ইনানী বীচ, কক্সবাজার ( Inani beach, Coxbazar )
ইনানী বীচ, কক্সবাজার ( Inani beach, Coxbazar )
সকল ভ্রমণ প্রেমীদের অবকাশ যাপনের সবচেয়ে প্রিয় গন্তব্য স্থল হল সমুদ্র সৈকত। নাগরিক দৌড়-ঝাপে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, তখন ছুট পেলেই সুনীল সাগরের জলে পা ভেজানোর সুযোগ কেইবা হাতছাড়া করে। সাগর পাড়ে নিবিড় প্রশান্তিতে অবকাশ যাপনের জন্য কক্সবাজারই সবার প্রথম পছন্দ।কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সৌন্দর্য প্রেমীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রিয় সৈকত হল ইনানী সমুদ্র সৈকত বা ইনানী বিচ। কোরাল পাথর ঘেরা এক অপূর্ব সৈকত এই ইনানী বিচ। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সারি সারি পাথরের মেলা। পাথরগুলো একবার সমুদ্রের জলে ডুব দেয় আবার যেন ভেসে ওঠে। কোন কোন সময়ে পাথরের উপর দাঁড়ালে মনে হবে যেন সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে। সে এক অপার্থিব অনুভূতি। পাথরগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে অস্তগামী সূর্যের সৌন্দর্য কল্পনাকেও হার মানায়। গোধূলি বেলার রক্তিম আভা ও বীচের রঙ যখন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন চারপাশের সৌন্দর্য দেখে মনে হয় যেন মুঠো মুঠো সোনা ছড়িয়ে আছে পুরো সৈকত জুড়ে।
কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ও হিমছড়ি থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রবাল গঠিত সমুদ্র ইনানীর অবস্থান। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে ছোট বাস, অটোরিকশা, সিএনজি, বা জীপে করে চলে যেতে পারেন ইনানীতে। একটি জীপে ১০-১৫ জন যাওয়া যায়।
আপনি যদি টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইনানী সৈকতে যান তবে যাবার পথে আপনার দু চোখ জুড়িয়ে দেবে উঁচু উঁচু পাহাড় আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ। পুরো সময়টা আপনি থাকবেন এক ধরণের সুন্দর দোটানায় । এক পাশে পাহাড় আরেক পাশে সাগর। কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবেন। মন চাইবে দুপাশের সৌন্দর্য একসাথে দেখতে। ক্ষিপ্রগতিতে যখন জিপ ছুটে চলে খোলা জিপের উপর দাড়িয়ে দুপাশে তাকালে মনে হবে যেন স্বপ্নে দেশে ভেসে যাচ্ছেন। এটি হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। এরপর বেশ উঁচু একটা ব্রিজ পার হয়ে শুরু হবে হিমছড়ির রাস্তা।
রাস্তার একপাশে থাকবে উঁচু পাহাড় আরেক পাশে সাগর। নানা রকম পাখির কলতান শুনতে শুনতে আপনি রোমাঞ্চিত হবেন। পাহাড়ে নানা রকম ঝোপঝাড়ের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্র সৈকত পাড়ে দেখা যায় সুদূর ঝাউ গাছের সারি। মাঝে মাঝে নারিকেল গাছের এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যের ভিন্ন এক মাত্রা যোগ করে। জায়গায় জায়গায় দেখবেন পাহাড়ি ছোট ছোট ঝরনা। শুকনা মৌসুমে হয়তো সবটাতে পানি দেখবেন না। রাস্তার ওপর পাশে সাগর। মাঝে মাঝে দেখবেন জেলে নৌকা বালির উপর সারি করে রাখা আছে।
সৈকতে পৌঁছে এর সৌন্দর্য দেখে আপনি মুগ্ধ হবেনই। এ সমুদ্র সৈকতটির সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতের। ইনানী সৈকতে দাঁড়িয়ে যে কেউ ভুল ভেবে বসতে পারেন এটিকে সেন্টমার্টিন ভেবে। চমৎকার ছিমছাম, নিরিবিলি। সাগর পাড়ে বালির উপর বিস্তীর্ণ জুড়ে ছড়িয়ে আছে শত শত বছরের পুরাতন পাথর। সাগরের ঢেউগুলো প্রবালের গায়ে আঘাত লেগে পায়ের কাছে আছড়ে পড়ে। স্বচ্ছ জলের তলায় দেখা যায় বালুর স্তর। ভাগ্য ভাল হলে পেয়ে যেতে পারেন হরেক রকম মাছের ছুটোছুটি। এখানে স্বচ্ছ জলের বুকে জলকেলিতে মেতে উঠার মজাই আলাদা।
এখানে বিস্তীর্ণ বালুকা বেলায় ছুটে বেড়ায় হাজারো লাল কাঁকড়ার দল। পড়ন্ত বিকেলে কাঁকড়াগুলো যেন অস্তগামী সূর্যকে বিদায় জানানোর জন্য ছোটাছুটি করে। ইনানী যেতে হবে অবশ্যই জোয়ার ভাটার হিসেব করে। কেননা জোয়ারের সময় গেলে সৈকতের এসব প্রবাল পাথর দেখতে পাবেন না। তাই যেতে হবে ভাটার সময়। এক্ষেত্রে খুব সকাল সকাল যাওয়াটাই শ্রেয়।
ইনানী বীচ কিভাবে যাবেন ?
ঢাকা থেকে কক্সবাজার গামী বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস রয়েছে। এদের মধ্যে সৌদিয়া, এস আলম এর মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম হয়ে আপনি কক্সবাজার যেতে পারেন। আর যদি বাজেট বেশি হয়ে থাকে তবে কক্সবাজার যেতে আকাশপথ বেছে নিতে পারেন। রিজার্ভ জীপ নিলে ভাড়া পড়বে ১৮০০-২৫০০ টাকা। দু-তিনজন হলে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়েও যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে সারাদিনের জন্য ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০ টাকা।
ইনানী বীচে কোথায় থাকবেন ?
কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য অসংখ্য আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। ঢাকা থেকেই ফোন দিয়ে বুকিং দিতে পারবেন। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মোটেল শৈবাল, তারকা মানের সিগাল হোটেল, হোটেল সী-প্যালেস, হোটেল সী-ক্রাউন, হোটেল ওশান প্যারাডাইজ লি:, হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি। এছাড়াও কক্সবাজারে কম মূল্যের অনেক হোটেল রয়েছে থাকার জন্য।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন