পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

Bogalake, Bandarban

ছবি
Bogalake, Bandarban পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হননি এমন পর্যটক হয়ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভ্রমণপিপাসুরা নানা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই চলে যান বান্দরবানে, আর নিজেকে হারিয়ে ফেলেন পাহাড়ি সৌন্দর্যে। তবে যারা বান্দরবানের নীলাচল, মেঘলা আর নীলগিরি ভ্রমণ করেই মনে করেন বান্দরবানের সব সৌন্দর্য দেখে ফেলেছেন তাদের বলছি, বান্দরবানের আরো ভেতরে যে কত সৌন্দর্যে মোড়ানো স্থান লুকিয়ে আছে সেটা শুধু গেলেই উপলব্ধি করতে পারবেন। তেমনি একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান বগা লেক। এই বান্দরবানের এক রহস্যময় ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান হচ্ছে বগালেক।  রহস্যময় বলছি এই কারণে যে, বগালেকের উৎপত্তি নিয়ে আছে নানারকম উপকথা, যা সেখানে গেলেই শুনতে পারবেন আদিবাসীদের মুখে মুখে। প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে এখানে পাহাড়ের উপর জলরাশি সঞ্চার করে তৈরি করেছে বগালেক বা বগা কানাই হ্রদ; যা বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত। সমুদ্র সমতল হতে প্রায় ১৭০০ ফিট উপরে পাহাড় চূড়ায় ১৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই অত্যাশ্চর্য হ্রদটি। এই হ্রদটি তিনদিক থেকে পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত। বগালেকে...

Rangamati, Jurachari ( জুরাছড়ি ভ্রমণ , রাঙামাটি )

ছবি
Rangamati, Jurachari যাদের ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য , থাইল্যান্ড, বা মালদ্বীপের বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত কিংবা পাহাড় ঘেরা মনোমুগ্ধকর জলরাশি দেখার সুযোগ হয়নি তারা সেই সৌন্দর্য দেখতে পাবেন রাঙামাটির গহীনের সৌন্দর্য জুরাছড়িতে। পাহাড় তলায় জলের শরীরে বুক পর্যন্ত ডুবে থাকা জুরাছড়ির অপরূপ রূপ অনেক পর্যটকদের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে। অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ স্থানটি না দেখলে আপনার রাঙামাটি ভ্রমণ হবে অসম্পূর্ণ। রাঙামাটি সদর থেকে ৫৭ কিলোমিটার দূরে জুরাছড়ির অবস্থান। জুরাছড়ি নামের ঝর্ণা থেকে এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। এই এলাকার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হলো নৌপথ। প্রায় ২৭ হাজার লোকের বসতি এই জুরাছড়ি উপজেলায়। এদের অধিকাংশই চাকমা সম্প্রদায়ের। এ ছাড়া রয়েছে মুসলমান, হিন্দু, রাখাইন, মারমা, তংচ্যাংগা, প্যাংকো, ত্রিপুরা, কিয়াং, মরুং ও বোম সম্প্রদায়ের বসবাস। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি জুরাছড়ির সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। পাহাড় কন্যা জুরাছড়ি সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য তার রূপের পসরা সাজিয়ে বসে আছে কাপ্তাই হ্রদের কোলজুড়ে। পুরো জুড়াছড়ির অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলবে মায়াময় এক...

শামলাপুর সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার ( Shamlapur sea beach, Coxbazar )

ছবি
প্রবল বেগে বয়ে আসা সমুদ্রের ফেনিল স্রোতের তটে আছড়ে পড়া, নির্জনতায় শুধু সমুদ্রের গর্জন। বিকেলের সোনালী নরম আলোয় পুরো সৈকতটি যেন কোনো পটে আঁকা ছবি।  সৌন্দর্যের সব অনুষঙ্গ দিয়েই যেন প্রকৃতি সাজিয়েছে শামলাপুর সমুদ্র সৈকতটি। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতগুলোতে থাকে কোলাহল, মানুষের ভিড়, আর হৈ-হুল্লোড়। আপনি যদি কোলাহল মুক্ত সৈকতে নির্জনে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তবে শামলাপুর সমুদ্র সৈকত আপনার জন্য আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য। এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে অপার নির্জনতা আপনাকে ডুবিয়ে ফেলবে চিন্তার জগতে। প্রশান্তিময় পরিবেশে এক অকৃত্রিম সৌন্দর্যের দেখা মিলবে এই সমুদ্র সৈকতে। এই সৈকতটিকে অনেকে বাহারছড়া সৈকত বলেও ডেকে থাকে। সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ শহর ছেড়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে প্রায় বিশ কিলোমিটার গেলে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন শিলখালী গর্জন বন। সুউচ্চ গর্জন গাছের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া মেরিন ড্রাইভ সড়কটির ধরে আরো প্রায় দশ কিলোমিটার গেলেই নির্জন এই সমুদ্র সৈকত। বাহারছড়া ইউনিয়নে শামলাপুর বীচ এর অবস্থান। শামলাপুর সৈকতের ঝাউবনে পাবেন অপরূপ সবুজের ছোঁয়া। মাছ ধরার ট্রলার কিংবা সমুদ্রসৈকতে ...

রিছাং ঝর্ণা, খাগড়াছড়ি

ছবি
খাগড়াছড়ির বেশ কয়েকটি ঝর্ণার মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ‘রিছাং ঝর্ণা’। পাহাড়ের বুক বেয়ে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ছে ঝর্ণার জলরাশি। পাহাড়ের ঢালু গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। ২০০৩ সালে ভ্রমণ পিপাসুদের নজরে আসা রিছাং ঝর্ণা সময়ের ব্যবধানে খাগড়াছড়ির অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে। জেলা সদর থেকে আলুটিলা পেরিয়ে সামান্য পশ্চিমে মূল রাস্তা থেকে উত্তরে ঝর্ণা স্থানের দূরত্ব সাকুল্যে প্রায় ১১কিঃ মিঃ। ঝর্ণার সমগ্র যাত্রা পথটাই দারুণ রোমাঞ্চকর। যাত্রাপথে দূরের উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, বুনোঝোঁপ, নামহীন রঙ্গিন বুনো ফুলের নয়নাভিরাম অফুরন্ত সৌন্দর্য যে কাউকে এক কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যায়।ঝর্ণার কাছে গেলে এক পবিত্র স্নিগ্ধতায় দেহমন ভরে উঠে। ১০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে আছড়ে পড়ছে ঝর্ণার জলরাশি, ঢালু পাহাড় গড়িয়ে নীচে নেমে যাচ্ছে এই প্রবাহ। কাছাকাছি দুটো ঝর্ণা রয়েছে এ স্থানে, প্রতিদিন বহু সংখ্যক পর্যটক এখানে এসে ভিড় জমান এবং ঝর্ণার শীতল পানিতে গা ভিজিয়ে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হন। মারমা ভাষায় এর নাম রিছাং ঝর্ণা, ‘রি’ শব্দের অর্থ পানি আর ‘ছাং’ শব্দের অর্থ গড়িয়ে পড়া। যার অন্য নাম ...

Marine drive road, Coxbazar

ছবি
মেরিন ড্রাইভ রোড, কক্সবাজার ( Marine drive road, Coxbazar ) বর্তমানে কক্সবাজার ভ্রমনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ রোড। ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোড কক্সবাজারের কলাতলী থেকে শুরু হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। মেরিন ড্রাইভ রোডের এক দিকে রয়েছে উত্তাল সমুদ্র সৈকত আর অন্য দিকে রয়েছে সবুজের ঢাকা ছোট-বড় পাহাড়। আবার কোথাও কোথাও পাহাড়ের গা বেয়ে ঝর্ণা ধারার দেখা মিলে। মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে যেতে যেতে বিস্তৃত সাগরের সমস্ত সৌন্দর্য আহরণ ও জেলেদের সাগরে মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সেই সাথে সমুদ্র সৈকতে দেখা মিলবে টেকনাফ গর্জন ফরেস্ট খ্যাত চিরহরিৎ বন। কক্সবাজারের কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে খোলা জিপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি কিংবা অটোরিকশায় মেরিন ড্রাইভ রোড দিয়ে হিমছড়ি ও ইনানী সমুদ্র সৈকত যাওয়া যায়।  মেরিন ড্রাইভ রোড কিভাবে যাবেন  মেরিন ড্রাইভ রোডে ভ্রমণ করতে হলে আপনাকে কক্সবাজার আসতেই হবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিভিন্ন উপায়ে আসা যায়। ঢাকা থেকে সৌদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্য...

কাট্টলী সমুদ্র সৈকত, চট্টগ্রাম

ছবি
সুনীল সাগরের সৌন্দর্য দুর্নিবার আকর্ষণে টানে সকল ভ্রমণ প্রেমীদের। তাই সকল ব্যস্ততাকে পিছনে ফেলে তারা ছুটে যায় সমুদ্রের কোলে। সমুদ্রের জলে শ্রান্ত মন-প্রাণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত বলতে আমরা কক্সবাজার, পতেঙ্গা বা কুয়াকাটাকেই বুঝি। তবে এর বাহিরেও যে আরো বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। এমন একটি নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত হল চট্টগ্রামের কাট্টলী সমুদ্র সৈকত। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এই সৈকতটি এখনো অনেক পর্যটকদের অগোচরে রয়ে গেছে। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরে পাহাড়তলি থানার সাগরিকা জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পাশে এ সৈকতটির অবস্থান। এই সৈকতটির আরেকটি নাম হল জেলেপাড়া সমুদ্র সৈকত। সৈকতটির নৈসর্গিক সৌন্দর্য সহজেই বিমোহিত করে প্রকৃতি-প্রেমীদের। একদিকে সমুদ্র সৈকত আর অন্যদিকে গ্রামীণ পরিবেশ অন্য কোন সৈকতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই সৈকতটির আরেকটি নাম সাগরিকা সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম শহর থেকে টোল সড়ক ধরে সহজেই পৌঁছুতে পারবেন এখানে। যারা জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসেন তাদের জন্য এই সমুদ্র সৈকতটি একটি আদর্শ ভ্রমণ স্পট। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মৃদুমন্দ...

টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ( Teknaf Sea Beach )

ছবি
টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ( Teknaf Sea Beach ) কোলাহলহীন নিশ্চুপ সৈকতে বসে শুনতে চান সাগরের তীব্র গর্জন? তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মূর্ছনায় হয়ে যেতে চান আনমনে? যদি অপার নির্জনতায় উপভোগ করতে চান সুনীল সমুদ্রের সৌন্দর্য তবে আপনাকে যেতে হবে টেকনাফ সমুদ্র সৈকত। আপনার নির্জনে প্রশান্তিময় অবকাশ যাপনের জন্য আদর্শ ভ্রমণ গন্তব্য হতে পারে এই সমুদ্র সৈকত। ঝাউগাছের সারি, বালুর নরম বিছানা, তার সামনে বিশ্রামরত মাছ ধরার ট্রলার। আর সামনে অপরূপ বঙ্গোপসাগর। সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউ আর সৈকত জুড়ে চমৎকার নীরবতা। সবমিলিয়ে অনন্য রূপের শিল্পীর তুলিতে আঁকা এক ছবি এই টেকনাফ সৈকত। কক্সবাজার সদর থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় ৮৬ কিলোমিটার। টেকনাফ শহর ছাড়িয়ে দক্ষিণে আরো পাঁচ কিলোমিটার দূরে সবচেয়ে নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন এই সমুদ্র সৈকতটি অবস্থিত। দেশের অন্যান্য সৈকতগুলোর চেয়ে এই সৈকতটি একেবারে আলাদা। এতো বাহারি সাজের জেলে নৌকা বাংলাদেশের আর কোনো সাগর পাড়ে দেখা যায় না। অবিচ্ছেদ্য এক নির্জনতা এখানে বিরাজ করে পুরো সৈকত জুড়ে। বেশিরভাগ সৈকতে মানুষের আনাগোনা থাকে বেশি। কিন্তু এখানে এলে অপার এক নিস্তব্ধতা গ্রাস করবে আপনাকে। শুধু কানে আসবে প্রচণ্...

সুপ্তধারা ঝর্ণা- ঝর্ণা প্রেমীদের প্রেমিকা

ছবি
বর্ষাকাল ঝর্ণা প্রেমীদের জন্য আদর্শ সময়। ঝর্ণাগুলোও এইসময় পূর্ণ রূপ আর যৌবন নিয়ে হাজির হয়। এইসময় নিবিড় সজীবতা ধারণ করে প্রকৃতি। চির সবুজ গাছপালা ঘেরাও পাহাড় হতে অবিরাম ধারায় ঝরে পড়া জল আশ্চর্য ভাব জাগায় মনে। বর্ষা ব্যতীত বছরের অন্যান্য সময় প্রায় শুষ্ক থাকা একটি ঝর্ণা সুপ্তধারা। কেবল বর্ষা ঋতুতেই এটি অম্লান বদনে হাজির হয় আর মুগ্ধ করে সকলকে এর প্রাণচাঞ্চল্য রূপে। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লকের চিরসবুজ বনাঞ্চল সমৃদ্ধ সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে সুপ্তধারা ঝর্ণাটি অবস্থিত। ইকোপার্কটি চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং রেলপথের পূর্ব পাশে অবস্থিত। এই ইকো পার্কের মধ্যেই সুপ্তধারার খুব কাছে সহস্রধারা ঝর্ণা নামে আরেকটি ঝর্ণা আছে। তাই একসাথে দুইটা ঝর্ণাই দেখা হয়ে যাবে এখানে আসলে। দেশের অন্যান্য ঝর্ণাগুলো মূলত গহীন পাহাড়ে মধ্যে অবস্থিত। দীর্ঘ পথ হাঁটার এবং ট্র্যাকিং এর অভ্যাস না থাকায় সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে যায় অনেকের জন্য। তাদের জন্য বলা যায় এই ঝর্ণাটি প্রায় হাতের নাগালেই অবস্থিত। এক দেড় ঘণ্টার পাহাড়ি পথ ও ৪০০/৫০০ সিঁড়ি ...

বান্দরবানের ইতিহাস ( History of Bandarban )

ছবি
বান্দরবানের ইতিহাস ( History of Bandarban ) বান্দরবান জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের প্রচলিত রূপ কথায় আছে অত্র এলাকায় একসময় বাস করত অসংখ্য বানর । আর এই বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে পাহাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত। এক সময় অনবরত বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃ্দ্ধি পাওয়ায় বানরের দল ছড়া পাড় হয়ে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পাড় হয়। বানরের ছড়া পারাপারের এই দৃশ্য দেখতে পায় এই জনপদের মানুষ। এই সময় থেকে এই জায়গাটির পরিচিতি লাভ করে "ম্যাঅকছি ছড়া " হিসাবে । অর্থ্যাৎ মার্মা ভাষায় ম্যাঅক অর্থ বানর আর ছিঃ অর্থ বাঁধ ।  কালের প্রবাহে বাংলা ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম রুপ লাভ করে বান্দরবান হিসাবে । বর্তমানে সরকারি দলিল পত্রে বান্দরবান হিসাবে এই জেলার নাম স্থায়ী রুপ লাভ করেছে। তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবানের প্রকৃত নাম "রদ ক্যওচি ম্রো"। জেলা রূপে আবির্ভাব বৃটিশ শাসন আমলে ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জেলা ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অধীন ছিলো। ক্যাপ্টেন মাগ্রেথ ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রা...

ইনানী বীচ, কক্সবাজার ( Inani beach, Coxbazar )

ছবি
ইনানী বীচ, কক্সবাজার ( Inani beach, Coxbazar ) সকল ভ্রমণ প্রেমীদের অবকাশ যাপনের সবচেয়ে প্রিয় গন্তব্য স্থল হল সমুদ্র সৈকত। নাগরিক দৌড়-ঝাপে যখন প্রাণ ওষ্ঠাগত, তখন ছুট পেলেই সুনীল সাগরের জলে পা ভেজানোর সুযোগ কেইবা হাতছাড়া করে। সাগর পাড়ে নিবিড় প্রশান্তিতে অবকাশ যাপনের জন্য কক্সবাজারই সবার প্রথম পছন্দ। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সৌন্দর্য প্রেমীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রিয় সৈকত হল ইনানী সমুদ্র সৈকত বা ইনানী বিচ। কোরাল পাথর ঘেরা এক অপূর্ব সৈকত এই ইনানী বিচ। সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সারি সারি পাথরের মেলা। পাথরগুলো একবার সমুদ্রের জলে ডুব দেয় আবার যেন ভেসে ওঠে। কোন কোন সময়ে পাথরের উপর দাঁড়ালে মনে হবে যেন সমুদ্রের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে। সে এক অপার্থিব অনুভূতি। পাথরগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে অস্তগামী সূর্যের সৌন্দর্য কল্পনাকেও হার মানায়। গোধূলি বেলার রক্তিম আভা ও বীচের রঙ যখন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তখন চারপাশের সৌন্দর্য দেখে মনে হয় যেন মুঠো মুঠো সোনা ছড়িয়ে আছে পুরো সৈকত জুড়ে। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ও হিমছড়ি থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রবাল গঠিত সমুদ্র ইনানীর অব...

তাজিংডং - দূর্গম পাহাড়ের চূড়ায় স্বর্গের হাতছানি

ছবি
অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বৈচিত্র্যের আধার পাহাড়ীকন্যা বান্দরবান। উঁচু নিচু পথ, পাহাড়ের শরীর-জুড়ে ঘন সবুজের সমারোহ আর মেঘের লুকোচুরি খেলা বান্দরবনকে করেছে ভ্রমণ-প্রেমীদের জন্য এক স্বর্গ। বান্দরবানের পাহাড়গুলো যেমন দুর্গম তেমনি সৌন্দর্যের মায়াজালে ঘেরা। এই দুর্গম সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকে এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় ভ্রমণ পিপাসুদের। প্রকৃতি কন্যা বান্দরবানের পাহাড়শ্রেণী ট্রেকারদের জন্য এক আকর্ষণের নাম। এখানকার পাহাড়ি রোমাঞ্চকর দুর্গম পথ তাই সকল ট্রেকারদের টানে দুর্নিবার আকর্ষণে। এ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা তাই সুযোগ পেলেই ছুটে আসে বান্দরবানের পানে। ট্রেকার আর এ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের অন্যতম এক আকর্ষণের নাম হল তাজিংডং পর্বত। বাংলাদেশের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং এ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য দারুণ এক গন্তব্য। তাজিংডং বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত। রুমা উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে এই পর্বতের অবস্থান। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে তাজিংডং। স্থানীয় ভাষায় তাজিং অর্থ বিশাল এবং ডং অর্থ পাহাড় একত্রে যার অর্থ দাড়ায় বিশাল পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৩০০ ফুট উঁচুতে অবস্থি...

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা, রাঙ্গামাটি

ছবি
বর্ষা আসলে ঝর্ণাগুলো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠে। সেই সাথে বাড়তে থাকতে পর্যটকদের আনাগোনা। এডভেঞ্চার প্রিয় আর ট্র্যাকিং করতে যারা ভালোবাসেন তাদের কাছে অবশ্যই আদর্শ জায়গা পাহাড় আর পাহাড়ের গহীনে অবস্থিত এইসব বুনো জলপ্রপাত। দূর্গম পাহাড়ি পথে ট্র্যাকিং, ঝিরি পথ ফেরিয়ে জনহীন বুনো অরণ্য আর প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্য সব কিছুর দেখা পেতে চাইলে  ছুটিতে বেরিয়ে পড়ুন রাঙামাটির মুপ্পোছড়া ঝর্ণায়।  রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটা নামক জায়গায় মুপ্পোছড়া ঝর্ণাটি অবস্থিত। একটি ঝরা স্বত্বেও এর পানির স্রোত এতোটা ব্যাপ্তি নিয়ে নিচে ছুটে আসে যে, প্রস্থের দিক থেকে এটি বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় ঝর্ণা। এই বিলাইছড়ির উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় এর সাথে সরাসরি কোন স্থল যোগাযোগ নেই। কেবল মাত্র নৌ পথেই এখানে আসতে হবে। ছোট বড় পাহাড়, ঝর্ণা আর সবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা বিলাইছড়ি। এখানকার সবচেয়ে বড় ঝর্ণাটি হচ্ছে এই মুপ্পোছড়া ঝর্ণা।  বাঙ্গালকাটা থেকে শুরু হয় এই ঝর্ণায় যাবার মূল ট্র্যাকিং।  এখানে দেখতে পাবেন পাহাড়ি পল্লী ও জন জীবন। তারপর ঝিরিপথ ধরে এগুতে থাকলে ছোট বড় আরো কিছু জলপ্রপাত...

বাওয়াছড়া লেক, মিরাসরাই ( Bawachora Lake )

ছবি
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার চট্টগ্রামের মিরাসরাই উপজেলা। যেখানে গিরি-নদীর মিলনস্থলে ছায়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে নীলাকাশ। ঠিক যেন শিল্পীর কল্পনার তুলতে আঁকা নিখুঁত কোনো ছবি। মিরাসরাইয়ের রূপের পসরার অন্যতম এক অনুষঙ্গ হল বাওয়াছড়া লেক। ঝর্ণার পানি গড়িয়ে পড়ার কলকল ধ্বনি, পাহাড়িয়া সবুজ গাছের সমারোহে অতিথি পাখিদের কলতান। এমন পরিবেশে কার না মন জুড়াবে। যেকোন পর্যটক মুগ্ধ হবেন বাওয়াছড়া দেখে। সে যেন সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। অনুপম নৈসর্গিক দৃশ্য। দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড়। সাঁ সাঁ শব্দে উঁচু পাহাড় থেকে অবিরাম শীতল পানি গড়িয়ে পড়ছে লেকে। মেঘের মতো উড়ে আসা শুভ্র এ পানি আলতো করে ছুঁয়ে দেখলেই এর শীতল পরশে মুহূর্তে ক্লান্তি সব ভুলে যাবেন। অবিরাম ঝরে পড়া পাহাড়ের এই স্রোতধারা যে কারো মনে নাড়া দেবে। মন চাইবে একটু স্পর্শ করে যাই এই শীতল প্রবাহ। মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ছোটকমলদহ বাজারের দক্ষিণ পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেড় কিলোমিটার পূর্বে বাওয়াছড়া লেকটির অবস্থান। বাওয়াছড়া লেকটি মিরসরাই এর ওয়াহেদপুর গ্রামের বারমাসি ছড়ার মুখে অবস্থিত বলে লেকটির নামকরণ করা হয়েছে বাওয়াছড়া লে...

রাইখং লেক ( Raikhong Lake ), প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে সৃষ্ট আগ্নেয়গিরির লাভামুখ

ছবি
রাইখং লেক ( Raikhong Lake ) বর্ষায় পাহাড়ি প্রকৃতির রূপ খোলে পাখির ডানার রূপের মত। নীল আকাশের নিচে সবুজ ডানাগুলো মেলে ধরে তারা যেন আনন্দে মেতে উঠে। রূপসী কন্যা বান্দরবান তাই বর্ষায় সাজে নবরূপে। এখানকার পাহাড়, হ্রদ, ঝর্ণার সৌন্দর্য যেন বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করে। আর বান্দরবানের এই সৌন্দর্যের অন্যতম এক অনুষঙ্গ হলো রাইখং লেক।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর রহস্যময়তায় ঘেরা এই লেকটিকে সারাদেশের পর্যটকদের তীর্থস্থান বলা চলে। এই বর্ষায় হাতে সময় থাকলে আপনিও দিন- ক্ষণ ঠিক করে বেরিয়ে পড়ুন রাইখং এর উদ্দেশ্যে। রাইখং লেকটি রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলাধীন ফারুয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত বড়থলি ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই গভীর প্রাকৃতিক হ্রদটি সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এবং আয়তনে প্রায় ৩০ একর। এই লেকের পাড়ে বহু বছর ধরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী বসবাস করে আসছে। এই হ্রদ নিয়ে আছে নানা কল্পকথা। এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের মনের বাসনা পূর্ণ হওয়ার আশায় নানা পূজা-অর্চনা করে থাকেন। ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, এটি প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে সৃষ্ট আগ্নেয়গিরির লাভামুখ। রাইখং লেকের পূর্বতীরে এবং পশ্চিমতীরে দুটি গ্রাম দেখতে পাবেন য...

জব্বারের বলীখেলা, চট্টগ্রামের শতবর্ষের ঐতিহ্য

ছবি
কুস্তি প্রতিযোগিতা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলী খেলা বলা হয়। ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের জমিদার আব্দুল জব্বার সওদাগর এক বিশেষ কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। তার নামানুসারে এই প্রতিযোগিতার নাম হয় 'জব্বারের বলীখেলা'। ১০০ বছর পেরিয়ে এই বলীখেলা এখন বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি বিশেষ অঙ্গ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে, প্রতিবছর যেন সারাদেশের মানুষ এই বলীখেলা উপভোগ করেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এই বলীখেলা পরিচিত। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ এই বলীখেলার আয়োজন করা হয়। এই বলীখেলা নিয়ে সারাবছর চলে প্রস্তুতি, চলে বিশেষ অনুশীলন। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, বাশকানিয়া, পটিয়া, কক্সবাজারের রামু, টেকনাফ, চকরিয়া সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা থেকে বলীখেলায় অংশগ্রহন করতে আসে প্রতিযোগীরা। বর্তমানেও প্রতি বছর ২ শতাধিক কুস্তিগীরদের মেলা বসে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে। জব্বারের বলীখেলার পাশাপাশি এখানে বসে পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বৈশাখী মেলা। তাই এটি বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া একটি বিশেষ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। বলীখেলা ইতিহাস নিয়ে বিশেষ লেখা প্রকাশ করে বিবিসি বাং...

ভাটিয়ারী লেক ( Vatiyari Lake )

ছবি
অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক উপাখ্যান হলো চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। প্রকৃতি যেন তার সৌন্দর্যের ডালির সবকিছুই ঢেলে দিয়েছে সীতাকুণ্ডে। এই চমৎকার পার্বত্য এলাকার সর্বত্রই  ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সৌন্দর্যমন্ডিত অসংখ্য জায়গা। তার মাঝে ভাটিয়ারী লেক অপূর্ব এক জলাভূমি। ভাটিয়ারী পাহাড়ের মাঝে চমৎকার এই লেকটির কথা অনেকেই জানেন না।  চট্টগ্রাম ভ্রমণে গেলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে ভাটিয়ারী লেকে। চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে এই লেকটি অবস্থিত।  ভাটিয়ারীর পাহাড়ের অসাধারণ এক নৈসর্গিক লেক এই ভাটিয়ারী লেক। ভাটিয়ারী গলফ ক্লাব সংলগ্ন এই লেকটি সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি। সেনা বাহিনীর এলাকা হওয়ায় এলাকাটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, ভালোমানের রাস্তাঘাট আর নিরাপত্তার কোন অভাব নেই এখানে।  স্ফটিক স্বচ্ছ লেকের পানিতে পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন ইচ্ছেমতো। ঠিক যেন একটুকরো স্বর্গ চট্টগ্রামের মাঝে। ভাটিয়ারী বাসষ্টেন্ড থেকে দুই কিলোমিটার উত্তরে সমতল থেকে অনেক ওপরে এ লেকের অবস্থান। পাহাড়ের পাদদেশে জমে থাকা পানি থেকেই এখানে লেকের উৎপত্তি হয়েছে।  লেকটি অনেকটা সাপের লেজ...

সাকাহাফং পর্বত ( Sakahafong Mountain ), বান্দরবান

ছবি
সাকাহাফং পর্বত ( Sakahafong Mountain ) পাহাড়ের ধারে, দিগন্তের কাছে ছুটে যেতে মন চাইলেই ভ্রমণ পিপাসুরা চলে যায় বান্দরবানের কোলে। প্রকৃতি তার আপন হস্তে বান্দরবানকে গড়ে তুলেছে , সাজিয়েছে আপন মহিমায়। এই বান্দরবানেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ পর্বত শৃঙ্গ সাকাহাফং। হ্যাঁ,কেওক্রাডং বা তাজিংডং নয়, এটিই বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।  এডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে চাইলে এই পর্বতে ট্র্যাকিং করে চূড়ায় পৌঁছে আস্বাদন করতে পারবেন অপার্থিব পাহাড়ি সৌন্দর্য। সাকাহাফং পর্বত মোদক তুয়াং বা মদক তং নামেও পরিচিত। স্থানীয় অধিবাসীরা একে বর্ডার হুম নামে ডাকে। ইউএস টপোগ্রাফি ম্যাপ, রাশিয়ান টপোগ্রাফি ম্যাপ, গুগল ম্যাপ, গুগল আর্থসহ বিভিন্ন অভিযাত্রীদের নেওয়া জিপিএস রিডিংয়ের মাধ্যমে জানা গেছে এখন সাকাহাফং- ই বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। সাকাহাফং এর চূড়ায় আপনাকে ট্র্যাকিং করে পৌঁছাতে হবে। থানচি বাজার থেকেই আপনার যাত্রা শুরু হবে। পাহাড় ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই এখানে। কেবল অতিক্রম করতে হবে দানবের মত এক এক পাহাড়। এমন মনুষ্য বসতিহীন পথে আপনার সঙ্গী হবে পাহাড়ের সাদা মেঘ, হঠাৎ হঠাৎ বৃষ...

জিংসিয়াম সাইতার : বান্দরবানের রোমাঞ্চকর ঝরনা

ছবি
ট্রেকিং প্রিয়দের স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত বান্দরবানের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্যময়তা। এই বৈচিত্র্যময়তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন ঝরনা এখানে আগত পর্যটকদের তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দিয়ে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। তেমনি এক সুললিত ঝরনাধারা জিংসিয়াম সাইতার। বম ভাষা থেকে আগত শব্দ সাইতার মানে ঝরনা। বর্তমানের রুমানা পাড়ার আগের নাম ছিল সানকূপ পাড়া। রুমা খালের পাড়ে এই পাড়ায় বম সম্প্রদায়ের মানুষেরা বসবাস করত। এই পাড়ারই জিংসিয়াম নামে এক ষোল বছরের বম বালিকার অকাল মৃত্যুর সাথে জড়িয়ে আছে জিংসিয়াম সাইতারের নাম। জুম থেকে শাকসবজি আনার পথে সে চিরকালের জন্য হারিয়ে গিয়েছিল এই সাইতারে। এই সাইতারের পানি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বম সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনযাত্রায় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে বহু আগে থেকে। বান্দরবানের রুমা থানার রুমানা পাড়ার পাশে অবস্থিত তিন ধাপের অনিন্দ্য সুন্দর এই ঝরনা বেশ আকর্ষণীয় এ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় তরুণদের কাছে। এই তিন ধাপেই রয়েছে তিনটি বিশাল ঝরনা। এরমধ্যে পানির তীব্রতার কারণে প্রথম ধাপে যাওয়াটাই সবচেয়ে কঠিন। জিংসিয়াম সাইতারের তিনিটি ঝরনা, রুমানা পাড়ার একটি ঝরনা সর্বমোট চারটা চাইলে একইসঙ্গে ...

বান্দরবন আলীর সুড়ঙ্গ, আলীকদম

ছবি
বান্দরবন আলীর সুড়ঙ্গ, আলীকদম আলোহক্যডং থেকে আলীকদম নামটির জন্ম। যার অর্থ পাহাড় আর নদীর মধ্যবর্তী স্থান। বান্দরবানের রাজা বোমাং সার্কেল চিফ এর নথিপত্রে ও পাকিস্তান আমলের মানচিত্রে আলোহক্যডং নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো মানচিত্রেও (Ensea Det Bengalla) পর্তুগীজ পণ্ডিত জোয়াও জে বারোজ (Jao De Barros) আলোহক্যডং নামটি ব্যবহার করেছেন। আরকানি ভাষায় অনেক পাহাড় ও জায়গার নামে ডং, থং বা দং উপসর্গ জুড়ে আছে। সম্ভবত: ডং মানেই পাহাড়। তাই ধারণা করা হয়, তাজিংডং ও কেউক্রাডং পাহাড়ের মতোই আলোহক্যডং একটি পাহাড়ের নাম, যা কালক্রমে আলীকদম নাম নিয়েছে। অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙামাটির প্রথম জেলা প্রশাসক ক্যাপ্টেন টিএইচ লুইন এর মতে, ALLEY KINGDOM থেকে ALIKADAM নাম হয়েছে। তার মতে, ALLEY অর্থ দমন, আর KINGDOM অর্থ রাজ্য। বাংলায় মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এখানে ক্ষুদ্র এক রাজ্য শক্তিকে করায়ত্ব বা দমন করেন। তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পাননি আমলে এ অঞ্চলের নাম হয় ALLEYKINGDOM বা দমন করা রাজ্য। যা পরবর্তীতে আলীকদম নামে টিকে থাকে। নবম শতাব্দী থেকে আরাকানি শাসনে থাকা আলীকদম পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে ব...

দেশের প্রথম এনাটমি মিউজিয়াম চট্টগ্রামে

ছবি
চারপাশে নানা রকম ছোট বড় কঙ্কাল।  মাথার উপর থেকে যেনো বিশাল কোন এক প্রাণীর কঙ্কাল যেনো মাথা ছুঁয়ে যাচ্ছে। ভূতুরে এক আবহ যেনো। এমন কঙ্কালের সমাবেশ দেখতে যেতে হবে চট্টগ্রামের খুলশিতে। চট্টগ্রামের খুলশিতে অবস্থিত ভেটেনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগে গড়ে তোলা দেশের প্রথম এনাটমি মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি’র উচ্চ শিক্ষা এবং মানোন্নয়ন উপ-প্রকল্পের আওতায় এনাটমি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের ব্যবস্থাপনায় নির্মিত। প্রাণীদেহ বা এনাটমি নিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য এটি দারুণ একটি দর্শনীয় স্থান এটি। স্কুল কলেজ পড়ুয়া বাচ্চাদের ও নিয়ে যেতে পারেন এখানে। যা তাদেরকে প্রাণীদেহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেবে। প্রাণীদেহের বিভিন্ন  অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, তন্ত্রের অবস্থা গঠন, বৈশিষ্ট্য ও কাজ সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দানই এই জাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামে অবস্থিত এই এনাটমি মিউজিয়ামটিতে রয়েছে ৬০ টি কঙ্কাল, বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ ৫০০ টি এবং ২০০০ টি হাড়। এখানকার দেয়ালে দেয়ালে শোভিত আছে প্রাণীদেহের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দারুণ উপস্থা...

তিন্দু ( Tindu ) , বাংলার ভূ-স্বর্গ

ছবি
মেঘের মধ্য দিয়ে নৌকা নিয়ে ভেসে যাওয়ার দৃশ্য কল্পনা করলে তা কেবল স্বপ্নই মনে হয়। কিন্তু বাস্তবেই এই স্বর্গীয় সৌন্দর্য আপনার চোখে ধরা দেবে বাংলাদেশেই। শুনতে অসম্ভব মনে হলেও এই অপার্থিব  অভিজ্ঞতা আপনি পাবেন তিন্দু ভ্রমণে। তিন্দুকে বলা হয় বাংলার ভূ-স্বর্গ। তিন্দুতে গেলে আপনার মনে হবে পৃথিবীতে এমন ঘুম-ঘুম সুন্দর জায়গা আর একটিও নেই। তিন্দু বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। এডভেঞ্চার প্রেমী পর্যটকদের কাছে অঞ্চলটি তার ভিন্ন মাত্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বেশ পরিচিত। আর তাই আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে দেশের ভিতরেই এই অনবদ্য এডভেঞ্চার এর সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করবেন না। তিন্দুর অপার সৌন্দর্যের বর্ণনা আসলে লিখে প্রকাশ করার মত না। আকাশ, কুয়াশা, মেঘ, নদী, পাথর, পাহাড়, ঝর্ণা, বন, নীল-সবুজ পানি ,পাহাড়িদের জীবন আর রহস্য-রোমাঞ্চ-ভয় সবকিছুর এক অসাধারণ মেলবন্ধন এই তিন্দু। মেঘ-কুয়াশার দেশ তিন্দুর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখানে বর্ষাকালে নৌকায় চড়ে মেঘের ওপরে যাওয়া যায়। সাদাটে মেঘের ভিতর দিয়ে কিছুক্ষণ চললেই দেখবেন আপনার মাথা ভিজে গেছে। মেঘের ভিতর নৌকা নিয়ে ভেসে চলার অনুভূতি...