যেখানে থাকবেন :
থাকার জন্য রাঙ্গামাটিতে সরকারি-বেসরকারি অনেকগুলো হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু বোর্ডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। বোর্ডিংগুলোতে খরচ কিছুটা কম তবে থাকার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়, মোটামুটি মানের ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন