খৈয়াছড়া ঝর্ণা ( Khoyachora Jhorna )

খৈয়াছড়া ঝর্ণা ( Khoyachora Jhorna ) হচ্ছে আকার এবং আকৃতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝর্ণা। এই ঝর্ণাতে সর্বমোট ৯ টি ধাপ রয়েছে, এই ৯টি ধাপ ছাড়া ও আরো ছোট ছোট কিছু ধাপ রয়েছে। দেশের আর কোনো ঝর্ণাতে এখন পর্যন্ত এই ধরনের বৈশিষ্ট দেখা যায় নি বলে এই ঝর্ণাকে বাংলাদেশের ঝর্ণা রানী বলা হয়।

খৈয়াছড়া ঝর্ণার অবস্থান
খৈয়াছড়া ঝর্ণা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বড়তাকিয়া বাজারের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত।

খৈয়াছড়া ঝর্ণা যাওয়ার উপযুক্ত সময়
খৈয়াছড়া ঝর্ণাতে কম বেশী সবসময় পানির প্রবাহ থাকে। সব থেকে বর্ষাকালে বেশী পানি থাকে, তাই বর্ষাকালে যাওয়াই উত্তম। এই সময় এই ঝর্ণার প্রকৃত রুপ দেখা যায়, যদিও বর্ষাকালে কিছু বিপদ থাকে। সবচেয়ে ভালো হয় মাঝ বর্ষায় না গিয়ে বর্ষার আগে কিংবা বর্ষার পর পর যাওয়া, তখন আশেপাশের পরিবেশ মিলিয়ে এই ঝর্ণাকে আরো বেশী সুন্দর মনে হয়।

খৈয়াছড়া ঝর্ণা কিভাবে যাবেন 

রাজধানী ঢাকা থেকে এই ঝর্না দেখতে আসতে চাইলে চট্টগ্রামগামী যে কোনো বাসে উঠে মিরসরাই এর বড়তাকিয়া বাজারের কাছে খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে নেমে যাবেন। তবে সেজন্য আপনাকে আগে থেকেই বাসের সুপারভাইজারকে বলে রাখতে হবে আপনি খৈয়াছড়া ঝর্ণা দেখতে যাচ্ছেন। নচেৎ আপনাকে নির্দিষ্ট জায়গার চেয়ে আগে বা পরে নামিয়ে দিলে আপনার একটু কষ্ট হয়ে যাবে।


মিরসরাই থেকে খৈয়াছড়া
খৈয়াছড়া আইডিয়াল স্কুলের সামনে থেকে সিএনজি নিয়ে সোজা চলে যাবেন খৈয়াছড়া ঝর্ণার ঝিরির কাছে। এই ঝিরির কাছ থেকেই মুল ট্রেকিং শুরু করতে হবে। জংগলের ভেতর দিয়ে ৩০/৪০ মিনিট হেটে গেলেই ঝর্ণার দেখা পেয়ে যাবেন। এই ঝর্ণাতে যাবার পথ একটাই তাই পথ হারাবার ভয় নেই। আপনি ইচ্ছে করলে গাইড নিতে পারেন তবে অনেক পর্যটক থাকাতে গাইড এর প্রয়োজন হয় না।
ট্রেকিং এর শুরুতে বাশের লাঠি এবং এক জোড়া এংলেট নিয়ে নেবেন তাতে হাটতে সুবিধা হবে। বর্ষাকালে খৈয়াছড়া ঝর্ণা যাবার পথ অনেক পিচ্ছিল এবং দূর্গম থাকে। কাদার কারনে নরমাল জুতো পড়ে হাটা কষ্টকর হয়ে যায়। মাঝে মাঝে পাহাড়ের উপরে উঠে যেতে হয়, তখন বয়স্কদের জন্য একটু কষ্ট হয়ে যায়।

কোথায় খাবেন
খৈয়াছড়া ঝর্ণা যাবার পথে বেশ কিছু মোটামুটি মানের খাবারের হোটেল পাবেন যেখানে খাবার মোটামুটি সস্তা। তবে সেখানে বেশীরভাগ হোটেল বিকেল ৫টার সময় বন্ধ হয়ে যায় তাই ঝর্ণা থেকে বিকেলের আগে ফিরে সেখানে খেয়ে নিতে পারেন। সেখানে খেতে না চাইলে আপনি মিরসরাই ফিরে সেখানে পছন্দমত হোটেলে খেতে পারেন।

খৈয়াছড়া ঝর্ণা কোথায় থাকবেন

ঝর্ণার কাছে থাকার জন্য তেমন কোনো ব্যাবস্থা নেই বললেই চলে তাই মিরসরাই এসে থাকতে হবে অথবা সীতাকুন্ড এসে থাকতে পারেন। এখানে মোটামুটি মানের থাকার জন্য হোটেল পাওয়া যাবে তাই দেখে শুনে রাত্রি যাপনের প্রয়োজন মনে করলে দরদাম করে যে কোনো একটা হোটেলে উঠে পড়তে পারেন।

সীতাকুন্ডের দর্শনীয় স্থান সমুহ

সীতাকুন্ডে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে যেগুলো মোটামুটি একটা থেকে আরেকটার দুরুত্ব কম হওয়াতে আপনি চাইলে এক রাত দুই দিনের প্লানে পুরোটা কাভার করে আসতে পারেন। সীতাকুন্ডের দর্শনীয় স্থানগুলোর নাম হচ্ছে -
১. ইকো পার্ক
২. চন্দ্রনাথ পাহাড়
৩. কুমিরা ফেরী ঘাট
৪. গুলিয়াখালি বিচ
৫. বাশবাড়িয়া বিচ
৬. খৈয়াছড়া ঝর্ণা
৭. কমলদহ ঝর্ণা
৮. সুপ্তধারা ঝর্ণা
৯. সহস্রধারা ঝর্ণা
১০. ঝরঝরি ঝর্না
১১. নাপিত্তাছড়ি ঝর্না
 
কিছু সতর্কতা এবং টিপস
১. খাবার, খাবারে প্যাকেট, চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল এবং অন্যান্য আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলবেন না।
২. ভালো মানের গ্রিপের জুতো পরে যাবেন।
৩. ঝর্নায় যাওয়ার রাস্তা খুব দুর্গম এবং পিচ্ছিল, তাই সাবধানে পথ চলবেন।
৪. পানিতে জোক থাকতে পারে তাই সাথে লবণ রাখুন।
৫. ঝর্ণার একেবারে উপরের ধাপগুলো অনেক খাড়া এবং পাহাড় বেয়ে উঠতে হয় বিধায় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন।
৬. ঝর্ণা দেখার জন্য সকাল সকাল চলে আসুন এতে আপনি তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবেন।
৭. এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সব সময় কাজ করে না।
৮. সাথে টর্চ লাইট, ছাতা এবং পাওয়ার ব্যাংক রাখুন।
৯. আবহাওয়া খারাপ থাকলে অনেক সময় আটকে পড়া লাগে তাই অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করুন।

 
আপনার ভ্রমন নিরাপদ এবং আনন্দময় হোক।

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )