যে কারনে মানবদেহ একটি পারফেক্ট মেশিন (প্রায়)

যন্ত্রবিজ্ঞানের দৃস্টিতে মানবদেহ অনেক আধুনিক যন্ত্রের চেয়েও বেশি কর্মক্ষম এবং এফিশিয়েন্ট। মানবদেহের গঠন ও গড়ন বিস্ময় জাগায়। তাইতো মানুষকে অনেকে সৃষ্টির সেরা জীব বলেন।

তবে ভাল করে দেখলে মানব দেহের ডিজাইনে বেশ কিছু গড়মিল ও ত্রুটি লক্ষ করা যায়। সেসব ব্যপার নিয়ে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল,

সন্তান প্রসবজনিত ব্যথা-

যেকেউই জানেন যে সন্তান প্রসবের সময় নারীদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। তবে প্রানীজগতে আর কাউকে এ ধরনের কষ্ট করতে হয় কিনা তা জানা নেই। আমাদের চেনা জানা প্রানীরা সবাই সন্তান প্রসবের প্রায় সাথে সাথেই তাদের আগে মত আচরন শুরু করে। তাছাড়া সন্তান জন্মদেবার সময় মাতৃমৃত্যুর হার প্রানীজগতে মানুষের মধ্যেই অনেক বেশী। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা দেখা যায় তা হলো, মানব সন্তানের মাথার সাইজ দেখা যায় অত্যন্ত বড়। তাই বাচ্চার মাথাটা বের করা নিয়ে অনেক ঝামেলা তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীদের মত, কয়েক লাখ বছর আগে যখন মানুষের মস্তিস্কের আকার এতটা বড় ছিলো না তখন এ সমস্যা গুলো ছিলো না। কিন্তু মানুষের বিবর্তনে মস্তিষ্কের আকার যত তারাতারি বৃদ্ধি পেয়েছে, সন্তান জন্মদানের রাস্তা বিবর্তনের মাধ্যমে তত তারাতারি প্রসারিত হয়নি। একারনে সন্তান জন্মদেবার সময় মহিলাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।

চোখের কোষ-

মানুষের চোখে আছে রড আর কোন কোষ যা ক্যামেরার ফিল্মের মত কাজ করে। ক্যামেরা দেখা যায় যে আলো লেন্সের মাধ্যমে এসে ফিল্মে পড়ে আর তারপর তা ছবি হিসেবে ফুটে ওঠে। চোখে আলো প্রবেশ করলে তা এই দুই ধরনের কোষে পতিত হলে এই কোষগুলো আলোকে স্নায়ুসংকেতে রুপান্তরিত করে। তারপর তা স্নায়ুকোষের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌছে।

কিন্তু সমস্যা হলো যে এই কোষগুলোর অবস্থান স্নায়ুকোষ ও রক্তজালীকার পেছনে। এই সংবেদীকোষগুলো যদি আরেকটু সামনের দিকে থাকতো তাহলে মানুষ চোখে আরো ভাল দেখতে পেত এবং বয়সকালে চোখের পাওয়ার নিয়ে চিন্তা কম করতে হতো। উল্লেখ্য যে অক্টোপাস সহ বেশকিছু প্রানির চোখে এ সমস্যা নেই।

আক্কেলদাঁত-

আপনারা প্রায় সবাই জানেন আক্কেল দাঁতের ব্যাথা কাকে বলে। আর আক্কেল দাঁত আমাদের তেমন কোন কাজেও আসে না। বিশেষ কর গালের দিকে জায়গা কম থাকায় ডেন্টিস্টরা আক্কেলদাঁতে কাজ করার সময় বিশেষ পরিশ্রমে পড়েন।
তবে লক্ষবছর আগে যখন মানুষের চোয়াল আরো ভারি আর আরো নিচের দিকে ছিল, তখন কাঁচা মাংশ চিবাতে আক্কেল দাঁত বিশেষ সহায়ক ছিলো। মানুষ আধুনিক হবার পর কাঁচা মাংশ না খাবার কারনে এ দাঁতের ব্যবহার আর নেই, কিন্তু দাঁতটা সমস্যা হয়ে থেকেই গেছে।

এপেন্ডিক্স-

বিবর্তনের ফেলে যাওয়া আরেক নিদর্শন। এপেন্ডিক্স তৃণভোজী প্রানীদের ঘাস হজম করায় অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ অঙ্গ যা মানবদেহে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। তবে মাঝে মাঝেই এখানে খাবার জমে ইনফেকশন হয় আর তখন জরুরী ভীত্তিতে অপারেশন না করালে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

বার্ধক্যজনীত সমস্যা-

মানুষের গড় আয়ু বেশ দ্রুতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলা যায়। তিন মিলিয়ন বছর আগে মানুষের গড় আয়ু যেখানে মাত্র ৩৩ বছর ছিল সেখানে মাত্র ১০০ বছর আগেই মানুষের গড় আয় বেড়ে ৬০ এর বেশী হয়েছে। আমাদের দেহে বার্ধক্যজনীত সমস্যাগুলো দেখে বোঝা যায় যে মানুষ এখনো এত দীর্ঘজীবনের সাথা খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি।

মন্তব্যসমূহ

Popular Post

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাসমূহ

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড ( Rangamati vromon guide )

কাপ্তাই ভ্রমন ( Kaptai )

অবচেতন মন এবং আবেগ

মানসিক,স্নায়বিক,মাথাব্যাথা,মৃগিরোগ,মাদকাশক্তি ইত্যাদিতে ভোগান্তি? তাহলে পড়ুন এই পোস্ট।

জ্বিন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন (জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস) বইটি পড়ুন

পলওয়েল পার্ক ( Polwel Park )

১০০ বছর আগে ঢাকার কিছু দুর্লভ ছবি (Some rare pictures of Dhaka 100 years ago)

চন্দ্রনাথ পাহাড় ( Chandranath Hill )