শৈলপ্রপাত ঝর্ণা - বান্দরবান
শৈলপ্রপাত ঝর্ণা - বান্দরবান
রূপের রাণী পাহাড়ি জেলা বান্দরবান এর রূপের জাদুর যেন শেষ নেই। প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে এখানে মেলে ধরেছে তার সৌন্দর্যের মায়াজাল। এক নিরন্তর সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যতায় সর্বদাই মোহের জালে আটকে রাখে ভ্রমণ পিপাসুদের। বান্দরবানের পাহাড়, ঝর্ণা, লেক সবকিছুতেই রয়েছে বর্ণিল সৌন্দর্যের ছোঁয়া। পাহাড়ি ঝর্ণার সৌন্দর্যে যারা মুগ্ধ হতে ভালোবাসেন তাদের জন্য বান্দরবান আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য। এখানে সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে অন্তর্বিহীন নিস্তব্ধতায় ঝরে পড়ে ঝর্ণার প্রবাহ। এখানকার ঝর্ণাগুলোর সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে নিমিষেই। বান্দরবানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঝর্ণা হল শৈলপ্রপাত। বান্দরবান যাবেন অথচ শৈলপ্রপাত দেখবেন না তা কি হয়!
বান্দরবানের রুমা সড়কের ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব সৃষ্টি এই শৈলপ্রপাত ঝর্ণা। ঝর্ণার হিমশীতল প্রবাহ এখানে সর্বদা বহমান। কূল কূল শব্দে বয়ে চলা জলের স্বচ্ছ ও শীতল ধারা ঠিক এভাবেই বয়ে চলছে অনেক কাল ধরে। এই ঝর্ণার হিম শীতল জলে অবগাহন করে এক রাজ্যসম প্রশান্তির পরশ পাবেন নিমিষেই।পাহাড়, ঝর্ণা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রা এসব কিছুই আপনি একসাথে দেখতে পাবেন শৈলপ্রপাতে। এখানে পাহাড়ের পাদদেশে ঝর্ণার পাশে পিকনিক করার উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। চাইলে সদলবলে করে ফেলতে পারবেন পিকনিকের আয়োজন।
শৈলপ্রপাতে সৌন্দর্য একেক মৌসুমে একেক রকম থাকে। বর্ষায় এই শৈলপ্রপাতের রূপ হয়ে ওঠে অপরূপা, বিশাল জলধারা ছটে চলে প্রচণ্ড গতিতে। সেই সময় এর কাছে জায়গাটা কষ্টসাধ্য ও ভয়ংকর। পুরটা দেখার সুযোগই থাকে না তখন। পাথর থাকে মারাত্মক পিচ্ছিল। তাই অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলতে হবে আপনাকে। এছাড়া শীতের সময়েও শৈলপ্রপাতে পর্যটকদের আনাগোনা বেশ লক্ষ্য করা যায়। এই ঝর্ণাটি মূল সড়ক থেকে অনেক নিচে। এজন্য সিঁড়ি করে দেয়া হয়েছে। প্রায় ৬০ টি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আপনাকে দেখতে হবে ঝর্ণাটি।
শৈলপ্রপাত গেলেই আপনার চোখে পড়বে বম উপজাতীয়দের বিচিত্র জীবনধারা। তাদের হাতে বোনা চাদর, মাফলার, বেডশিটসহ বেত ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র পাওয়া যায়। বম নারী-পুরুষেরা শৈলপ্রপাতকে ঘিরে এসব জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসে। কম মূল্যে কিনে নিতে পারবেন চমৎকার সুন্দর এই জিনিসগুলো।
বমদের উৎপাদিত মৌসুমি ফলমূল এখানে সবসময় পাওয়া যায়। শৈলপ্রপাতের আশপাশেই দেখতে পাবেন বিভিন্ন রকম পাহাড়ি ফলের দোকান। এ ফলগুলোর স্বাদ অসাধারণ। সবচেয়ে মজা পাবেন উপজাতিদের আনারস কেটে বিক্রি করার ধরন দেখে। এমনভাবে আনারস কেটে দেবে যে আপনাকে খাওয়ার জন্য আলাদা প্লেটের প্রয়োজন হবে না। আনারসের ডাটা হাতে রেখেই গোটা আনারস খেয়ে ফেলতে পারবেন।
শৈলপ্রপাত ঝর্ণা যেভাবে যাবেন:
দেশের যেকোন জেলা থেকেই বান্দরবানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল। ঢাকার কলাবাগান, সায়দাবাদ এবং ফকিরাপুল থেকে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এস আলম, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর যেকোন একটি বাসে চড়ে সহজেই বান্দরবানের আসতে পারেন। এসব নন-এসি ও এসি বাসের জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘণ্টা।
এছাড়া মহানগর, তূর্ণা কিংবা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে প্রথমে চট্টগ্রামে তারপর সোজা বান্দরবানে চলে যেতে পারেন। চট্টগ্রাম শহরের বদ্দারহাট থেকেও পূবালী ও পূর্বানী পরিবহনের নন-এসি বাস ৩০ মিনিট পরপর বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বান্দরবান শহর থেকে ট্যাক্সি, সিএনজি, চাঁদের গাড়ি, কিংবা প্রাইভেট কার বা জিপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাত এ যাওয়া যায়। শহর থেকে জিপ গাড়িতে ৬০০-৭০০ টাকা এবং চাঁদের গাড়িতে ৪৫০-৫০০ টাকা লাগবে।
শৈলপ্রপাত ঝর্ণা যেখানে থাকবেন:
বান্দরবানে অসংখ্য রিসোর্ট, হোটেল, মোটল এবং রেস্টহাউজ রয়েছে। যেখানে ৬’শ থেকে ৩ হাজার টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন ।
১।।হলিডে ইন রিসোর্ট : মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সের বিপরীতে ছোট্ট পাহাড়ের চূড়ায় হলিডে ইন রিসোর্ট।
২। হিলসাইড রিসোর্ট : বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের মিলনছড়িতে এই রিসোর্টটি অবস্থিত ।
৩।হোটেল ফোর স্টার : বান্দরবান শহরে অবস্থিত হোটেল ফোরস্টার ।
৪।হোটেল থ্রি স্টার: এটি বান্দরবান বাস স্টপের পাশে অবস্থিত ।
৫। হোটেল রিভার ভিউ : জেলা শহরের মধ্যে সাঙ্গু নদীর পার্শ্ববর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে হোটেল রিভার ভিউ ।
এছাড়া আপনি চাইলে নীলাচল স্কেপ রিসোর্টে থাকতে পারেন । নীলাচল স্কেপ রিসোর্টে তিনটি কটেজে ছয়টি কক্ষ আছে । প্রতিটি কক্ষের ভাড়া ৩ হাজার টাকা। এছাড়া রিসোর্টের অতিথিদের জন্য ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন কর্তৃপক্ষ ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন