বাওয়াছড়া লেক, মিরাসরাই ( Bawachora Lake )
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার চট্টগ্রামের মিরাসরাই উপজেলা। যেখানে গিরি-নদীর মিলনস্থলে ছায়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে নীলাকাশ। ঠিক যেন শিল্পীর কল্পনার তুলতে আঁকা নিখুঁত কোনো ছবি।
মিরাসরাইয়ের রূপের পসরার অন্যতম এক অনুষঙ্গ হল বাওয়াছড়া লেক। ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ার কলকল ধ্বনি, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহে অতিথি পাখিদের কলতান। এমন পরিবেশে কার না মন জুড়াবে। যেকোন পর্যটক মুগ্ধ হবেন বাওয়াছড়া দেখে। সে যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য। দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড়।
সাঁ সাঁ শব্দে উঁচু পাহাড় থেকে অবিরাম শীতল পানি গড়িয়ে পড়ছে লেকে। মেঘের মতো উড়ে আসা শুভ্র এ পানি আলতো করে ছুঁয়ে দেখলেই এর শীতল পরশে মুহূর্তে ক্লান্তি সব ভুলে যাবেন। অবিরাম ঝরে পড়া পাহাড়ের এই স্রোতধারা যে কারো মনে নাড়া দেবে। মন চাইবে একটু স্পর্শ করে যাই এই শীতল প্রবাহ।
মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ছোটকমলদহ বাজারের দক্ষিণ পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার পূর্বে বাওয়াছড়া লেকটির অবস্থান। বাওয়াছড়া লেকটি মিরসরাই এর ওয়াহেদপুর গ্রামের বারমাসি ছড়ার মুখে অবস্থিত বলে লেকটির নামকরণ করা হয়েছে বাওয়াছড়া লেক। নীল আকাশের বিশালতার নিচে সবুজের সমারোহ। এ যেন প্রকৃতির লীলাখেলা। দুই পাশে থাকা বনাঞ্চলের দিকে তাকালে সহজেই দেখতে পাবেন অনেক জীব বৈচিত্র্য। দেখতে পাবেন লাল আর নীল রঙের ফড়িঙের মিছিল!
এখানে রয়েছে একটি ঝিরিপথ।যত দূর পর্যন্ত ঝিরিপথ গেছে তত দূর পর্যন্ত মনমাতানো ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন শোনা যায়। চলার পথে শোনা যায় হরিণের ডাক। অচেনা পাখিদের ডাক, ঘাসের কার্পেট বিছানো উপত্যকার সাথে। এই লেকের ঝর্ণার পানিতে গোসল করার লোভ সামলানো কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। এই ঠাণ্ডা পানিতে তাই নেমে পড়তে পারবেন। যেহেতু লেকের পানি তেমন গভীর নয় তাই ডুবে যাবার ভয় নেই। যান্ত্রিক জীবনের সকল অবসাদ ধুয়ে মুছে নিজেকে স্নিগ্ধ করে তুলতে পারবেন বাওয়াছড়ার ঝর্ণাধারায়। এখানে সকালের মিষ্টি রোদ আলো ছড়ায় আর অস্তগামী সূর্য লালিমা মেখে দেয় দিগন্ত জুড়ে। স্বর্ণালি স্বপ্নের মতোই তখন পুরো লেক সোনালী রূপ ধারণ করে। তাই পড়ন্ত বিকেলে এখানে এক মোহনীয় সময় পার করতে পারবেন।
অনেকে রাতের বেলায় চাঁদের আলোয় ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বাওয়াছড়া পাহাড়ের পাদদেশে ক্যাম্পিং করে অবস্থান করছেন। জ্যোৎস্না রাতের রূপালী আভার সাথে ঝর্ণার নূপুর ধ্বনি এক অপার্থিব রাতের সৃষ্টি করে এখানে।
বাওয়াছড়া লেক কিভাবে যাবেন:
ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ, মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম গামী যেকোন বাসে করেই চট্টগ্রাম যেতে পারেন। এস আলম, শ্যামলী, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা, সোহাগ টি আর প্রভৃতি এসি ও নন-এসি বাস চট্টগ্রাম যায় প্রতিদিন। ভাড়া পড়বে ৪২০ থেকে ১১০০ টাকা। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার ছোটকমলদহ বাজারের দক্ষিণ পাশে নেমে মাত্র দেড় কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে বাওয়াছড়া প্রকল্পের অবস্থান।
বাওয়াছড়া লেক কোথায় থাকবেন:
মিরাসরাই বা ছোটকমলদহে থাকার কোনো হোটেল নেই। তাই আপনাকে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসতে হবে। চট্টগ্রামে নানান মানের হোটেল আছে । নীচে কয়েকটি বাজেট হোটেলে নাম ঠিকানা দেয়া হলো :
হোটেল প্যাররামাউন্ট, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম।
হোটেল এশিয়ান এসআর, স্টেশন রোড, চট্টগ্রাম।
হোটেল সাফিনা, এনায়েত বাজার, চট্টগ্রাম।
হোটেল নাবা ইন, রোড ৫, প্লট-৬০, ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।
হোটেল ল্যান্ডমার্ক, ৩০৭২ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন