ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় গ্যাজেট সমূহ

ভ্রমণের সময় প্রয়োজনীয় গ্যাজেট সমূহ

ঘুরতে যেতে কে না ভালোবাসে? ট্যুরকে আরামদায়ক এবং স্মরণীয় করতে আমাদের সাহায্য করে বিভিন্ন গ্যাজেট সমূহ। সে সকল গ্যাজেট সমূহ ট্যুরে আপনার সহায়ক হতে পারে, তার সংক্ষিপ্ত আলোচনাই এ আর্টিকেলের আলোচ্য বিষয়।

স্মার্টফোন

আজকাল ট্যুরে যাওয়ার জন্য অন্য কোন গ্যাজেট না হলেও স্মার্টফোন সাথে থাকা চাই। এই স্মার্টফোনেই তোলা যায় ছবি, করা যায় ভিডিও, দেখা যায় লোকেশন। আজকাল তো এমন অনেক স্মার্টফোন এসেছে যার সাহায্যে রাতেও স্পষ্ট ছবি তোলা যায়, ছবি তোলা যায় পানির নিচেও। এছাড়াও হাতে স্মার্টফোন থাকলে খুব সহজে হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে বাস, ট্রেন এমনকি প্লেনের টিকেটও কাটা সম্ভব।

হেডফোন

যাত্রা পথে একটু গান শুনলে সময় ভাল কাটে। অনেকেই যাত্রা পথে বাসে বা ট্রেনে ঘুমাতে পারেন না। সেক্ষেত্রে লাউডস্পিকারে গান শোনাও সম্ভব না। তাই যাত্রা পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হচ্ছে হেডফোন। রাস্তার পাশের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং মল গুলোতেও হেডফোন পাওয়া যায়। আজকাল তারবিহীন একধরণের হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। যাকে বলে ব্লুটুথ হেডফোন। আপনার যদি গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যাবার অভ্যাস থেকে থাকে তবে এ ধরণের হেডফোন আপনার জন্য উপকারী। মোবাইলের সাথে কানেক্ট করে হেডফোন কানে দিয়ে মোবাইল ব্যাগে রেখে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে ঘুমিয়ে যেতে পারবেন। হাত থেকে মোবাইল পরে যাওয়ার কোন চিন্তাও থাকবে না। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন দামের ব্লুটুথ হেডফোন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ১০০০-১৫০০ এর মধ্যে ভাল ব্লুটুথ হেডফোন পেয়ে যেতে পারেন।

স্পিকার

অনেকসময় প্রাইভেট কার বা মাইক্রো করে যাত্রা করার সময় পছন্দমাফিক গান শোনার জন্য স্পিকার খুব কাজে দেয়। সে ক্ষেত্রে ট্যুরের গ্যাজেট তালিকায় এটিও রাখতে পারেন। আবার হোটেল রুমে বিশ্রাম নেয়ার সময় স্পিকারে গান ছাড়তে পারেন। এছাড়া পিকনিকে গেলে বা কোথাও ঘুরতে গেলে আমরা বিভিন্ন রকম খেলা খেলে থাকি। যেমন- মিউজিক্যাল চেয়ার বা পিলোপাসিং খেলার সময় স্পিকার খুবই প্রয়োজনীয়। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন দামে স্পিকার পাওয়া যায়। আপনার পছন্দ মত কিনতে পারেন।

পাওয়ার ব্যাংক

ভ্রমণকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গটি হচ্ছে পাওয়ার ব্যাংক। বর্তমান স্মার্টফোন গুলোতে অল্পতেই চার্জ ফুরিয়ে যায়। ফলে পরতে হয় বিপাকে। মিস হয়ে যায় অনেক জরুরী কল, সুন্দর পরিবেশে ছবি তোলার সুযোগ। সে ক্ষেত্রে একটি পাওয়ার ব্যাংক সাথে থাকলে কিছুটা চিন্তামুক্ত থাকা যায়। বর্তমানে রাস্তার ফুটপাত থেকে শুরু করে শপিং মলের বড় দোকানগুলোতেও বিভিন্ন দামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যায়। তাই ঘুরতে যাওয়ার সময় পাওয়ার ব্যাংক সাথে নিতে ভুলবেন না যেন!

ক্যামেরা

ভ্রমণকালীন মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করার জন্য ক্যামেরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আজকাল ডিএসএলআর ক্যামেরার প্রচলন বেশি। এতে ছবির কোয়ালিটিও ভাল আসে। ভ্রমণের স্মৃতিগুলো যেন হারিয়ে না যায় তাই ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় সঙ্গী এটি। তবে ক্যামেরা নিলে এর সাথে অবশ্যই মেমোরি কার্ড, চার্জার এবং অতিরিক্ত ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না। বর্তমানে ১৫ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকারও ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনতে পাওয়া যায়।

গোপ্রো

আমরা যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করি এবং সে সকল মুহূর্তগুলো ক্যামেরা বন্দি করতে চাই তাদের জন্য যে গ্যাজেটটি খুবই উপকারি সেটি হচ্ছে গোপ্রো। এটি আকারে ছোট থাকায় বহন করতে কোন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয় না। সাইকেল চালানোর সময় বা সাঁতার কাটার সময় এটি মাথা বা কোমড়ের বেঁধে ভিডিও করা যায়। পানির নিচে ছবি তোলার জন্যও এটি বেশ উপকারি। গোপ্রো দিয়ে ছবি তোলা বা ভিডিও করে আপনার ভ্রমণকে আরো করবে মজাদার এবং আকর্ষণীয়।

সেলফিস্টিক

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সেলফি তোলার হুজুগ চলছে। অনেক সময় মোবাইল হাতে ধরে সেলফি তুললে পেছনের মনোরম দৃশ্য বা সাথে থাকা বন্ধুদের দেখাই যায় না। সেই ক্ষেত্রে সেলফিস্টিক খুবই উপকারি। বিশেষ করে গ্রুপ ছবি তোলার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী। সেলফিস্টিকের দাম খুব একটা বেশি নয়। ১০০ টাকা থেকে শুরু করে হাজার টাকার মধ্যে ভাল মানের সেলফিস্টিক কিনতে পাওয়া যায়। তাই ভ্রমণে আপনার সাথে সেলফিস্টিক নিতে ভুলবেন না।

বাইনোকুলার

ভ্রমণকালে দূরের দৃশ্য কাছ থেকে দেখার জন্য সঙ্গে নিতে পারেন বাইনোকুলার। এর সাহায্যে দূরের পশু-পাখি সহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও দেখা যায়। গুলিস্থান স্টেডিয়াম মার্কেটে কম মূল্যে পেয়ে যাবেন বাইনোকুলার। আধুনিক যুগে রয়েছে স্মার্ট বাইনোকুলার। দূরের জিনিস কাছ থেকে দেখা ছাড়াও এই স্মার্টবাইনোকুলারের সাহায্যে ছবি তোলা যায়, করা যায় ভিডিও। এছাড়াও রয়েছে জিপিএস এর সুবিধাও। স্মার্ট বাইনোকুলারের দাম সাধারণ বাইনোকুলারের তুলনায় বেশি।

মাল্টিপ্লাগ বা থ্রি-পিন থেকে টু-পিন কনভার্টার 

 অনেকে মিলে ঘুরতে গেলে দেখা যায় একসাথে মোবাইল, ক্যামেরা, পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেয়ার হিড়িক পরে যায়। সে ক্ষেত্রে সাথে করে একটি মাল্টিপ্লাগ নিয়ে নিতে পারেন। আবার অনেক সময় দেখা যায় হোটেলের চার্জিং পয়েন্টের সাথে আপনার চার্জারের পয়েন্ট মিলছে না। এই সকল সমস্যা বিবেচনা করে, সাথে করে থ্রি-পিন থেকে টু-পিন কনভার্টার নিয়ে যেতে পারেন। এ ধরণের কনভার্টারগুলো আকারেও খুব ছোট হয়। বহনেও সুবিধা। 

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )