আড়িয়াল বিল, সুবিশাল এক জলরাশি
আড়িয়াল বিল, সুবিশাল এক জলরাশি
ঢাকার দক্ষিণে,মুন্সিগঞ্জ জেলায় পদ্মা ও ধলেশ্বরী নদীর মাঝামাঝিতে অবস্থিত প্রায় ১৩৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের অবভূমি হলো আড়িয়াল বিল। এখানে বর্ষায় পানিতে টইটুম্বুর থাকে এবং শীতে শুকিয়ে পরিণত হয় বিস্তীর্ণ শস্যক্ষেতে। তখন যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ চোখে পড়ে শুধু। আড়িয়াল বিলে গেলেই এইরকম সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।
শীতের শুষ্ক মৌসুমে নানা রকম শীতের সবজি চাষ হয় আড়িয়াল বিলে, তবে এ বিলের বিশেষ আকর্ষণ হলো বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়া। পুরো আড়িয়াল বিল জুড়েই শীতে চাষ হয় মিষ্টি কুমড়া যা শীত শেষে পাকলে মাঠ থেকে তোলা হয়। শীতের শেষের দিকে আড়িয়াল বিলে কৃষকদের মূল ব্যস্ততা থাকে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে। আড়িয়ার বিলের মিষ্টি কুমড়োগুলো বিশালাকৃতির হয়ে থাকে, এমন কোনো কোনো মিষ্টি কুমড়া দুই মনেরও বেশি ওজনের হয়ে থাকে।
বিল থেকে নৌকাবোঝাই মিষ্টি কুমড়া নিয়ে আসা হয় গুন টেনে। এই গুন টানা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে একসময় অনেক চোখে পড়তো। বর্তমানে ইঞ্জিনের সহজলভ্যতার কারণে তা হারিয়ে গেলেও এখনো শীত কালে আড়িয়াল বিলে গুন টানা দেখা যায়। এছাড়াও তখন শুকনো আড়িয়াল বিলে খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়ায় নানান জাতের ছোট বড় পাখি।
শীতের শেষে আড়িয়াল বিলে আরও চোখে পড়ে মাছ ধরার দৃশ্য। এই বিলের মধ্যে খাল ছাড়াও রয়েছে কিছু জলাশয় যেখানে পানি কমে যাওয়ায় মাছ ধরেন স্থানীয়রা।
আড়িয়াল বিল
আড়িয়াল বিলের জায়গাটি প্রায় ১৩৬ বর্গ কিঃমিঃ এলাকার মধ্যে ১,৬৬,০০০ একর জমি যার প্রায় পুরোটাই শষ্যক্ষেত্র, মৎস ভান্ডার, জলাশয় আর জনবসতি। এখানকার এক টুকরা জমিও অনাবাদি নয়।
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর বাজার থেকে একটি সড়ক গিয়েছে শ্যামসিদ্ধি পেড়িয়ে গাদিঘাট যেই সড়ক পুরোটাই পিচঢালা পথ যা গাদিঘিটে গিয়ে শেষ এবং আরেকটু এগিয়ে কালভার্ট পেরিয়ে গেলেই সড়কের শেষ। এই গাদিঘাটের থেকেই আড়িয়াল বিলের শুরু। সেখানে আঁকাবাঁকা পথ খালের মধ্য দিয়ে বিলের দিকে গিয়েছে।
আড়িয়াল বিল কিভাবে যাবেন
আড়িয়াল ঢাকার আশে পাশে হওয়ার কারনে খুব সহজেই সকালে গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ঢাকা ফিরে আসা যায়।ঢাকার পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত বিলে ঘুরে বেড়াতে চাইলে আড়িয়াল বিলে একটি উৎকৃষ্ট স্থান বেড়ানোর জন্য। নীল আকাশ টলটলে সুবিশাল এক জলরাশি এই বিলটি যা দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।
ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাওয়াগামী যে কোনো বাসে চড়ে নামতে হবে শ্রীনগরের ভেজবাজার। সেখান থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে সোজা যেতে হবে গাদিঘাট , যেখান থেকে মূলত আড়িয়াল বিলের শুরু। সেখান থেকে ভালো একটা ট্রলার দেড় হাজার টাকায় সারা দিনের জন্য ভাড়া করে ঘুরা যায় আড়িয়াল বিল। আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার গাদিঘাটে এসে ফেরার রিকশাও পাওয়া যায় সহজেই ।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেহেতু এটি একটি বিল, বিলের পানিতে আমাদের যেকোনো ময়লা বা বর্জ ফেলা থেকে নিজেদের বিরত থাকতে হবে নাহয় জলজ প্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে এবং পানি দূষণও হবে।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন