একা ভ্রমণের উপকারিতা
Pic - Unsplash
আমরা হয়তো একা ভ্রমণ করতে চাই না। কিন্তু একাকি ভ্রমণের আলাদা মজা রয়েছে। এতে রয়েছে শিনীয় নানা বিষয়ও। আমেরিকান দার্শনিক ও কবি হেনরি ডেভিড থোরাও বলেছিলেন, যে মানুষ একাকী যাবেন, তিনি আজই যাত্রা শুরু করতে পারেন। আর যিনি অন্য কারো সঙ্গে ভ্রমণ করেন, তাকে অপরের প্রস্তুতির অপোয় থাকতে হবে। তাই একাকি ভ্রমণ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি এনে দেবে।
আপনি ঠিক যা করতে চাইছেন, তাই করতে পারবেন। এর চেয়ে মজার ঘোরাঘুরি আসলে আর হয় না। কোনো ধরনের বাধা আর আপনার উপর কাজ করবে না। নিজের পছন্দমতো স্থানে, পছন্দসই উপায়ে থেকে-খেয়ে আপনি দিব্যি ভ্রমণ করে আসতে পারবেন।
একা ভ্রমণ করার কয়েকটি উপকারিতা
১. আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
একা ভ্রমণ করলে আপনার আত্মবিশ্বাসের মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বাড়বে। ভ্রমণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন পর্যন্ত বহু বিষয় আছে, যা আপনাকে একাই করতে হবে। আর এ কাজ করতে গিয়ে আপনি যে অভিজ্ঞতা লাভ করবেন, তাতে ভবিষ্যতে আপনার আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বেড়ে যাবে।
২. অনেক বিষয় না ভাবলেও চলে
বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের সদস্য, যার সঙ্গেই ঘুরতে যান না কেন, তাতে আপনার স্বাধীনতা অনেকখানি কমে যায়। যখন ইচ্ছে তখন বের হতে পারবেন না, যেখানে ইচ্ছে সেখানে যেতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। কারণ এসব েেত্র আপনার সঙ্গীদের প্রভাব মেনে নিতেই হবে। আর যদি আপনি একা বের হন তাহলে এসব বিষয় নিয়ে না ভাবলেও চলবে।
৩. বোঝাপড়ার প্রয়োজনহীনতা
অন্যদের সঙ্গে ভ্রমণে গেলে আপনার তাদের মনমতো চলতে হবে, এটা মেনে নিতেই হবে। আর এজন্য প্রয়োজন হয় ভ্রমণসঙ্গীদের সঙ্গে যথাযথভাবে বোঝাপড়া করা। কিন্তু আপনি যদি একা ভ্রমণ করতে যান, তাহলে এসব বিষয় নিয়ে না ভাবলেও চলবে।
৪. নিজের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসা
যারা নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর থাকেন, তারা অনেকেই এর বাইরে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন না। কিন্তু এ সীমা লংঘন করা অনেকের জন্যই বয়ে আনতে পারে অনাবিল আনন্দ আর স্বাধীনতার আস্বাদ। এ বিষয়টির জন্যই প্রয়োজন নিজের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসা।
৫. খুটিনাটি ল্য করা
ভ্রমণে অনেক খুটিনাটি বিষয়ে ল্য করতে হয়, যা সাধারণত অনেক মানুষের সঙ্গে থাকলে করা হয় না। এ বিষয়গুলোর মাঝে অনেক কিছু শেখার আছে। আর একা ভ্রমণ করলেই তা শেখা সম্ভব।
৬. অন্যদের তাক লাগিয়ে দেওয়ার সুযোগ
আপনার প্রতি অন্যরা যে দৃষ্টিতে দেখে, সে দৃষ্টি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন একাকি ভ্রমণ করা। আর একাকি ভ্রমণের এ অভিজ্ঞতা অন্যরা আপনার কাছ থেকে যখন জানতে চাইবে তখনই তা পূর্ণতা পাবে।
৭. সতর্ক হওয়ার শিক্ষা
একাকি ভ্রমণে আপনাকে থাকতে হবে সতর্ক। আর এ বিষয়টি ভ্রমণের পর আপনার শিা হয়েই থেকে যাবে।
শুরু হোক তবে একাকি ভ্রমণ:
একাকী ভ্রমণই সবচেয় বেশি রোমাঞ্চকর, উত্তেজনাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। নজর দিন বিষয়গুলোর দিকে।
১. ঠিক করুন কোথায় যাবেন?
নতুন স্থান আবিষ্কারের মতোই নিজেকে আবিষ্কারের সুযোগ মিলবে একাকি ভ্রমনে। তাই এমন একটি স্থান নির্বাচন করুন যেখানে খুব কম মানুষ যায় প্রকৃতির মাঝে নিজেকে একা করে ফেলুন। জনপ্রিয় পর্যটকপূর্ণ অঞ্চলে না যাওয়াই ভালো।
২. গাইড বুক সঙ্গে নিন
যেখানে যাচ্ছেন সেখানে আপনার কোনো সঙ্গী নেই। কাজেই সবকিছু একাই করতে হবে। ওই স্থান সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহ করুন। একটি মানচিত্র নিন। ইন্টারনেট ঘাঁটুন আর ওই স্থান সম্পর্কে বিভিন্ন বই পড়ুন। পরিষ্কার ধারণা নিয়ে নিন।
৩. পরিবারকে বোঝান
আমাদের অঞ্চলে একাকী ভ্রমণ খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। সবাই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়েই ঘুরতে যান। তাই আপনার পরিবার হয়তো একাকি যেতে দিতে চাইবে না আপনাকে। এ েেত্র তাদের রাজি করান। গোটা পরিকল্পনা আর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করুন তাদের কাছে। নয়তো তাদের দু:শ্চিন্তা যাবে না। এ অবস্থায় আপনিও ভ্রমণ করে মজা পাবেন না।
৪. যোগাযোগ রাখুন
যেখানেই যান না কেন, পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাহলে তারা আপনাকে নিয়ে দু:শ্চিন্তায় থাকবেন না।
৫. অগ্রিম থাকার ব্যবস্থা করুন
যেখানে যাবেন সেখানে থাকার ব্যবস্থা আগে থেকেই করুন। কোন হোটেলে থাকবেন এবং কী ধরনের কে থাকবেন তার হিসাব আগে থেকেই করুন। বিভিন্ন ভ্রমণ বিষয়ক সাইটের মাধ্যমে অগ্রিম ক ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ সেবা নিন। আগে থেকেই থাকার স্থানটা ঠিকঠাক করে ফেলুন। তাহলে আর কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় পড়বেন না।
৬. সহনীয় ব্যাকপ্যাক
আপনি যে কয়দিনের জন্য যাচ্ছেন তার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস অবশ্যই সঙ্গে নিতে হবে। তবে তা যেন বেশী ভারী হয়ে না ওঠে সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সহজে বহনযোগ্য হতে হবে আপনার ব্যাকপ্যাকটি। অপ্রয়োজনীয় জিনিসে পূর্ণ করে নেবেন না। একঘেয়ে সময় কাটানোর জন্য কোনো বই নিতে পারেন। ভ্রমণের রেকর্ড রাখার জন্য কোনো জার্নাল সঙ্গে নিন।
৭. চলাচলে গণপরিবহন
চলাফেরার জন্য ওই স্থানের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন। কিংবা অন্যদের সঙ্গে কোনো বাহন শেয়ার করুন। এতে যেমন নিরাপত্তা মিলবে, তেমনই কম খরচে ভ্রমণ করতে পারবেন। তা ছাড়া এই উপায়ে ভ্রমণের আলাদা অভিজ্ঞতাও লাভ হবে।
৮. নতুন মুখের সঙ্গে কথা বলুন
স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন। অনেক কিছু জানতে পারবেন। আপনার জ্ঞান বাড়বে। নতুন স্থান সম্পর্কেও অনেক তথ্য জানতে পারবেন। সবার সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন। তাদের সঙ্গে মিশে যান।
৯. সকাল সকাল শুরু করুন
সেখানে যাওয়ার পর বিশ্রাম নিন। পরদিন সকাল সকাল আপনার অভিযান শুরু করুন। এতে করে গোটা দিন পাবেন ভ্রমণের জন্য। সকালে নাস্তার পেছনে অলস সময় দিন। সকাল সকাল শুরু করলে সব কাজই আরাম-আয়েশের সঙ্গে সারতে পারবেন।
১০. সবার আগে নিরাপত্তা
কোন ধরনের বিপদ আসতে পারে তা বুঝতে মনের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস রাখুন। আবহাওয়া বা অন্যান্য বিপদ সম্পর্কে এমনিতেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। সবার আগে ভ্রমণে নিজের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন