কাট্টলী সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রাম
সুনীল সাগরের সৌন্দর্য দুর্নিবার আকর্ষণে টানে সকল ভ্রমণ প্রেমীদের। তাই সকল ব্যস্ততাকে পিছনে ফেলে তারা ছুটে যায় সমুদ্রের কোলে। সমুদ্রের জলে শ্রান্ত মন-প্রাণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত বলতে আমরা কক্সবাজার, পতেঙ্গা বা কুয়াকাটাকেই বুঝি। তবে এর বাহিরেও যে আরো বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। এমন একটি নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত হল চট্টগ্রামের কাট্টলী সমুদ্র সৈকত। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এই সৈকতটি এখনো অনেক পর্যটকদের অগোচরে রয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে পাহাড়তলি থানার সাগরিকা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পাশে এ সৈকতটির অবস্থান। এই সৈকতটির আরেকটি নাম হল জেলেপাড়া সমুদ্র সৈকত। সৈকতটির নৈসর্গিক সৌন্দর্য সহজেই বিমোহিত করে প্রকৃতি-প্রেমীদের। একদিকে সমুদ্র সৈকত আর অন্যদিকে গ্রামীণ পরিবেশ অন্য কোন সৈকতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সৈকতটির আরেকটি নাম সাগরিকা সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম শহর থেকে টোল সড়ক ধরে সহজেই পৌঁছুতে পারবেন এখানে।
যারা জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসেন তাদের জন্য এই সমুদ্র সৈকতটি একটি আদর্শ ভ্রমণ স্পট। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মৃদুমন্দ বাতাস, সাম্পান নৌকা, জেলেদের মাছ ধরা আর তাদের জীবনযাপন আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে এখানকার কেওড়া বনে প্রচুর পাখি দেখে। এই কেওড়া বনের ভিতরে বসে সাগরের মৃদু হাওয়া আর গর্জন শুনে কাটিয়ে দেয়া যায় একটা দিন। এখানকার সমুদ্র সৈকতে সামুদ্রিক পাখি ছাড়াও ঘুঘু, কাঠ, শালিক, দোয়েল, ভাট শালিক, খঞ্জনা এমন সব পাখিদের ব্যাপক বিচরণ রয়েছে। আর সন্ধ্যার সূর্যাস্ত আপনাকে মোহাবিষ্ট করে রাখবে। দিগন্ত জুড়ে সোনালি আলোকছটা আপনার দৃষ্টিতে আভা ছড়াবে। এমন নিরিবিলিতে সূর্যাস্ত হয়তো আপনি আর কোথাও দেখতে পারবেন না। সৈকতের খুব কাছেই গড়ে উঠেছে জেলে পাড়া। জেলেদের মাছ ধরা আর তাদের জীবনযাপন আপনাকে মুগ্ধ করবে।
উড়ি ঘাসের সবুজ সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন, আঁকাবাঁকা খাল, পাখির ঝাঁক, ডিঙ্গি নৌকা, জাল টানা জেলে সব মিলিয়ে এ যেন কল্পনার বুকে আঁকা এক নিখুঁত ছবি। এখানে সন্ধ্যা হলে তারার মত জ্বলে উঠে সাগরের বুকে জাহাজ গুলো। এই সৈকতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শান্ত সৌম্য সৌন্দর্য। এই নির্জন সমুদ্র সৈকতে সান্ধ্য-কালীন নিস্তব্ধতা আপনাকে নিয়ে যাবে ধ্যানের গভীরে। কাট্টলী সমুদ্র সৈকত রানি রাসমণি বারুণী ঘাটে অসংখ্য পুণ্যার্থীর ঢল নামে। ওঁ সাধ্যাপতকহন্দ্রী সর্ব দুঃখ বিনাশিনী, সুখদা মোক্ষদা গঙ্গা গঙ্গৈব পরমগতি এ মন্ত্র পাঠ করে প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের পুণ্যার্থী নর-নারী রানি রাসমণি বারুণী স্নানঘাট এলাকায় পাপমুক্তির প্রত্যাশায় পুণ্যতোয়া বঙ্গোপসাগরে স্নান করে।
কাট্টলী সমুদ্র সৈকত কিভাবে যাবেন:
ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোন বাসে করেই সীতাকুণ্ড যেতে পারেন। এস আলম, শ্যামলী, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা, সোহাগ টি আর প্রভৃতি এসি ও নন-এসি বাস চট্টগ্রাম যায় প্রতিদিন। ভাড়া পড়বে ৪২০ থেকে ১১০০ টাকা। এরপর চট্টগ্রাম শহর হতে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে পাহাড়তলি থানায়। ব্যক্তিগত গাড়ী কিংবা সিএনজি বা মাইক্রোবাসে আসতে পারেন । পাহাড়তলি হতে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের পাশ ঘেঁসে আসতে হবে টোল সড়কে। টোল সড়কের পাশেইপেয়ে যাবেন কাট্টলী সৈকত। অথবা আপনি শহর হতে টোল সড়ক ধরেও আসতে পারেন কাট্টলী সমুদ্র সৈকতে।
কাট্টলী সমুদ্র সৈকত কোথায় থাকবেন:
পাহাড়তলিতে কিছু হোটেল রয়েছে। চাইলে সেগুলোতে থাকতে পারেন। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে নানান মানের হোটেল আছে । যে কোনো একটায় দরদাম করে থাকতে পারেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন