কুতুবদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার ( Kutubdia dwip, Coxbazar )
কুতুবদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার ( Kutubdia dwip, Coxbazar )
কোলাহলপূর্ণ নাগরিক জীবন থেকে দূরে কোথাও হারাতে ভ্রমণ পিপাসীদের মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। কিন্তু হাতে যে ভ্রমণ তালিকাটা আছে, তার প্রায় সবটুকুই ঘোরা শেষ। ভাবছেন, এবার কোথায় যাওয়া যায়? তাহলে আর দেরি নয়, ঘুরে আসুন কুতুবদিয়া দ্বীপ থেকে। নির্জনে নগর জীবন থেকে দূরে অকৃত্রিম প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এই দ্বীপটি তুলনাহীন। বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কুতুবদিয়ায় আছে দেখার মতো অনেক কিছু। নিভৃতে নিজের মত করে সময় কাটানোর জন্য কুতুবদিয়া আপনার জন্য একটি চমৎকার ভ্রমণ গন্তব্য।
কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলার একটি দ্বীপ উপজেলা। বৈচিত্র্যময় এই দ্বীপটির আয়তন ২১৬ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের মূলভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলে কুতুবদিয়া দ্বীপের অবস্থান। এখানকার নির্জন কোলাহল মুক্ত বালুকাময় বিচ এবং সমুদ্রের গর্জন আপনার মন ভালো করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। কুতুবদিয়ার ২০কিলো লম্বা সী বিচ সম্ভবত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। বিচের সাথে ঝাউবনের অপার সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এখানে নিরাপদে করতে পারেন ক্যাম্পিং, ঝাউবনের পাশে রাতে ক্যাম্পফায়ারের মজাই আলাদা।
কক্সবাজার থেকে চকরিয়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে মগনামা ঘাটে যেতে পারেন কিংবা কক্সবাজার থেকে মহেশখালী নৌপথে গিয়ে মহেশখালী থেকে সড়কপথে মগনামা ঘাট যাওয়া যায়। তারপর মগানামা ঘাট থেকে স্পীড বোট বা ট্রলারে করে যেতে হবে কুতুবদিয়া। আসুন এবার জেনে নেয়া যাক কি কি দেখবেন কুতুবদিয়াতে।
বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুতুবদিয়ায় অবস্থিত। প্রায় এক হাজার কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে সৈকতের দক্ষিণ প্রান্তে, আলী আকবরের ডেল এলাকায়। দেখতে ভুল করবেন না দেশের বড় এই বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
বাতিঘর বিট্রিশ আমলে সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজের নাবিকদের পথ দেখাতে কুতুবদিয়ায় তৈরি করা হয়েছিল একটি বাতিঘর। ব্রিটিশ ক্যাপ্টেন হেয়ারের তত্ত্বাবধানে ও ইঞ্জিনিয়ার জে এইচ টুগুডের নির্দেশনায় কুতুবদিয়ার বাতিঘরটি নির্মিত হয়। দক্ষিণ ধুরং ইউনিয়নের আলী ফকির ভেইলে পশ্চিম সমুদ্র উপকূলে নির্মিত এ বাতিঘর ১৮৯৭ সালের প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সমগ্র লাইট হাউস নড়বড়ে হয়ে যায়। পুরানো সেই বাতিঘর সমুদ্রে বিলীন হয়েছে বহু আগে। তবে এখনও ভাটার সময় সেই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ কখনও কখনও জেগে উঠতে দেখা যায়।পুরানো বাতিঘরের এলাকায় পরে যে বাতিঘর তৈরি করা হয়েছিল সেটিই এখন নাবিকদের পথ দেখায়। বড়ঘোপ বাজার থেকে সমুদ্র সৈকত ধরে উত্তর দিকে কিছু দূর গেলে বর্তমান বাতিঘরের অবস্থান। প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী এই বাতিঘর অনন্য এক নিদর্শন।
কুতুব আউলিয়ার দরবার দ্বীপের ধুরং এলাকায় রয়েছে কুতুব আউলিয়ার দরবার শরীফ। এই দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবী। তিনি এখানেই জন্মগ্রহণ করেন ১৯১১ সালে। ২০০০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে তিনি মারা যান। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে (৭ ফাল্গুন) হাজারও ভক্তের সমাগম ঘটে এখানে। কথিত আছে কুতুবদিয়ার নামকরণ হয়েছে কুতুব আউলিয়ার পূর্বপুরুষদের নামানুসারেই। বর্তমানে কুতুব শরীফ দরবারের দায়িত্বে আছেন তাঁরই পুত্র শাহজাদা শেখ ফরিদ।
লবণ চাষ শীতে কুতুবদিয়ার জমিতে চাষ হয় লবণ। এ সময়ে সেখানে গেলে দেখা যাবে মাঠে মাঠে কৃষকদের লবণ চাষের ব্যস্ততা। দ্বীপের সর্বত্রই কম-বেশি লবণের চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি লবণের মাঠ তাবলের চর, কৈয়ার বিল, আলী আকবরের ডেল-এ রয়েছে। প্রাকৃতিক উপায়ে লবণ উৎপাদনের নানান কৌশল দেখা যাবে এখানে। লবণ উৎপাদনের এই দৃশ্য সত্যিই উপভোগ্য।
যেভাবে পৌঁছবেন চকরিয়া:
ঢাকা থেকে কক্সবাজার গামী বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। এদের মধ্যে সৌদিয়া, এস আলম এর মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসকল বাসে করে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নামতে হবে কক্সবাজারের আগেই চকরিয়াতে।
যেখানে থাকবেন:
কুতুবদিয়া দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য মানসম্মত একমাত্র আবাসন ব্যবস্থা হল হোটেল সমুদ্র বিলাস। সমুদ্র লাগোয়া এই হোটেলে বসে উপভোগ করা যায় সমুদ্রের সৌন্দর্য।
এছাড়া ক্যাম্পিং করেও থাকতে পারেন। নিরিবিলি এই সৈকতের কাছে ক্যাম্পিং করার জন্য নিরাপত্তা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবেনা।
ভ্রমণ টিপস:
১. কুতুবদিয়া দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। জেনারেটর ও সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে এখানকার বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে। তাই সঙ্গে করে পাওয়ার ব্যাংক নিতে ভুলবেন না।
২. সৈকতে জোয়ার ভাটা চিহ্নিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই নিজ দায়িত্বে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে সমুদ্র স্নানে নামবেন। ভাটার সময় সমুদ্রে নামা বিপজ্জনক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন