তুরস্ক ভ্রমণের আগে যে বিষয় জানা প্রয়োজন

তুরস্ক ভ্রমণের আগে যে বিষয় জানা প্রয়োজন

বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, রোমাঞ্চকর উৎসব, প্রাচীন ইতিহাস ও অপূর্ব সব খাবারের সমারোহ যে কোন দেশের থেকে তুরস্ককে আলাদা করে রাখে। এসব বৈচিত্র্যময়তার জন্যই তুরস্ককে উপভোগ করার আগেই তুরস্ক সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনার জানা প্রয়োজন।

ভিসার আবেদন
অনেক দেশে ঘুরতে যেতে ভিসার প্রয়োজন হয়। কিছু দেশে পৌঁছনোর পর ভিসা দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তুরস্ক যেতে আপনাকে আগেই ভিসা নিয়ে নিতে হবে। তুরস্কে ভিসার জন্য আবেদনের পূর্বে দেখে নিন আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ কতদিন আছে। আপনি যেদিন তুরস্ক যেতে চান সেদিন থেকে অন্তত ছয় মাস পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে। অন্যথায় আপনার ভিসার অনুমোদন না পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সাধারণত ভিসা পেতে আপনাকে অন্তত দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই আবেদনটা আগে থেকে করে রাখলে সুবিধা হবে।

সহজ কিছু তুর্কী ভাষা শিখে নিন
তুরস্কের মানুষ সাধারণত খুব মিশুক। তাই কেউ যদি রাস্তার পরিচয়ে আপনাকে তার বাড়িতে তুরস্কের কফি বা চায়ের আমন্ত্রণ দিয়ে ফেলে তবে অবাক হবেন না। এর জন্য আপনাকে শুধু তুর্কী ভাষায় একটু “‌হায়, হ্যালো” বলাটা শিখতে হবে। তবে বন্ধুত্বের অসৎ ব্যবহার করা মানুষ থেকে সাবধান!

বিভিন্ন মুদ্রার কিছু নগদ টাকা সাথে রাখুন
তুরস্কের মুদ্রার নাম লিরা। সাধারণত মার্কিন ডলার এবং ইউরোকে সহজেই আপনি লিরাতে কনভার্ট করতে পারবেন। তুরস্কে মুদ্রা কনভার্ট করার ক্ষেত্রে আপনি সঠিক দর পাবেন। কিন্তু ভুলেও শুধুমাত্র আপনার এটিএম কার্ডের ভরসায় থাকবেন না। আশেপাশে অনেক এটিএম বুথ পাবেন। কিন্তু সব বুথ আপনার এটিএম কার্ড সাপোর্ট নাও করতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রার নগদ টাকা সাথে রাখুন। তাতে মানি এক্সচেঞ্জার যদি একটা নিতে নাও চায় আপনি আরেকটা কনভার্ট করতে পারবেন।

তুরস্কের অবস্থান

তুরস্কের অবস্থান সম্পর্কে একটা মজার ব্যাপার হল এর কিছু অংশ উত্তর ইউরোপ এবং কিছু অংশ পশ্চিম এশিয়াতে অবস্থিত। যে কারণে তুরস্কে আপনি বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সমন্বয় লক্ষ্য করবেন। কিছু শহর পুরদস্তর ইউরোপীয় উন্নত শহর। অন্যদিকে কিছু শহর পুরনো রীতিনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রেখেছে। আপনি তুরস্কের যে অংশেই বেড়াতে যান না কেন অবশ্যই সেখানকার রীতিনীতি বিশেষ করে পোশাক সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সম্পর্কে ধারণা নিয়ে যাবেন। অন্যথায় অনাকাংঙ্খিত বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হতে পারে।

ঐতিহ্যবাহী টয়লেট
যদিও তুরস্কের বেশির ভাগ হোটেল, জাদুঘর এবং রেস্তোরাঁয় পশ্চিমা ধাঁচের টয়লেট ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবুও কিছু কিছু জায়গায় বাংলাদেশের মত স্কোয়াট টয়লেট ছাড়া অন্য কোন অপশন আপনি পাবেন না। তাই যদি স্কোয়াট টয়লেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও অভ্যাস না থাকে তবে তুরস্ক যাবার আগে অভ্যাসটা করে ফেলুন। স্কোয়াট টয়লেট ব্যবহারের আগে এর সম্পর্কে কিছু জিনিস আপনার জেনে রাখা ভাল। স্কোয়াট টয়লেট ব্যবহারের সময় প্যান্টের পকেটে কিছু রাখবেন না। টয়লেটে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। টয়লেটের পাশেই একটা পানির ট্যাপ দেখতে পাবেন ওটা থেকেই আপনার ফ্লাশের কাজ শেষ করতে হবে। আলাদা করে ফ্লাশের ব্যবস্থা না থাকার সম্ভাবনা বেশি। কিছু খুচরা পয়সা সাথে রাখবেন কারণ তুরস্কের বেশির ভাগ পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে পয়সা দিতে হয়।



হাতে সময় থাকলে কষ্ট করে ভিজিট করে আসতে পারেন আমার অন্য ব্লগ থেকে 

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )