ডিসি বাংলো, রাঙ্গামাটি
পাহাড়ি কন্যা রাঙামাটির সর্বত্রই রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি। শহরের কালো ধোঁয়া থেকে দূরে চলে গিয়ে প্রশান্তির নিঃশ্বাস নিতে তাই ভ্রমণ পিপাসুরা ছুটে যায় রাঙামাটির কোলে। গহীন অরণ্য,পাহাড়ি প্রকৃতির অমোঘ রূপ, সবুজ অরণ্যে ঢাকা পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা স্রোতধারা, ঝুলন্ত সেতু রাঙামাটিকে করেছে অনন্য। রাঙামাটির অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হল রাঙামাটির ডিসি বাংলো। কালের ঐতিহ্য ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাংলোটি দারুণ একটি বেড়ানোর জায়গা। আপনার রাঙামাটি ভ্রমণে সপরিবারে ঘুরে আসতে পারেন এই বাংলো থেকে। রাঙামাটি জেলার ডিসি বাংলো-টি রাঙ্গামাটি সদরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর একটি বাংলো। এই জেলা প্রশাসকের বাংলোটি কাপ্তাই লেকের কাছেই অবস্থিত।
রাঙামাটির ডিসি বাংলোতে কি কি আছে
এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের বাংলোটি আজো কালের ঐতিহ্যকে ধারণ করে স্ব-মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। এই বাংলোতে দেখার মত অনেক কিছু রয়েছে। বাংলোর ভিতরে “কোচপানা” নামে একটি জায়গা আছে। মূল বাংলো হতে এ অংশটি বিচ্ছিন্ন। মূল বাংলোর সাথে একটি নয়নাভিরাম ব্রিজের মাধ্যমে কোচপানা সংযুক্ত। এ জায়গাটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এই রঙিন ব্রিজ থেকে পড়ন্ত বিকেলে কিংবা শিশিরভেজা ভোরে অথবা পূর্ণিমা রাতে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য স্বর্গীয় বলে অনুভূত হয়। শীতকালে এই বাংলো থেকে অতিথি পাখি দেখা যায়। হ্রদের বুকে উড়ে যাওয়া ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির সৌন্দর্য সত্যি মনোমুগ্ধকর। এই বাংলোতে রয়েছে একটি যাদুঘর। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ঐতিহ্য এতে সংরক্ষিত আছে। এছাড়া এখানে একটি ছোট বাতিঘর এবং স্থানীয়দের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
ডি সি বাংলোর বাইরে রয়েছে একটি পার্ক। এই পার্কে রয়েছে একটি ঘাট ও বসার জায়গা। এখান থেকে কাপ্তাই হ্রদের সৌন্দর্য আরো ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। এই পার্কের প্রবেশধারে রয়েছে কালের সাক্ষী হয়ে থাকা ৩১৪ বছরের ১০৩ ফুট দৈর্ঘ্য ২৫ফুট পরিধির বিশাল চাপালিশ গাছ। এখানে আগত পর্যটকদের অবসন্ন মনে প্রশান্তি দিতে এবং নয়নাভিরাম নির্মল পরিবেশে অবকাশ যাপনের জন্য এই মনোমুগ্ধকর পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে এই পার্কটিতে শিশুদের কিছু নতুন রাইড ও খেলনা এবং একটি রেস্টুরেন্টের সংযোজন করা হয়েছে। এই রেস্টুরেন্টে থাকছে ভোজন রসিকদের জন্য দেশী-বিদেশী ফাস্ট-ফুড ও স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক নানান খাবার। যেকোন সময় আপনি এই ঐতিহ্যবাহী অপরূপ সৌন্দর্যের ডিসি বাংলো ঘুরে আসতে পারেন। তবে এখানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে।
যেভাবে যাবেন:
ঢাকার ফকিরাপুল মোড় ও সায়দাবাদে রাঙামাটি গামী অসংখ্য এসি ও নন-এসি বাস রয়েছে। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে হানিফ, শ্যামলী, এস আলম, ইউনিক, সৌদিয়া ইত্যাদি। এসব বাসে চেপে যেতে হবে রাঙামাটি শহর। রাঙামাটি শহরের যে কোন জায়গা হতে অটোরিক্মা বা নৌপথে ডিসি বাংলোতে যেতে পারবেন।
যেখানে থাকবেন:
রাঙামাটিতে অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রেস্ট-হাউজ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল গোল্ডেন হিল, হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, হোটেল লেক ভিউ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি ইত্যাদি।
হাতে সময় থাকলে কষ্ট করে ভিজিট করে আসতে পারেন আমার অন্য ব্লগ থেকে
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন